ভেনাস মাকের্ট ॥ ভাড়াটিয়ারাই জবরদখলে ॥ দিশেহারা ৬ হাজার ক্ষতিগ্রস্থ যুবক গ্রাহক

  • আপডেট টাইম : সেপ্টেম্বর ০৩ ২০২০, ০৫:১১
  • 174 বার পঠিত
ভেনাস মাকের্ট ॥ ভাড়াটিয়ারাই জবরদখলে ॥   দিশেহারা ৬ হাজার ক্ষতিগ্রস্থ যুবক গ্রাহক

জিয়া শাহীন ॥ যুবকের ক্ষতিগ্রস্থ ৬ হাজার গ্রাহককে শান্ত করতে বুঝিয়ে দেয়া হয়েছিল বরিশালের গীর্জামহল্লার ভেনাস শপিং সেন্টার। কিন্তু মামলার কথা গোপন করে ভেনাস শপিং সেন্টার নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছে গ্রাহকরা। গ্রাহক আর যুবক কর্মকর্তাদের দ্বন্দ্বে ভাড়াটিয়ারাই এখন জবরদস্ত মালিক বনে গেছে পুরো মার্কেটটির।
২০০৬ সালে প্রতারণার দায়ে সরকরের নির্দেশে বন্ধ হয়ে যায় যুব কর্মসংস্থান সোসাইটি(যুবক)। সাথে সাথে কোটি কোটি টাকা হারিয়ে পথে বসে অর্থলগ্নিকারী গ্রাহকরা। তবে গ্রাহকদের অর্থে বিপুল সম্পত্তির মালিক হওয়া যুবকর পরিচালকরা থাকেন ধরা ছোয়ার বাইরে। বরিশালে ৬ হাজার গ্রাহক তাদের অর্থ হারিয়ে পথে বসেন। এক পর্যায়ে ক্ষতিগ্রস্ত যুবকরা একটি সংগঠন করেন। টাকা আদায়ে ৬০জনকে দায়িত্ব দেয়া হয়। যুবক কর্তৃপক্ষ এই ৬০জনকে চুক্তি করে পুরো ভেনাস মাকের্ট বৃঝিয়ে দিলেও পরবর্তিতে জানা যায় মার্কেটটি কেনা বেচায় ছিল আদালতের নিষেধাজ্ঞা। মামলার বিষয়টি পুরো গোপন করে মার্কেটটি হস্তান্তরে যুবক কর্মকর্তারা নিয়েছিল প্রতারণার আশ্রয়। আর এ সুযোগে ভাড়াটিয়ারাই এখন পুরো মার্কেটের মালিক বনে গেছেন। ভাড়াটিয়াদের সভাপতি নিজেই ৮ টি স্টলের দখলে নেন। ফলে নগরীর গীর্জা মহল্লাহায় অবস্থিত ভেনাস মার্কেটটি নিে প্রতারণার খেলায় বিপর্যস্থ হয়ে পড়েছে ৬ হাজার গ্রাহক। দীর্ঘ ১৪ বছরেও তারা ফিরে পাননি কোন অর্থ।

১৯৯৬ সালে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে অনুমতি নিয়ে স্বেচ্ছাসেবী মুলক প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ শুরু করে যুব কর্মসংস্থান সোসাইটি ( যুবক)।। পরবর্তীতে ধীরে ধীরে তারা বিভিন্ন অর্থনৈতিক কর্মকা- শুরু করে। বিশেষ করে ২০০১সালের শুরু থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত সারা বাংলাদেশের সাধারণ সহজ-সরল মানুষের কাছ থেকে বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে যুবক হাউজিং সহ একাধিক প্রকল্প গড়ে তোলে। আকর্ষণীয় ও লোভনীয় প্রস্তাবে হাজার হাজার মানুষ তাদের ফাঁদে পা দেয়। মাত্র ২ বছরে জমানত দ্বিগুন করার প্রলোভনে রিকসা চালক থেকে বিত্তবানরা পর্যন্ত যুবকের সদস্য হন। এভাবে দ্রুত শতশত কোটি টাকার মালিক বনে যায় যুবক। তারা টিভি চ্যানেল কিনে ফেলে। ল্যান্ড টেলিফোনের মালিক বনে যায় যুবক। পরিচালকরা কোটি কোটি টাকার সম্পদ গড়ে। বিষয়টি দ্রুতই তৎকালীন বিএনপি সরকারের নজরে চলে আসে। বাংলাদেশ ব্যাংকও যুবকের কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়। জানা গেছে বিএনপির এক ক্ষমতাশালী নেতাকে তুষ্ট করতে না পারা এবং টিভি চ্যানেল ক্রয় করে অন্য চ্যানেল মালিকদের রোষাণলে পড়েন। পরিনতি বন্ধ হয়ে যায় যুবক। একাউন্ট আটকে দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। নিঃশ্ব হয়ে পড়ে সারা দেশের কয়েক লাখ গ্রাহক। মামলা হতে থাকে কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে। টাকার জন্য রাস্তায় নামে ক্ষতিগ্রস্থ গ্রাহকরা। চলে আন্দোলন। বিভিন্ন জায়গায় বিক্ষোভ মিছিল ঘেরাও হয়। এক পর্যায়ে বরিশালে ক্ষুদ্ধ গ্রাহকদের শান্ত করতে নতুন এক চাল চালে যুবক কর্মকর্তারা।

যুবকের বরিশালের ক্ষতিগ্রস্ত পাওনাদারদের কমিটির সহ-সভাপতি মোঃ আনিছুর রহমান জানান, পাওনা টাকা আদায়ের জন্য বরিশালের ক্ষতিগ্রস্থ গ্রাহকরা ঐক্যবদ্ধ হন। গঠন করা হয় একটি কমিটি। ৬ হাজার গ্রাহক ৬০ জনের একটি কমিটি করেন। একের পর এক মামলা হয় যুবক কর্মকর্তাদের নামে। উপায় না পেয়ে বরিশালের হেমায়েত উদ্দিন রোডে যুবকের ক্রয় কৃত ভেনাস শপিং সেন্টার ক্ষতিগ্রস্ত সদস্যদের পাওনার বিপরীতে প্রদানের একটি প্রস্তাব দেয়া হয়। মাত্র ৪ কোটি টাকায় সাড়ে ১৮ শতকের এই মার্কেটটি যুবক কিনেছিল। সেটিই বরিশালের ৬০০০ ক্ষতিগ্রস্থ পাওনাদারদের ৬০ কোটি টাকার বিপরিতে হস্তান্তরের ঘোষণা দেয়া হয়। অর্থাৎ ১৫গুন অতিরিক্ত দামে। উপায় না পেয়ে তাতেই রাজি হন গ্রাহকরা। ২০১৪ সালে অসহায় ক্ষতিগ্রস্থ পাওনাদারদের কাছে তাদের পাওনার বিপরিতে চুক্তিনামা করা হয়। চুক্তিতে উল্লেখ ছিল স্টল ভাড়া দিয়ে সেই ভাড়ার অর্থে সদস্যদের পাওনা অর্থ পরিশোধ হবে। যুবক হাউজিং এন্ড রিয়েল এস্টেট ডেভেলপমেন্ট লিমিটেডের এর পক্ষে চেয়ারম্যান হোসাইন আল মাসুম বিগত ২০১৪ সালের ৩০ জুন ৩০০ টাকার নন জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে একটি সমঝোতা চুক্তি পত্র স্বাক্ষর করেন। চুক্তিতে উল্লেখ ছিল যুবক গ্রাহকরা মার্কেটের স্টল বাড়া বা বিক্রি করে তাদের পাওনা বুঝে নেবেন।

তবে গোল বাধে অন্যত্র। ভেনাস শপিং সেন্টারটি সাব কবলা দলিল করতে গেলে প্রায় কোটি টাকার প্রয়োজন । যা ক্ষতিগ্রস্থ গ্রাহকদের পক্ষে ছিল অসম্ভব। তারা আন্দোলনরত কমিটি যুবক হাউজিং কর্তৃপক্ষকে প্রস্তাব দেন যে, ৬০ জনের নামে একটি অপ্রত্যাহারযোগ্য আমমোক্তারনামা দলিল /পাওয়ার অব এটর্নি দলিল সম্পাদনের। পরবর্তিতে দলিলের রেজিস্ট্রিকরণের খরচ জোগার করে সাফ কবলা দলিল সম্পাদন করা হবে। এ প্রস্তাবে যুবক হাউজিংয়ের কর্মকর্তারা ২০১৭ সালের ১ নভেম্বর পাওনাদার প্রতিনিধি ৬০ জনের নামে মিরপুপের সাব রেজিস্ট্রি অফিসে একটি অপ্রত্যাহারযোগ্য আমমোক্তারনামা দলিল সম্পাদন করে একটি খাস মোক্তার নামা দলিল রেজিস্ট্রি করে দেন। কিন্তু খাস মোক্তার বরিশালে এসে বরিশাল সদর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের সাব রেজিস্ট্রারের নিকট আমমোক্তারনামা দলিল রেজিস্ট্রির জন্য দাখিল করলে তিনি দলিল রেজিস্ট্রি করতে অসম্মতি জানান। এ সময় জানা যায় ভোনাস মার্কেট নিয়ে আগেই দুটি মামলা রয়েছে।

দুটি মামলায় ইতিপূর্বে যুবক হাউজিং কর্তৃপক্ষ একটি সোলেনামা দাখিল করে বলেছেন যে মামলা শেষ না হওয়া পর্যন্ত ভেনাস মার্কেটের বেচাবিক্রি বা হস্তান্তর করা যাবে না এবং এই মামলায় আদালতের বেচাবিক্রির উপরে একটি নিষেধাজ্ঞা আছে । যুবক কৃর্তপক্ষ মামলার বিষয়টি গোপন করে এটি গ্রাহকদের হস্তান্তর করে। তাদের প্রতারণায় হতভম্ভ হয়ে পড়ে গ্রাহকরা। তাদের পাওনার ৬০ কোটি টাকার কাগজপত্রও যুবক নিয়ে নেয়। এই দ্বন্দ্বে ভাড়াটিয়ারা সুবিধা নিয়ে নেয়। জবরদস্তি করে নিজেরাই স্টলের মালিক বনে যান। কেউবা অন্যের নিকট সাবলেট ভাড়া দিয়ে প্রতিটি দোকান ৮ থেকে ১০ লক্ষ টাকা অগ্রিম গ্রহণ করে। দোকন প্রতি মাসিক ১০/১৫ হাজার টাকা ভাড়া দিয়েও কেউ নিজের পকেটে পুড়ছেন। শুধুমাত্র ওই সময় ভাড়াটিয়াদের সভাপতি একাই আটটি দোকান সাবলেট দিয়ে প্রায় কোটি টাকা অগ্রিম হিসেবে গ্রহণ করেন । কিন্তু সে টাকা গ্রাহকদের একউন্টে জমা হয়নি বলে জানা গেছে। যদিও কয়েক মাস আগে সভাপতি মৃত্যুবরণ করেছেন। এখন তার সন্তানারা এটি ভোগ করছেন। ভাড়াটিয়াদের চুক্তি শেষ হয়ে গেছে ২০০৬ সালেই। কিন্তু কেউই ষ্টল ছাড়ছেন না। যুবকের প্রতারনায় এখন নিঃশ্ব গ্রাহকরা কার কাছে যাবেন তার কোন উপায় খুজে পাচ্ছেন না।

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর







ফেসবুক কর্নার

শিরোনাম
কাসিমপুর কারাগারে কয়েদি পোশাকে রিফাত শরীফ হতবানারীপাড়ায় বিশ্ব নবীকে নিয়ে ব্যঙ্গ করার প্রকলাপাড়ায় বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে তৌহিদীপটুয়াখালীতে ১২ রবিউল আউয়াল পবিত্র ঈদ-ই-মিলাদবিশ্বনবীর ব্যঙ্গচিত্র প্রদর্শনের প্রতিবাদেশাওন- পঙ্কজসহ ৮ এমপির বিপুল সম্পদ, তদন্তে সত্যডি আই জির বানীবেতাগীর আলোচিত বজলু হত্যা মামলার ২ নম্বর আসাআজ পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.)ষষ্ঠ-নবম শ্রেণির সংক্ষিপ্ত সিলেবাস প্রকাশহিজলায় বোমা বানাতে গিয়ে উড়ে গেল যুবকের হাতের বরগুনা থেকে বরিশাল কারাগারে রিফাত হত্যার ফাঁমধ্যরাতে শেবাচিম হাসপাতালের জরুরি বিভাগের তবানারীপাড়া পৌরসভার ২নং ওয়ার্ডে দূর্বার গতিত
%d bloggers like this: