ঘূর্ণিঝড় আম্ফান / আতঙ্কে উপকূলবাসী

  • আপডেট টাইম : মে ১৯ ২০২০, ১৬:০৭
  • 63 বার পঠিত
ঘূর্ণিঝড় আম্ফান / আতঙ্কে উপকূলবাসী

বরগুনা প্রতিনিধি : ঘূর্ণিঝড় আম্ফান আতঙ্কে বরগুনার উপকূলবাসী, কয়েক মাস ধরে করোনার আতঙ্কে রয়েছে উপকূলের মানুষ। এমন দুর্যোগে উপকূলীয় নদী তীরবর্তী এলাকার বাসিন্দারা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করে সাইক্লোন শেল্টারে দুর্গতদের আশ্রয় প্রদানের জন্য জেলায় ৫০৯টি আশ্রয় কেন্দ্রের সঙ্গে বাড়ানো হয়েছে আরো ১০১টি। সবমিলিয়ে ৬১০টি আশ্রয় কেন্দ্র প্রস্তুত করা হয়েছে। এছাড়া ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় ইতিমধ্যে জেলার ৬ উপজেলায় নগদ ২৫ লাখ টাকা ও ২০০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।

ঘূর্ণিঝড় আম্পানের বিষয়ে সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে জেলাজুড়ে ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে সতর্কবার্তা প্রচার। জেলা প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসন, ইউনিয়ন পরিষদ, রেড ক্রিসেন্ট ও সিপিপির পক্ষ থেকে চলছে প্রচারণা। ঘূর্ণিঝড় আম্ফানের পূর্ববর্তী এবং পরবর্তী সময়ে পরিস্থিতি সামলাতে জেলা প্রশাসন থেকে প্রতিটি উপজেলায় একজন করে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে তাঁরা দায়িত্ব পালন করবেন দায়িত্বপ্রাপ্ত উপজেলায়। জেলার ৪২টি ইউনিয়নে ৪২টি মেডিক্যাল টিম গঠন করা হয়েছে। বিশেষ প্রস্তুতি রাখা হয়ে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালেও।

পানি উন্নয়ন বোর্ড বরগুনা কার্যালয় সূত্রের তথ্যমতে, বরগুনা জেলার ২২টি পোল্ডারে ৯৫০ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ রয়েছে। এর মধ্যে ৩৭ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। এসব বাঁধের নিকটবর্তী বাসিন্দারা ঝড়ের পূর্বাভাসেই আতংকগ্রস্ত হয়ে পড়েন।

বরগুনা সদরের নলটোনা এলাকার বাসিন্দা সেলিম শাহনেওয়াজ বলেন, বিষখালীর ভাঙ্গনে এবং বুলবুলের তান্ডবে নলটোনা এলাকার প্রায় পাঁচ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ নড়বড়ে হয়ে যায়। অনেক ধর্ণা ধরে দুই কিলোমিটারের সংস্কার সম্ভব হয়েছে। কিন্ত বাকি এলাকা এখনো অরক্ষিত। পাথরঘাটার কালমেঘা ইউনিয়নের ভাঙ্গন কবলিত কালমেঘা বাজারের উভয় পাশের এক কিলোমিটার এলাকায় ব্লক দিয়ে স্থায়ী সুরক্ষার ব্যবস্থা করা হয়েছে। কিন্ত বাজারের দক্ষিণ দিকের প্রায় এক কিলোমিটার এখনো অরক্ষিত। একই অবস্থা বাকি এলাকাগুলোরও। বিশেষ করে সদরের নলটোনা, এম বালিয়াতলি, বদরখালি ও বুড়িরচর ইউনিয়নের বেশ কিছু এলাকা, আতমলী তালতলী বামনা ও বেতাগী উপজেলার নদী তীরবর্তি বাঁধ সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দারা সবসময়ই আতংকে থাকেন।

তথ্যমতে, বরগুনা জেলার সাড়ে ৯শত কিলোমিটার বেড়িবাঁধের মধ্যে ঘূর্ণিঝড় সিডর, আইলা, মহাসেন, ফণীসহ একাধিক প্রাকৃতিক দুর্যোগে প্রায় সাড়ে পাঁচশত কিলোমিটার বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সেসব বাঁধ এখনও সম্পূর্ণ মেরামত হয়নি। এসব বাঁধ সম্পূর্ণ মেরামত না হতেই ঘূর্ণিঝড় বুলবুলে আবারো ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ অবস্থায় আম্ফানের আগমনের বার্তায় আতঙ্কে রয়েছে ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধ এলাকার লক্ষাধিক বাসিন্দা।

বরগুনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী কাওছার হোসেন বলেন, বাঁধও মেরামত করা জরুরি আমরা কিছু কিছু এলাকার বাঁধ নির্মাণ ও সংষ্কার করছি।

তিনটি নদীবেষ্টিত বরগুনা জেলার নদী তীরের বাসিন্দাদের অনেকেরই কাছাকাছি ঘূর্ণিঝড় আশ্রয় কেন্দ্রও নেই। জেলার ১২লাখ মানুষের প্রায় এক তৃতীয়াংশের বসবাস নদী তীরবর্তী গ্রামে। ঘূর্ণিঝড়ে আশ্রয় নিতে এদের জন্য মাত্র ৩৪৫টি আশ্রয় কেন্দ্র রয়েছে।

বরগুনার সাতটি স্থানে বেড়িবাঁধ ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে যা মেরামতের জন্য পানি উন্নয়নবোর্ডের চারটি টিম গঠন করে দেওয়া হয়েছে। জরুরি বিদ্যুত দ্রুততার সঙ্গে সচল রাখতে বিদ্যুত বিভাগেও চারটি টিম গঠন করা হয়েছে। এছাড়া ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচি (সিপিপি) এর ছয় হাজার ৩৩০ জন স্বেচ্ছাসেবী কর্মীসহ বিভিন্ন বিভাগের প্রায় সাড়ে সাত হাজার স্বেচ্ছাসেবী তাদের প্রাথমিক কাজ শুরু করেছেন। কৃষকের বিভিন্ন ফসল যেমন ধান, মুগ ডাল, তরমুজ, সূর্যমুখী এসব ফসলের শতকরা ৮০ ভাগই ঘরে তুলতে পেরেছে কৃষক। তবে ভুট্টা এবং চিনা বাদামের অধিকাংশই এখনো ক্ষেতে রয়ে গেছে।

এদিকে ২০ মে থেকে পরবর্তী ৬৫ দিন ইলিশের প্রজনন মৌসুম হওয়ায় সাগরে ও নদীতে সব প্রকার মাছ ধরা নিষেধাজ্ঞা থাকবে। তাই জেলেরা নিষেধাজ্ঞার আগমুহূর্ত পর্যন্ত মাছ ধরার জন্য গভীর সমুদ্রে রয়েছেন। সাগর কিছুটা উত্তাল থাকলেও আকাশে মেঘ ও বৃষ্টি না থাকায় বেশিরভাগ জেলেরা এখনো সাগরে রয়েছেন। তাই জেলেরা এখনো উপকূলে না ফিরলে প্রাণহানির সম্ভাবনা রয়েছে।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ মৎস্যজীবী ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরী বলেন, ২০ মে থেকে মা ইলিশ রক্ষা করার জন্য সাগরের সব প্রকার মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা থাকবে। তাই বেশিরভাগ মাছ ধরার ট্রলার শেষ মুহূর্তে মাছ ধরার জন্য সাগরে রয়েছে। সাগর উত্তাল থাকার কারণে বেশ কিছু মাছ ধরার ট্রলার ঘাটে এলেও এখনো পাঁচ শতাধিক ট্রলার গভীর সমুদ্রে রয়েছে। তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা চলছে।

বরগুনা জেলা প্রশাসন সোমবার (১৮ মে) বিকেলে সংশ্লিষ্টদের নিয়ে জরুরি বৈঠক করেছেন। এতে সভাপতি ছিলেন জেলা প্রশাসক মোস্তাইন বিল্লাহ। তিনি জানান, ৫০৯ টি আশ্রয় কেন্দ্র প্রস্তত রাখা হয়েছে, এতে উপকূলের বরগুনা, বামনা, আমতলী, বেতাগী, পাথরঘাটা ও তালতলীসহ ছয়টি উপজেলার আশ্রয় নেবে।

বরগুনা জেলা দুর্যোগ ও ত্রাণ ব্যবস্থাপনা অফিসার মো. লুতফর রহমান বলেন, আশ্রয় কেন্দ্রে সামাজিক সুরক্ষা মেনে স্বাস্থ্যবিধি অনুযায়ী রাখা হবে। এছাড়াও আশ্রয় কেন্দ্রে গ্রাম পুলিশ ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের টিম সার্বক্ষণিক সামাজিক ও স্বাস্থ্য সুরক্ষার কাজে নিয়োজিত থাকবেন। ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় ২৫ লাখ টাকা ও ২০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, যা প্রতিটি উপজেলায় বণ্টন করা হয়েছে।

বরগুনা জেলা প্রশাসক মোস্তাইন বিল্লাহ জানান, জেলার ৫০৯ টি আশ্রয়কেন্দ্রে ৮০ হাজার ৪২৪ জন মানুষ প্রায় ১০ হাজার গবাদি পশু এবং ৩০ হাজার হাঁস-মুরগি নিয়ে আশ্রয় নিতে পারবেন। আশ্রয়কেন্দ্রে থাকাকালে ইফতার ও সাহরির ব্যবস্থা করা হবে এবং সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করা হবে। সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করে দুর্গত মানুষদের অবস্থানের জন্য অতিরিক্ত ১০০ আশ্রয়কেন্দ্র বাড়ানো হয়েছে। জেলাজুড়ে মানুষকে সচেতন করার জন্য প্রচার প্রচারণা চলছে।

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর

হালিমা খাতুন স্কুলের ভর্তি বিজ্ঞপ্তি, বরিশাল







ফেসবুক কর্নার

শিরোনাম
বরিশালে ‘ফেসবুক লাইভে’ গিয়ে যুবকের আত্মহত্যকলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের টিকা দবরিশালে বাসদের চাঁদাবাজি মামলার গ্রেফতার আ’পটুয়াখালীতে খালে পড়ে নিখোঁজ শিশুর লাশ উদ্ধারবরিশালে বিশ্ববিদ্যালয়ছাত্রীর মৃত্যু, পুলিশ অবশেষে ফেরি চলাচলের অনুমতিসাবধান / টাকায় করোনা ভাইরাস“অপরাধ মুক্ত সমাজ বিনির্মানে কাজ করতে চাই Rকুয়াকাটার সৈকতে ভেসে আসছে একের পর এক মৃত ডলফিহেফাজতের তাণ্ডব: সরাইল থানার ওসি নাজমুলকে বরউজিরপুরের শিকারপুর খেয়াঘাট তো নয় যেন মরন ফাদ !ঈদের আগেই কল্যঅন ট্রাস্টের টাকা পাচ্ছেন অবসরভরণপোষন চাওয়ায় বৃদ্ধ বাবাকে পিটিয়ে দুই হাত ভখালেদার বিদেশে চিকিৎসার অনুমতি মেলেনিআস‌ছে ক‌রোনার ৩য় ঢেউ/ প‌রি‌স্থি‌তি হ‌তে পা‌
%d bloggers like this: