পাহারায় ম‌ন্দি‌রের ২০ বিলিয়ন ডলারের হীরা-স্বর্ণমুদ্রা!

  • আপডেট টাইম : আগস্ট ০৩ ২০২০, ২০:২১
  • 73 বার পঠিত
পাহারায় ম‌ন্দি‌রের ২০ বিলিয়ন ডলারের হীরা-স্বর্ণমুদ্রা!

এক রহস্যময় দরজা। সেখানে পাহারা দিচ্ছে দুটি বিষাক্ত নাগ| তাঁদের মূর্তি খোদাই করা আছে দরজার গায়ে | পিছনে গোপন কুঠুরিতে রাখা আছে অতুল ঐশ্বর্য। যুগ যুগ ধরে এই রহস্যময়তার সাক্ষী পদ্মনাভস্বামী মন্দির। ভারতের কেরালার তিরুবনন্তপুরমের এই তীর্থস্থান ৫০০০ হাজার বছরের প্রাচীন। বিষ্ণুর প্রতি উৎসর্গীকৃত মন্দিরটি।
কেরল এবং দ্রাবিড়ীয় স্থাপত্যশিল্পের সংমিশ্রণে মন্দিরটি তৈরি। এই মন্দিরটি বিশ্বের অন্যতম সম্পদশালী ধর্মীয় উপাসনালয়। ভারতীয় সুপ্রিমকোর্টের নির্দেশে ২০১১ সালে মন্দিরটির একটি ভল্ট খোলা হয়। হীরা, স্বর্ণমুদ্রা, অসংখ্য অলংকারসহ মন্দিরে সংরক্ষিত সম্পদের আনুমানিক মূল্য ২০ বিলিয়নমার্কিন ডলারের চেয়েও বেশি।শ্রী পদ্মনাভস্বামী মন্দিরটির ইতিহাস খৃষ্টীয় অষ্টম শতাব্দীর। ভারতের দিব্য দেশমের ভগবান বিষ্ণুর ১০৮ টি পবিত্র মন্দিরের মধ্যে এটি অন্যতম। দিব্য দেশম হল তামিল আরভারস(সাধু) রচিত গ্রন্থে ভগবান বিষ্ণুর পবিত্রতম স্থান। এই মন্দিরের মূল দেবতা হলেন, ফনা তুলে থাকা অনন্তনাগের উপরে আধশোয়া অবস্থায় ভগবান বিষ্ণু।
ত্রিভাঙ্কুরের প্রসিদ্ধ রাজাদের মধ্যে অন্যতম মার্তন্ডা বর্মা এই মন্দিরটির প্রমুখ সংস্করণ করেন এবং বর্তমান শ্রী পদ্মনাভস্বামী মন্দিরটির কাঠামো তিনিই তৈরি করেন। মার্তন্ডা বর্মা এই মন্দিরে মুরাজাপম এবং ভদ্রা দীপম উৎসবের প্রচলন করেন।মুরাজাপম কথাটির আক্ষরিক অর্থ হল নিরবিচ্ছিন্ন স্তোত্র পাঠ, এটি এখনও প্রতি ছ’বছর অন্তর পালন করা হয়।১৭৫০ খ্রিস্টাব্দে মার্তন্ডা বর্মা ত্রিভাঙ্কুর রাজ্যটিকে ভগবান পদ্মনাভর উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করেন। মার্তন্ডা বর্মা শপথ নেন যে, রাজপরিবার ভগবানের পক্ষে রাজ্যপাট পরিচালনা করবে এবং তিনি ও তার উত্তরাধিকারীরা রাজ্যের সেবা করবে পদ্মনাভ দাস নামে অর্থাৎ ভগবান পদ্মনাভের দাস হিসেবে।তখন থেকে ত্রিভাঙ্কুরের সব রাজার নামের আগে পদ্মনাভ দাস কথাটি ব্যবহৃত হয়ে আসছে। পদ্মনাভস্বামীকে ত্রিপদিদানমও বলা হয়।
ধর্মীয় তাৎপর্য ছাড়াও এই মন্দিরে ছটি “কল্লারা’ রয়েছে।
যথাক্রমে এ, বি, সি, ডি, ই, এফ। এগুলির মধ্যে থেকে পাঁচটি ভল্ট খোলা হয় এবং সেখান থেকে তিন হাজারটন স্বর্ণমুদ্রা, হীরা এসব পাওয়া যায়। এছাড়াও নানারকম পাত্র, জার, মুকুট, ধর্মীয় প্রতিমূর্তি, রোমান, ডাচ, ফরাসী, মোগলদের থেকে প্রাপ্ত প্রচুরঐশ্বর্য রয়েছে। এখানে রাজ পরিবারের অনেক সম্পত্তি রয়েছে।

যে কল্লারাটি এখন খোলা যায়নি, সেখানে রাজাদের প্রচুর ধন-সম্পদ লুকনো রয়েছে। আর সবসময় তা পাহারায় থাকে বিষধর কিছু সাপ।যদি কখনো এই কল্লারটি খোলা হয় তাহলে পৃথিবীতে নেমে আসবে সর্বনাশ এমনই বলা হয়। তবে মন্দির কর্তৃপক্ষের দাবি, এই ভল্ট থেকে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ নিখোঁজ হয়েছে। হাতির দাঁতের তৈরি একটি বাঁশি ছিল। সেটি অনেকদিনই নিখোঁজ।

তবে এখানকার ধনসম্পত্তি নিয়ে এর আগেও ভারত সরকারের সঙ্গে রাজপরিবারের মতবিরোধ হয়েছে। ২০১৫ তে এই মন্দির থেকে সোনা নিয়ে গলিয়ে স্বর্ণমুদ্রা তৈরি করে তা বিদেশে বিক্রিও করা হয়েছে। এরপর আদালতের দায়ে একটি ট্রাস্ট গঠন করে এই ধনসম্পত্তি রক্ষা করছে রাজপরিবার।

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর

হালিমা খাতুন স্কুলের ভর্তি বিজ্ঞপ্তি, বরিশাল







ফেসবুক কর্নার

শিরোনাম
গলাচিপায় গরু চুরির গুজব রটিয়ে গণপিটুনি, ৭০ জনজাতীয় দলে ফিরলেন ফিনল্যান্ড প্রবাসী কিংস ডিফখালেদা জিয়ার বিদেশে চিকিৎসার বিষয়ে সিদ্ধান্ঝালকাঠিতে ট্রলির সাথে সংঘর্ষে মোটরসাইকেল আরবরিশালে সিমেন্টবোঝাই ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়বরিশালের পোশাক বাজারে উপচে পরা ভিড়কলাপাড়ায় আনসার ব্যাটালিয়ান ও স্থানীয়দের সাথবরগুনায় ঘুষখোর প্রকৌশলীকে প্রকাশ্যে পেটালেবিদেশে পাঠানো হচ্ছে খালেদাকে!ছাদে বিষ্ঠাত্যাগ করায় বিষ খাইয়ে মারা হলো ২২ কগলাচিপায় বজ্রপাতে ২ জনের মৃত্যুবরিশাল নগরীতে অস্ত্রসহ কিশোর সন্ত্রাসী আটকবাউফলে ডায়রিয়ায় ২ জনের মৃত্যু‘দেরিতে হলেও এ বছর এসএসসি-এইচএসসি পরীক্ষা হকরোনাভাইরাসের টিকার নিবন্ধন বন্ধ
%d bloggers like this: