মমতা ক্লি‌নি‌কে চি‌কিৎসক হত্যা/ লিফট নি‌য়ে গোলক ধাধা

  • আপডেট টাইম : এপ্রিল ২৯ ২০২০, ১৭:১০
  • 338 বার পঠিত
মমতা ক্লি‌নি‌কে চি‌কিৎসক হত্যা/ লিফট নি‌য়ে গোলক ধাধা

 

জিয়া শাহীন \ চিকিৎসক এম এ আজাদের মৃত্যু রহস্য আপাতত আটকা পড়েছে লিফটের মধ্যে। একজন স্বাস্থ্যবান মানুষ কিভাভে লিফটের নীচে পড়ে যেতে পারে তা নিয়ে বুধবারও ব্যাপক তদন্ত হয়েছে। র‌্যাব, পুলিশের পৃথক টিমি দিনভর লিফট নিয়েই তদন্ত করেছেন।

আজ দুটি তদন্ত টিম একসাথে মমতা স্পেসালাইজড হসপিটালে যান। তারা বরংবার লিফট পরীক্ষা করেন। তিন তলায় অপারেশন থিয়েটারের সামনে লিফটের দরজায় রক্তের দাগ পাওয়া গেছে। পা দিয়ে দরজার উপর আঘাত করার চিহ্নও রয়েছে। দরজায় যদি রক্তের দাগ থাকে তবে যিনি লিফটে উঠতে চেয়েছেন, তিনি আগে থেকেই আহত ছিলেন। আবার ধরে নেয়া যাক লিফট দরজার অর্ধেকে এসে থেমে ছিল। ডাক্তার আজাদ দরজা খুলে লিফট দেখতে না পেয়ে পড়ে যান। সেটিও তদন্ত টিমের কাছে খাপছাড়া লাগছে। যদি লিফট দরজার মাঝে থেমে থাকে,তবে ভুল করে উঠতে গেলে তার মাথায় আঘাত পাওয়ার কথা। অথবা হাতের কবজিতে। কিন্ত তার মাথায় আঘাত ছিল না। হাতের সোল্ডার ভাঙ্গা ছিল। তদন্তকারী দল লিফটের মুল রহস্য জানতে লিফট কোম্পানীর লোক বরিশালে আনার বিষয়টি খতিয়ে দেখছেন। এ ছাড়াও গতকাল ব্যাপক জিহ্ঘাসাবাদ করা হয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও কর্মচারীদের।

একটি গুঞ্জন রটেছে  ডাঃ আজাদ দুই মাস যাবৎ হাসপাতালে ছিলেন। ৮ম তলায় থাকতেন। তার কাছে এই দুই মাসে প্রচুর টাকা ছিল রোগি দেখার ফিস ও অপারেশন বাবদ। হাসপাতলের কর্ণধার ডাঃ জহিরুল হক মানিক তা নাকচ করে বলেছেন, তার রোগির সংখ্যা ছিল নিতান্তই কম। আর দুই মাসে ২টি অপারেশনও করেননি। তাই তার কাছে অনেক টাকা থাকার বিষয়টি ঠিক নয়। এখনও হাসপাতাল কর্তপক্ষ দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন এটি দুর্ঘটনা ছাড়া কিছু নয়। তবে তদন্তকারী টিমগুলো এটি হত্যাকান্ড ধরে নিয়েই তদন্ত করে যাচ্ছেন। এছাড়া এম এ আজাদকে (৪৫) পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে বলে মনে করছেন তাঁর পরিবারের সদস্যরা। একজন সদস্য জানান, যদি আহত হয়ে তিন তলা থেকে তিন নিচে পড়ে যান, তাহলে তিনি চিৎকার করার কথা। হাসপাতালের লোকজন নাকি তাকে সন্ধা থেকেই খুজছে। লিফট তার চেম্বারের কাছেই। তার আর্তনাদ কারো কানে পৌছুলো না এটিই রহস্যজনক। রহস্যজনক ঘটনা হলো অত্যাধুনিক ঐ হাসপাতালে কোন সিসি ক্যামেরা ছিল না। ছিল না কোন লিফটম্যানও।

এদিকে মঙ্গলবার রাতে বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানায় পরিবারের পক্ষ থেকে অজ্ঞাত আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। মঙ্গলবার রাতে মামলা হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বরিশাল মহানগর পুলিশের সহকারী কমিশনার মো. রাসেল। তিনি বলেন, নিহত এম এ আজাদের ছোট ভাই চিকিৎসক শাহরিয়ার উচ্ছ্বাস মামলাটি করেন। তবে মামলায় আসামি হিসেবে কারও নাম উল্লেখ করা হয়নি। এই মৃত্যুর রহস্য উদ্ঘাটনে পুলিশের একাধিক দল কাজ করছে। কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তবে এদের বাইরও ৩/৪জনকে নজরদারীতে রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে।

সোমবার নিখোঁজ হওয়ার পর মঙ্গলবার সকালে নগরের কালীবাড়ি রোডের বেসরকারি মমতা স্পেশালাইজড হাসপাতালের লিফটের নিচ থেকে চিকিৎসক এমএ আজাদের লাশ উদ্ধার করা হয়। এ সময় তার ডান পা ভাঙ্গা ছিল। পিটে আঢ়াতের দাগ ছিল, দুই হাতের সোল্ডরও ভাঙ্গা ছিল। লিফটের নীচে লাশটি পাওয়ায় রহস্য ঘনিভ‚ত হয়।

এদিকে বিকেলে ডা. সজলের ময়নাতদন্ত শেষে শেবাচিম মর্গের অদুরে মসজিদ সম্মুখে তার জানাজার নামাজে শেবাচিম ও মমতা ক্লিনিকের চিকিৎসক সহকর্মী থেকে কর্মচারীরা অংশ নেন। সন্ধ্যার পরে তার লাশ অ্যাম্বুলেন্স যোগে ঢাকার কেরানীগঞ্জের উদ্দেশে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। সেখানে তার সমাধিস্থ করার কথা। নেছারাবাদের আদি বাসিন্দা হলেও স্বাধীনতা উত্তর ডা. সজলের পিতাপ্রায়ত আব্দুল হালিম শিক্ষা কর্মকর্তা হিসেবে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলায় কর্মরত থাকা অবস্থায় কেরানীগঞ্জে স্থায়ীভাবে বসত গড়ে তোলেন। সেখানেই রয়েছে নিহতের স্ত্রী কহিনুর বেগম ও বড় কণ্যা তাসলিম নবম শ্রেণির ছাত্রী এবং চর্তুথ শ্রেণিতে অধ্যায়রত পুত্র তাবিব।

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর

হালিমা খাতুন স্কুলের ভর্তি বিজ্ঞপ্তি, বরিশাল







ফেসবুক কর্নার

শিরোনাম
গলাচিপায় গরু চুরির গুজব রটিয়ে গণপিটুনি, ৭০ জনজাতীয় দলে ফিরলেন ফিনল্যান্ড প্রবাসী কিংস ডিফখালেদা জিয়ার বিদেশে চিকিৎসার বিষয়ে সিদ্ধান্ঝালকাঠিতে ট্রলির সাথে সংঘর্ষে মোটরসাইকেল আরবরিশালে সিমেন্টবোঝাই ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়বরিশালের পোশাক বাজারে উপচে পরা ভিড়কলাপাড়ায় আনসার ব্যাটালিয়ান ও স্থানীয়দের সাথবরগুনায় ঘুষখোর প্রকৌশলীকে প্রকাশ্যে পেটালেবিদেশে পাঠানো হচ্ছে খালেদাকে!ছাদে বিষ্ঠাত্যাগ করায় বিষ খাইয়ে মারা হলো ২২ কগলাচিপায় বজ্রপাতে ২ জনের মৃত্যুবরিশাল নগরীতে অস্ত্রসহ কিশোর সন্ত্রাসী আটকবাউফলে ডায়রিয়ায় ২ জনের মৃত্যু‘দেরিতে হলেও এ বছর এসএসসি-এইচএসসি পরীক্ষা হকরোনাভাইরাসের টিকার নিবন্ধন বন্ধ
%d bloggers like this: