শেখ হাসিনার রেকর্ড

  • আপডেট টাইম : ডিসেম্বর ২২ ২০১৯, ০৪:১৫
  • 41 বার পঠিত
শেখ হাসিনার রেকর্ড

টানা নবমবারের মতো আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত হলেন বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা। বাংলাদেশের কোনো রাজনৈতিক দলের প্রধান হিসাবে সবচেয়ে বেশি সময় দায়িত্ব পালনের রেকর্ডও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার। গত ৩৮ বছর ধরে মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্ব দেওয়া দলটির শীর্ষ পদে আছেন তিনি।
১৯৮১ সালের ফেব্রুয়ারিতে দলের ত্রয়োদশ সম্মেলন থেকে আওয়ামী লীগ সভাপতির দায়িত্ব পালন করে আসছেন তিনি। তার নেতৃত্বেই আওয়ামী লীগ চার বার রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় বসেছে। এর আগে বেশ কয়েকবার দলীয় অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর পদ ছাড়ার ইচ্ছার কথা জানিয়েছিলেন শেখ হাসিনা। তবে ‘বিকল্প নেই’ বলে গতকাল একবিংশতম সম্মেলনেও তাকেই সর্বসম্মতিক্রমে সভাপতি নির্বাচিত করা হয়। খবর বিডিনিউজের।
১৯৮১ সালের ১৩ থেকে ১৫ ফেব্রুয়ারির সম্মেলনে শেখ হাসিনার অনুপস্থিতিতেই তাকে আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত করা হয়। এরপর ১৯৮৭ সালের জানুয়ারিতে চতুর্দশ, ১৯৯২ সালের সেপ্টেম্বর পঞ্চদশ, ১৯৯৭ সালের মে মাসে ষোড়শ, ২০০২ সালের ডিসেম্বরে সপ্তদশ, ২০০৯ সালের জুলাইয়ে অষ্টাদশ, ২০১২ সালের ডিসেম্বর ঊনবিংশ এবং ২০১৬ সালে বিংশতম সম্মেলনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত হন হাসিনা।
শোক নিয়ে ফেরা বর্ণময় জীবন
শেখ হাসিনার জন্ম ১৯৪৭ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া গ্রামে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং বেগম ফজিলাতুন্নেসার পাঁচ সন্তানের মধ্যে সবার বড় তিনি। ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হাসিনা ১৯৭৩ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএ পাশ করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সদস্য ও রোকেয়া হল শাখার সাধারণ সম্পাদক ছিলেন তিনি।
১৯৬৮ সালে পরমাণু বিজ্ঞানী এম এ ওয়াজেদ মিয়ার সঙ্গে শেখ হাসিনার বিয়ে হয়। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের বঙ্গবন্ধুকে যখন সপরিবারে হত্যা করা হয়, সে সময় বিদেশে থাকায় প্রাণে বেঁচে যান দুই বোন হাসিনা ও রেহানা। পরের ছয় বছর লন্ডন ও দিল্লিতে তাদের নির্বাসিত জীবন কাটে।
১৯৮১ সালের ১৭ মে দেশে ফিরে আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্ব নেন শেখ হাসিনা। পাঁচ বছরের মাথায় সামরিক শাসক এইচ এম এরশাদের সময়ে সাংসদ নির্বাচিত হয়ে বসেন বিরোধী দলীয় নেতার আসনে। তার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ ১৯৯০ সালে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের সঙ্গে মিলে একনায়ক এরশাদ সরকারের পতন ঘটায়। ১৯৯১ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নির্বাচনে হেরে গিয়ে আবার বিরোধী দল হয়।
১৯৯৬ সালের ১২ জুন অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়ে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সরকার গঠন করে আওয়ামী লীগ। তার সেই সরকারের অন্যতম সাফল্য হিসেবে পার্বত্য শান্তি চুক্তি ও প্রতিবেশী ভারতের সঙ্গে গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তির কথা বলা হয়। ২০০১ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে হারিয়ে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার গঠন করলে তৃতীয়বারের মতো বিরোধী দলীয় নেত্রী হন শেখ হাসিনা। ওই সরকারের সময় ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা চালিয়ে তাকে হত্যার চেষ্টা করা হয়। প্রাণে বেঁচে গেলেও তার শ্রবণশক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
২০০৭ সালের জানুয়ারিতে সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতা নেয়ার পর আরও অনেক রাজনীতিবিদের মতো শেখ হাসিনাও গ্রেপ্তার হন। দুই বছরের মাথায় ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বরের নবম সংসদ নির্বাচনে বিপুল ভোটে জয়ী হয়ে ক্ষমতায় আসে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট। দ্বিতীয়বারের মতো দেশের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন শেখ হাসিনা।
বিএনপি ও তাদের শরিকদের বর্জনের মধ্যে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি দশম সংসদ নির্বাচনের ভোট হয়, তাতে ২৩১টি আসনে জয়ী হয়ে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায় আওয়ামী লীগ। সেই সরকারের মেয়াদ শেষে গত ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিবন্ধিত সব দলই অংশ নেয়। ভোটের ফলাফলে ২৯৮ আসনের মধ্যে ২৫৭টিতে জয় পায় আওয়ামী লীগ।
প্রধানমন্ত্রী হিসাবে রেকর্ড চতুর্থ মেয়াদ
বিশ্বের নারী নেত্রীদের মধ্যে যারা সবচেয়ে বেশি দিন সরকারপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন, তাদের কাতারে শেখ হাসিনার অবস্থান মেয়াদের দিক দিয়ে তৃতীয়। শ্রীলঙ্কার প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী সিরিমাভো বন্দরনায়েকে আধুনিক বিশ্বের প্রথম নারী সরকারপ্রধান ছিলেন। শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তিনি তিন দফায় ১৭ বছর ২০৮ দিন দায়িত্ব পালন করেন।
দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা ইন্দিরা গান্ধী ভারতের প্রথম এবং এখন পর্যন্ত একমাত্র নারী প্রধানমন্ত্রী। ঘাতকের হাতে নিহত হওয়ার আগ পর্যন্ত দুই দফায় মোট ১৬ বছর ১৫ দিন তিনি ভারত সরকারের নেতৃত্ব দিয়েছেন। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শেখ হাসিনা তিন দফায় ১৫ বছর দায়িত্ব পালনের পর বর্তমানে চতুর্থ মেয়াদে আরো পাঁচ বছরের জন্য সরকারে আছেন। এই মেয়াদ পুরো হলে সবাইকে ছাড়িয়ে যাবেন তিনি।
ক্যারিবিয়ার দেশগুলোর মধ্যে প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হওয়া ডোমিনিকা প্রজাতন্ত্রের ইউজিনিয়া চার্লস ক্ষমতায় ছিলেন ১৪ বছর ৩২৮ দিন। ২০০৫ সাল থেকে একটানা ১৪ বছর জার্মানির ক্ষমতায় আছেন চ্যান্সেলর আঙ্গেলা মের্কেল। ২০২১ সালে নির্বাচনের পর অবসরে যাওয়ার ইচ্ছার কথা জানিয়ে রেখেছেন তিনি।
আফ্রিকার দেশ লাইবেরিয়ার প্রেসিডেন্ট পদে একটানা ১২ বছর ৬ দিন দায়িত্ব পালনের পর এলেন জনসন সারলিফ ২০১৮ সালের জানুয়ারিতে ক্ষমতা ছাড়েন। আধুনিক গণতান্ত্রিক বিশ্বের নারী রাষ্ট্রনেতাদের মধ্যে এই ছয়জনই একযুগের বেশি সময় সরকারের নেতৃত্ব দিয়েছেন।

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর







ফেসবুক কর্নার

শিরোনাম
সাংবাদিক ফাহিম ফিরোজের পিতার মৃত্যুশ্রীপুরে নদীভাঙন অর্ধেকে কমে এসেছে: পানিসম্পকলাপাড়ায় কলেজ শিক্ষার্থীর আত্মহত্যাগলাচিপায় বিভিন্ন পূজা মন্ডপে প্রশাসনের মাস্গলাচিপায় কেন্দ্রীয় যুবলীগ নেতার আগমনে মানুষউজিরপুরে বিএনপি নেতা আ: হক বালী আর নেই জানাজাপটুয়াখালীতে স্পিডবোট ডুবি, ৫ মরদেহ উদ্ধারঝালকাঠিতে বিশ্ব পোলিও দিবস পালিতভোলায় পরকীয়ার জেড়ে স্ত্রীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধারমনপুরায় ছাগলে ধান খাওয়াকে নিয়ে দুই গ্রুপের সতবারক খাওয়ার পর ২১ জন অসুস্থব্যারিস্টার রফিক-উল হক আর নেইডাক্তার-আয়াদের কমিশন দেবেন না- সিটি মেয়র সাদিত্রাণের চাল আত্মসাৎ: দুমকিতে ইউপি চেয়ারম্যানসব মোবাইল ব্যাংকিং-এ আন্তলেনদেন
%d bloggers like this: