মধ্যরাতে ঘুমন্তছাত্রদের উপর বাস শ্রমিকদের হামলা ॥ বিক্ষক্ষ ছাত্রদের মহাসড়ক অবরোধ ॥ বাসে আগুন

  • আপডেট টাইম : ফেব্রুয়ারি ১৭ ২০২১, ০৭:৩০
  • 35 বার পঠিত
মধ্যরাতে ঘুমন্তছাত্রদের উপর বাস শ্রমিকদের হামলা ॥ বিক্ষক্ষ ছাত্রদের মহাসড়ক অবরোধ ॥ বাসে আগুন

স্টাফ রিপোর্টর ॥ মধ্যরাতে শিক্ষার্থীদের মেসে হামলার চালিয়েছে বাস শ্রমিকরা। বেধড়ক মারপিট করা হয়েছে ঘুমন্ত ছাত্রদের। হামলায় আহত ১৩ শিক্ষার্থীকে বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এর প্রতিবাদে বুধবার সকাল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে বরিশাল-পটুয়াখালী সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করছে শিক্ষার্থীরা। জ্বালিয়ে দেয়া হয়েছে একটি যাত্রীবাহি বাস। ভাংচুর করা হয় আরও ২টি বাস। এরপরপরই ঢাকা পটুয়াখালী- কুয়াকাটা- বরগুনা রুটে বাস চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

ঘটনার সূত্রপাত হয় মঙ্গলবার দুপুরে। বরিশাল কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আসাদুজ্জামান জানান, মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী তৌফিকুল সজল ও ফারজানা আক্তার বাড়ি যাওয়ার জন্য বিআরটিসি কাউন্টারে যান। সেখানে রফিক নামের একজন বাস স্টাফের সঙ্গে তাদের কথা-কাটাকাটি হয়। এর জের ধরে সজলকে ছুরিকাঘাত করেন রফিক। লাঞ্ছিত করা হয় ফারজানাকে। এর প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা বিকালে রুপাতলী এলাকায় সড়ক অবরোধ করে। পরে বিআরটিসির কাউন্টার কর্মী রফিককে পুলিশ আটক করলে শিক্ষার্থীরা শান্ত হয় বলে কোতোয়ালি মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত)মো. আসাদুজ্জামান জানান।

জানা গেছে বিআরটিসির শ্রমিককে আটকের ঘটনায় ক্ষুদ্ধ হয়ে উঠে শ্রমিমকরা। রাত ২টার দিকে রুপাতলী হাউজিং এলাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মেসে হামলার ঘটনা ঘটে বলে আহতদের ভাষ্য।
তাদের অভিযোগ, বরিশাল-পটুয়াখালী মিনিবাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক কাউসার হোসেন শিপনের নেতৃত্বে একদল পরিবহন শ্রমিক লাঠিসোঁটা নিয়ে ওই হামলা চালায়।পরে আহতদের শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয় বলে জানান বিক্ষোভরত শিক্ষার্থীদের একজন।

ওই ঘটনার পর রাতেই বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে সড়ক অবরোধ করেন শিক্ষার্থীরা। সেখানে তারা আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করেন। ভোরের দিকে ফিরে গেলেও সকালে আবার ফিরে এসে তারা অবরোধ শুরু করলে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। সড়কে অবস্থান নিয়ে আছেন শত শত শিক্ষার্থী। সংক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা সেখানে একটি বাস আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দিয়েছে। বাসটি বরিশাল শহরের রুপাতলী থেকে পটুয়াখালীর উদ্দেশে যাচ্ছিল।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, বাসটি যাত্রী নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় অতিক্রমকালে শিক্ষার্থীরাপ্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। এতে সকল যাত্রীরা নেমে গেলে বাসটি সড়কের পাশে থামিয়ে রাখা হয়েছিল। এর কিছুক্ষণ পরে উত্তেজিত শিক্ষার্থীরা একপর্যায়ে আগুন জ্বালিয়ে দেয়। এরপরপরই বাস চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

বরিশাল মেট্রোপলিটন বন্দর থানার ওসি আনোয়ার হোসেন বলেন, “পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে। সেখানে বাড়তি পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। আমরা শিক্ষার্থীদের আশ্বাস দিয়েছি, হামলায় জড়িতদের তদন্ত সাপেক্ষে আইনের আওতায় আনা হবে।”অভিযোগের বিষয়েপ্রশ্ন করলে মিনিবাস মালিক সমিতির নেতা কাউসার বলেন, “আমি ঘটনা জানি না। এর সঙ্গে আমি জড়িত নই।”

গভীর রাতে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ওপর হামলাকে ন্যাক্কারজনক ও বর্বরোচিত অভিহিত করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস ও আহত শিক্ষার্থীদের চিকিৎসার যাবতীয় ব্যয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে বহন করা হবে বলে জানান বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ছাদেকুল আরেফিন। বুধবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে সাংবাদিকদের সাথে আলোচনায় এসব কথা তিনি জানান।

এছাড়া বেলা সাড়ে ১২টায় আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের সাথে উদ্ভুত সমস্যা সমাধানে আলোচনা করেন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য। বেলা ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ভিসি প্রফেসর ড. ছাদেকুল আরেফিন এর সাথে বৈঠক করেছেন। এসময় তারা ৩টি দাবী যথাক্রমে অপরাধীদের শাস্তির আওতায় আনা, হামলার রাতে প্রক্টরিয়াল বডির ব্যার্থতার জবাব চাওয়া এভং বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের নতজানু নীতি পরিহার করা। ভিসি প্রফেসর ড. ছাদেকুল আরেফিন শিক্ষার্থীদের সকল দাবী খতিয়ে দেখবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক আরিফ হোসেন বলেন, “আজ বাস-মালিক সমিতি ও শিক্ষার্থীদের নিয়ে বৈঠক হবে। আমরা সমাধানের চেষ্টা করছি।”

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর

হালিমা খাতুন স্কুলের ভর্তি বিজ্ঞপ্তি, বরিশাল







ফেসবুক কর্নার

শিরোনাম
%d bloggers like this: