আর্থিক সংকটে ১১৭ বছরেরবরিশালের অক্সফোর্ড মিশন*২০২০ সাল থেকে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে ব্রিটিশ সহায়তা

  • আপডেট টাইম : নভেম্বর ২৭ ২০১৯, ০০:১৬
  • 122 বার পঠিত
আর্থিক সংকটে ১১৭ বছরেরবরিশালের অক্সফোর্ড মিশন*২০২০ সাল থেকে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে ব্রিটিশ সহায়তা

শামীম আহমেদ, ॥ প্রতিষ্ঠার প্রায় ১১৭ বছর পর আর্থিক সংকটের মধ্যে পরেছে বরিশাল নগরীর ঐতিহ্যবাহী অক্সফোর্ড মিশনের আওতায় থাকা ১০টি প্রতিষ্ঠান। ব্রিটিশ সহায়তায় এতোদিন এসব প্রতিষ্ঠান চলে আসলেও অতিসম্প্রতি এক সভায় এ সহায়তা বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। আগামী বছর থেকে আর সহায়তা দেওয়া হবেনা। এ খবরে মিশনের আওতাধীন এসব প্রতিষ্ঠান পরিচালনায় সংশ্লিষ্টদের মধ্যে চরম উদ্বেগ বেড়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, নগরীর বগুড়া রোডে অবস্থিত এপিফানি অক্সফোর্ড মিশন নামের এই ব্যাসিলিকা (দুই সারি স্তম্ভ ও এক গম্বুজের) দক্ষিণ এশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম গির্জাটি ১৯০৩ সালে নির্মিত। লাল ইটের তৈরি এ গির্জা সিস্টার এডিথের স্কেচের আদলে মূল আকৃতি দিয়েছিলেন ফাদার স্ট্রং। যার পুরো নির্মাণকাজ শেষ হয় ১৯০৭ সালে। ফ্রেডরিক ডগলাস এটি নির্মাণ করেছিলেন। ১৮৯২ সালে তিনি প্রথম এই দেশে আসেন।
সূত্রে আরও জানা গেছে, ডগলাস ইংল্যান্ড অক্সফোর্ডের ক্রাইস্টচার্চে শিক্ষা লাভ করেন। একবার সন্ত্রাসী হামলায় মারাত্মকভাবে আহত এক পুলিশ সদস্যকে তিনি বাঁচিয়েছিলেন। তার এই মহৎ কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ পুলিশ কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে তিনি ক্রুশবিদ্ধ যিশুর প্রতিকৃতি উপহার পেয়েছিলেন। সারাজীবন তিনি উপহারটি সাথে রেখেছিলেন। ১৯০১ সালের ফেব্রয়ারী মাসে বরিশালে এবং ১৯০৮ সালে পশ্চিমবঙ্গের বেহালায় ট্রাম টার্মিনালের দক্ষিণ পাশে তিনি ছাত্রাবাস প্রতিষ্ঠা করেন। তারই তত্ত্বাবধানে বরিশালে নির্মিত হয় এপিফানি গির্জা।
১৯০৪ সালের ১৯ মার্চ ক্ষেত্রমণি দত্তের দেওয়া ২৫ হাজার টাকা ও বিদেশী বন্ধুদের আর্থিক সহায়তায় বরিশালে এপিফানি গির্জার নির্মাণকাজ শুরু করা হয়। উঁচু প্রাচীরঘেরা এই গির্জার অভ্যন্তরে ১৩টি ছোট-বড় পুকুর এবং অক্সফোর্ড মিশন প্রাইমারি স্কুল ও অক্সফোর্ড মিশন হাই স্কুল রয়েছে। এ গির্জায় রয়েছে অসংখ্য করিডোর ও ৪০টি খিলানপথ। যা এর কাঠামোকে দিয়েছে বিশেষ দৃঢ়তা। যিশুর আশীর্বাদ জ্ঞাপন স্বরূপ মূল বেদির ওপর একটি বিশাল আকৃতির ক্রুশ রয়েছে। যা দেশী-বিদেশী পর্যটক, বিশেষ করে খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বীদের আকর্ষণ করে। গ্রিক স্থাপত্যশৈলীতে নির্মিত অক্সফোর্ড মিশন গির্জার ভেতর রয়েছে সু-বিশাল প্রার্থনাকক্ষ। প্রায় ৩৫ একর জমির একাংশে নির্মিত গির্জার ভেতরটা কাঠ দিয়ে খোদাই করা, আর মেঝেতে নজরকাড়া মার্বেল পাথরের টাইলসখচিত। গির্জাটি একতলা হলেও কমপক্ষে পাঁচতলা ভবনের সমান উঁচু।
দক্ষিণ এশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম (একতলা উচ্চতা) এই ব্যাসিলিকা এপিফানি গির্জাটিকে ঘিরে ১০টি প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠে। এরমধ্যে একটি মাধ্যমিক, একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়, চারটি শিক্ষার্থী হোস্টেল, মেটারনিটি ক্লিনিক, ব্রাদারহুড, সিস্টারহুড, সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট, মিশনপাড়া (কোয়ার্টার), কবরস্থান, সেন্ট মেরিজ (প্রতিবন্ধী ও অনাথ আশ্রম)। শুরু থেকেই ব্রিটিশ ফাদারদের গঠণ করা একটি চ্যারিটির অনুদানে বরিশাল অক্সফোর্ড মিশন এবং ভারতের বেহালার মিশনটি পরিচালিত হতো। কিন্ত ২০২০ সাল থেকে চ্যারিটি থেকে এই দুই প্রতিষ্ঠানকে আর অনুদান দেওয়া হবেনা বলে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। অনুদান বন্ধ করার সিদ্ধান্ত হওয়ার পর এসব প্রতিষ্ঠান পরিচালনার ব্যয় নির্বাহ নিয়ে বিপাকে পরেছেন মিশন ফাদার ও কর্তৃপক্ষ।
বাংলাদেশকে ভালবেসে এখানে দীর্ঘ ৫৮ বছর ধরে বসবাস করছেন ব্রিটিশ নাগরিক (বাংলাদেশের নাগরিকত্ব পাওয়া) লুসি হেলেন ফ্রান্সিস হল্ট। ৫৮ বছর আগে অক্সফোর্ড মিশনের একজন কর্মী হিসেবে ব্রিটিশ নাগরিক লুসি হেলেন ফ্রান্সিস হল্ট বাংলাদেশে এসেছিলেন। সেবার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন মানুষের প্রতি। মুক্তিযুদ্ধের সময় যুদ্ধাহতদের সেবা করেছেন জীবনের মায়া ত্যাগ করে। দেশ স্বাধীনের পরও তিনি বাংলাদেশ ছেড়ে যাননি। তিনি ভালোবেসেছেন এখানকার মানুষকে। তাইতো মৃত্যুর পরেও যেন তাকে বরিশালের মাটিতে সমাধিস্থ করা হয়, সেই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন লুসি। কর্মজীবন থেকে ২০০৪ সালে অবসরে যাওয়া লুসি এখনও দুঃস্থ শিশুদের মানসিক বিকাশ ও ইংরেজি শিক্ষা দেয়ার পাশাপাশি শিশুদের জন্য তহবিলও সংগ্রহ করছেন।
সূত্রমতে, বর্তমানে বরিশাল অক্সফোর্ড মিশনের আওতায় ১০টি প্রতিষ্ঠানে কর্মকর্তা-কর্মচারী রয়েছেন ৭৯ জন। তাদের বেতন-ভাতা, দাতব্যপ্রতিষ্ঠান পরিচালনাসহ প্রতি মাসে প্রচুর অর্থের প্রয়োজন হয়। আকস্মিক অনুদান বন্ধ করার ঘোষণায় এসব প্রতিষ্ঠানের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। সম্প্রতি সব প্রতিষ্ঠানের জন্য একটি অভিন্ন তহবিল গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ফাদার এবং মিশন পরিচালনা কর্তৃপক্ষ। এজন্য সব প্রতিষ্ঠানের অর্থ তুলে এই অভিন্ন তহবিলে স্থানান্তর করা হয়েছে।
মিশনের কনিষ্ঠ ফাদার জন হালদার বলেন, ব্রিটিশ অনুদান বন্ধ করে দেওয়ার ঘোষণা আসার পর মিশনের প্রতিষ্ঠানগুলো পরিচালনার ব্যাপারে আমাদের উদ্বেগ বেড়েছে। এজন্য আমরা মিশনের সম্পদ থেকে আয়ের নানা উৎস বের করার চেষ্টা করছি। এখন থেকে প্রতিষ্ঠানগুলোর আলাদা তহবিল বিলুপ্ত করে একটি অভিন্ন তহবিল গঠণ করে সেখান থেকে সব প্রতিষ্ঠানের ব্যয় নির্বাহের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে এই অভিন্ন তহবিল গঠনের প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে। এজন্য মাধ্যমিক ও প্রাথমিক বিদ্যালয়ের আলাদা তহবিলের অর্থ যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ায় তুলে অভিন্ন তহবিলে স্থানান্তর করা হয়েছে। এসব অর্থ ব্যাংকে স্থায়ী আমানত হিসেবে রেখে সেই আয় দিয়ে সবপ্রতিষ্ঠান পরিচালনার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
মিশনের ভবিষ্যৎ প্রসঙ্গে জ্যেষ্ঠ ফাদার ফ্রান্সিস পান্ডে বলেন, মিশনের আওতায় প্রতিষ্ঠান পরিচালনার জন্য সবাই মিলে সিদ্ধান্ত নিয়েই অভিন্ন তহবিল গঠণ করা হয়েছে। এ নিয়ে বিভ্রান্তির কোনো সুযোগ নেই। কারণ মিশনের একটি পয়সাও অপচয় করার সুযোগ নেই।

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর







ফেসবুক কর্নার

শিরোনাম
ঝালকাঠির নলছিটিতে রাস্তার ঢালে সবজি চাষের ওপপটুয়াখালীতে ছাত্র ও যুব পরিষদের মানববন্ধন ও ছালাহউদ্দিন সভাপতি, আবদুল্লাহ জুয়েল সম্পাদক অবশেষে বরখাস্ত হলেন আগৈলঝাড়ার সেই শিক্ষকভাণ্ডারিয়ায় খালে মাথাবিহীন যুবকের লাশআল্লামা শফিকে নিয়ে কটুক্তির প্রতিবাদে দৌলতখঝালকাঠির পুলিশ কর্মকর্তা এমএম মাহমুদ হাসানকমৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম এবরিশাল রেঞ্জের শ্রেষ্ঠ পুলিশ সুপার ফাতিহা ইয়বরিশালে ঢাবি সাবেক ভিপি নুরের বিরুদ্ধে মিথ্যনুরের বিরুদ্ধে আরেকটি মামলা২৫ শতাংশ প্রাথমিক বিদ্যালয় খুলে দেয়ার প্রস্তমৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রীর মায়ের মৃত্যুবরিশাল নগরীর মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তারদল থেকে বহিস্কার হচ্ছেন শারমিন মৌসুমি কেকা
%d bloggers like this: