ঝালকাঠির আদালত চত্বরে ধর্ষণ মামলার আসামির সঙ্গে নির্যাতিত তরুণীর বিয়ে

  • আপডেট টাইম : ডিসেম্বর ২০ ২০২০, ০৬:১৪
  • 30 বার পঠিত
ঝালকাঠির আদালত চত্বরে ধর্ষণ মামলার আসামির সঙ্গে নির্যাতিত তরুণীর বিয়ে

ঝালকাঠি প্রতিনিধি ॥
ঝালকাঠির আদালত চত্বরে ধর্ষণ মামলার আসামির সঙ্গে নির্যাতিত তরুণীর বিয়ে হয়েছে। ঝালকাঠির অবকাশকালীন জেলা ও দায়রা জজ মো. শহিদুল্লাহর নির্দেশে রবিবার দুপুরে দুইপক্ষের উপস্থিতে বিয়ে পড়ান কাজী মাওলানা মো. সৈয়দ বশির। এ বিয়ের বর হলেন বরিশাল জেলার বাবুগঞ্জ উপজেলার দেহেরগাতি গ্রামের আনোয়ার সরদারের ছেলে নাঈম সরদার (২২), আর কনে হলেন ঝালকাঠির বালিঘোনা গ্রামের মৃত মোশারফ হোসেনের মেয়ে আরজু আক্তার (১৮)। বিয়ের পর আসামি বর নাঈমের জামিন মঞ্জুর করেন বিচারক মো. শহিদুল্লাহ। নবদম্পতিকে মিষ্টি মুখ করান আদালতের কর্মচারীরা।
জেলা ও দায়রা জজ আদালতের সরকারি কৌসুলি আবদুল মান্নান রসুল বিয়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মামলার বাদী পক্ষের আইনজীবী ফয়সাল খান জানান, ঝালকাঠি সদর উপজেলার বালিঘোনা গ্রামের আরজু আক্তার গত ৮ নভেম্বর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে তাকে জোড়পূর্বক ধর্ষণ করা হয়েছে বলে একটি নালিশী মামলা দায়ের করেন। বিচারক তাঁর অভিযোগ ঝালকাঠি থানায় এফআইআর হিসেবে রেকর্ডরে নির্দেশ দেন। ১২ নভেম্বর ঝালকাঠি থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন আইনের ৯(১) ধারায় এফআইআর রেকর্ড হলে একমাত্র আসামি নাঈমের বাবা আনোয়ার হোসেন ছেলেকে ১৩ নভেম্বর ঝালকাঠি থানায় সোপর্দ করেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এস.আই নাজমুজ্জামান আসামিকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে প্রেরণ করেন। আদালত নাঈমের জামিন আবেদন না মঞ্জুর করে জেল হাজতে প্রেরণ করেন। রবিবার অবকাশকালীন জেলা ও দায়রা জজ আদালতে আসামির জামিন শুনানীর সময় আসামি পক্ষ নির্যাতিত মেয়েটিকে বিবাহের আগ্রহ প্রকাশ করলে এবং নির্যাতিত পক্ষও প্রস্তাবে রাজি হলে বিচারক মো. শহিদুল্লাহ আদালত চত্বরেই ৫ লাখ টাকা দেনমোহরে বিবাহের নির্দেশ দেন। আদালত চত্বরে আসামি, ভিকটিম ও উভয়পক্ষের আইনজীবীদের উপস্থিতিতে বিবাহ সম্পন্ন হয়। বিবাহের আনুষ্ঠানিকতা শেষে আদালতে কাগজপত্র জমা দিলে শুনানী শেষে বিশ হাজার টাকা বন্ডে আসামির জামিন মঞ্জুর করেন আদালত। বর নাঈম পেশায় একজন ইলেক্টট্রিশিয়ান এবং কনে আরজু দশম শ্রেণি পর্যন্ত লেখা পড়া করেছে। ২০১৯ সালের প্রথমদিকে তাদের মোবাইল ফোনের মাধ্যমে পরিচয় এবং প্রেম হয়। গত ২৩ সেপ্টেম্বর রাত দশটায় আরজুদের বাড়ির পেছনের বাগানে মোবাইলে ডেকে এনে আরজুকে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে ধর্ষণ করে নাঈম।
বিয়েতে খুশি হয়ে নাঈম সরদার বলেন, আমাদের প্রেমের সম্পর্ক এখন বিয়েতে পরিণত হয়েছে, এটা অত্যন্ত আনন্দের বিষয়। আমি এতে খুশি। আমি আরজুকে নিয়ে সংসার করতে চাই। আমাদের জন্য দোয়া করবেন।
বিয়ের কাজী মাওলানা মো. সৈয়দ বশির বলন, আদালতের নির্দেশে পিপি সাহেব আমাকে বিয়ে পড়াতে ডাকেন। আমি এসে বিস্তারিত শুনে উভয় পক্ষের সম্মতিতে বিয়ে রেজিস্ট্রি করেছি।
বাদীর আইনজীবী ফয়সাল খান বলেন, মামলা চলাকালে উভয় পক্ষ বিয়ের বিষয়ে সম্মতি প্রদান করেন। বিষয়টি আদালতকে জানানো হয়। বিচারক দুই পক্ষের কথা শুনে রবিবার বিয়ের দিন ধার্য করেন। এদিন বিয়ে শেষে আসামিকে জামিন প্রদান করা হয়।

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর

হালিমা খাতুন স্কুলের ভর্তি বিজ্ঞপ্তি, বরিশাল







ফেসবুক কর্নার

শিরোনাম
‘২০১২ সালে যুবলীগের প্রেসিডিয়াম পদ ৫ কোটি টাপ্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপহার ॥ বরিশালে ঘরদেশে করোনার টিকা দেওয়া শুরু ২৭ জানুয়ারি‘স্বপ্নের ঠিকানা’ পেল ৭০ হাজার পরিবারকারাগারে হলমার্ক জিএমের নারীসঙ্গ জঘন্য কাজ: সারাদেশে জেঁকে বসেছে শীত৪ ফেব্রুয়ারি খুলতে পারে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ॥ ১চোর অপবাদ দিয়ে এক ব্যক্তিকে অমানুষিক নির্যাতদেশে করোনায় আরও ১৫ মৃত্যুবাংলাদেশ দলকে প্রধানমন্ত্রীর অভিনন্দনসিরিজ জয় বাংলাদেশেরবরিশাল থেকে রোগী নিয়ে যাওয়া অ্যাম্বুলেন্স দুপাথরঘাটায় বরফকলে ভয়াবহ গ্যাস বিস্ফোরণে হতাহবিসিকে আ’লীগ নেতা সোহাগকে আটক ॥ থানা ঘেড়াও ॥লআউয়াল ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিলে
%d bloggers like this: