বরিশালে ট্রিপল মার্ডারের ক্লু খুঁজছে তিন সংস্থা

  • আপডেট টাইম : ডিসেম্বর ০৭ ২০১৯, ১৩:৫১
  • 227 বার পঠিত
বরিশালে ট্রিপল মার্ডারের ক্লু খুঁজছে তিন সংস্থা

বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলার সাখারিয়া গ্রামে তিন জনকে কীভাবে হত্যা করা হয়েছে তা নিয়ে রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। কীভাবে মৃত্যু হলো বা কারা তাদের হত্যা করেছে, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কিছু জানা যায়নি। হত্যাকাণ্ডের ক্লু খুঁজতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তিন সংস্থা ইতোমধ্যে মাঠে নেমেছে। সংস্থা তিনটি হলো—জেলা পুলিশ, পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) এবং অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম এবং বানারীপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)-সহ একাধিক কর্মকর্তা তদন্তে সহযোগিতা করছেন। সুত্র- বাংলা ট্রিবিউন
উল্লেখ্য, শনিবার (৭ ডিসেম্বর) সকালে বানারীপাড়ার সলিয়াবাকপুর ইউনিয়নের সাখারিয়া গ্রামের কুয়েত প্রবাসী হাফেজ আব্দুর রবের বাড়ি থেকে একই পরিবারের তিন জনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তারা হলেন—কুয়েত প্রবাসীর মা মরিয়ম বেগম (৭৫), ভগ্নিপতি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক শফিকুল আলম (৬০) এবং খালোতো ভাই ভ্যানচালক মো. ইউসুফ (৩২)। পুলিশ জানায়, মরিয়মের মরদেহ বারান্দায়, আলমের মরদেহ ঘরের একটি কক্ষে এবং ইউসুফের মরদেহ হাত-পা বাঁধা অবস্থায় বাড়ির পেছনের পুকুরে পড়ে ছিল। জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটানো হতে পারে বলে পুলিশ ধারণা করছে।

পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘আলমের মাথার কাছে রক্তমাখা বালিশ পাওয়া গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, ওই বালিশ দিয়ে আলমের মুখমণ্ডল চেপে ধরে হত্যা করা হয়েছে। তার নাক-মুখেও রক্ত ছিল। একইভাবে হত্যা করা হয়েছে মরিয়ম ও ইউসুফকেও। এটা পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে আমরা ধারণা করছি। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য জাকির নামের একজনকে আটক করা হয়েছে।’
পুলিশ সুপার আরও বলেন, ‘ওই বাসার ভেতর থেকে সব দরজা-জানালা আটকানো ছিল। গৃহকর্ত্রীর আলমারি থেকে একটি বা দুটি সোনার চেইন খোয়া গেছে। তবে বিষয়টি নিশ্চিত নয়। এ ঘটনায় মামলা দায়েরসহ অভিযুক্তদের শনাক্ত করে দ্রুত গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। এজন্য জেলা পুলিশের সঙ্গে পিবিআই ও সিআইডি কাজ করছে। হত্যাকাণ্ডের ক্লু খোঁজা হচ্ছে।’
জানা যায়, গত ১১ বছর ধরে কুয়েতের একটি মসজিদে হাফেজ আব্দুর রব ইমামতি করছেন। রবের স্ত্রী মিসরাত জাহান মিশু দুই সন্তান ইফাদ জাহান (৯) ও নূরজাহান এবং শাশুড়িকে নিয়ে ওই বাড়িতে বাস করেন। তার বড় ছেলে ঢাকায় একটি মাদ্রাসায় হাফেজি পড়াশোনা করে। শুক্রবার রাতে ওই ঘরের এক কক্ষে ছিলেন মিসরাত ও তার দুই শিশু সন্তান। নিহত মরিয়মের সঙ্গে একই খাটে ছিলেন ভাতিজী চাখার কলেজের এইচএসসি’র প্রথম বর্ষের ছাত্রী আছিয়া আক্তার। এছাড়া রবের ভগ্নিপতি শফিকুল আলম এবং খালাতো ভাই ইউসুফ পৃথক দুই কক্ষে ঘুমিয়ে ছিলেন।
নিহত শফিকুল আলমের ভায়রা মো. হারুন সিকদার বলেন, ‘আলমের সঙ্গে তার ছোট ভাই শহিদুল ইসলামের জমিজমা নিয়ে বিরোধ চলছে। এর জের ধরে কয়েকদিন আগেও শহিদুলের ছেলে সাবু তাকে মারধরও করেছে। এ কারণে গত তিন দিন আগে স্বরূপকাঠীর নিজ বাড়ি থেকে শ্বশুড়বাড়ি আসেন তিনি। জমি নিয়ে বিরোধের কারণে এ হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে কিনা তা খাতিয়ে দেখার অনুরোধ করছি।’
রবের স্ত্রী মিশু বলেন, ‘আমার আলমারি থেকে সোনা খোয়া গেছে। এর চেয়ে বেশি কিছু জানি না। এমনকি রাতে ওই তিন জনকে হত্যা করা হলেও আমি কিছুই টের পাইনি। ফজরের নামাজ পড়তে উঠে মরদেহ দেখতে পাই।’
নিহত মরিয়মের পাশে ঘুমিয়ে থাকা আছিয়া বলেন, ‘আমিও কিছুই টের পাইনি। ফজরের নামাজ পড়তে উঠে দাদিকে পাশে দেখতে পাইনি। বারান্দায় গিয়ে তার মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে চিৎকার দিই। পরে অপর কক্ষে গিয়ে ফুপা আলম এবং অন্য কক্ষে ইউসুফকে না দেখে বাইরে বের হই। ঘরের পেছনের পুকুরে পাশে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় ইউসুফের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখি। আমার ধারণা, বাসার ছাদ দিয়ে ঘরে ঢুকে এ হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে।’

আছিয়া আরও বলেন, ‘এক সপ্তাহ আগে নিহত ইউসুফের মোবাইল ফোন ঘর থেকে হারিয়ে যায়। এজন্য ওঝা জাকির হোসেনকে (আটক) খবর দেওয়া হয়। তিনি ধ্যানে বসে আমার চাচিকে (মিশু) জানান, আপনার সমস্যা আছে। তা কাটাতে ৬ হাজার টাকা লাগবে। এজন্য চাচি চিন্তিত হয়ে পড়েন। ওঝা আরও বলেন, যেদিন আপনার সমস্যা সমাধান করবো, সেদিন ঘরের সব দরজা-জানালা খোলা রাখতে হবে। কিন্তু টাকা না দেওয়ায় জাকিরের আর ধ্যানে বসা হয়নি।’

এদিকে, রাতে খাবারের সঙ্গে চেতনানাশক ওষুধ দেওয়া হয়েছে কিনা, সে বিষয়টিও খতিয়ে দেখছে পুলিশ। এ ব্যাপারে আছিয়া বলেন, ‘খাবারের সঙ্গে চেতনানাশক মেশালে জ্ঞান হারানোর কথা, মারা যাওয়ার কথা না। তাছাড়া আমরাও তো তাদের সঙ্গে একই খাবার খেয়েছি। তাহলে আমাদেরও তো সমস্যা হওয়ার কথা।’

স্থানীয় বাসিন্দা জাকির হোসেন বলেন, ‘ওই বাসার ছাদে ওঠার জন্য বাসাসংলগ্ন একটি আমগাছ রয়েছে। কিন্তু সেই আমগাছ দিয়ে কেউ ছাদে উঠে ভেতরে প্রবেশ করলে গাছের ডাল ভাঙা থাকতো। না হলেও গাছের পাতা ক্ষতিগ্রস্ত হতো। কিন্তু ওই গাছে এ ধরনের কোনও আলামত পাননি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।’

স্থানীয় বাসিন্দা গোলাম মাহমুদ জানান, আব্দুর রবের পাকা ঘরের সব দরজা-জানালা ভেতর থেকে বন্ধ ছিল। কোনও গ্রিল কাটা কিংবা ভাঙা নেই। ডাকাতির কোনও আলামতও দেখা যায়নি। বিষয়টি রহস্যে ঘেরা।সুত্র- বাংলা ট্রিবিউন

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর







ফেসবুক কর্নার

শিরোনাম
ঝালকাঠির নলছিটিতে রাস্তার ঢালে সবজি চাষের ওপপটুয়াখালীতে ছাত্র ও যুব পরিষদের মানববন্ধন ও ছালাহউদ্দিন সভাপতি, আবদুল্লাহ জুয়েল সম্পাদক অবশেষে বরখাস্ত হলেন আগৈলঝাড়ার সেই শিক্ষকভাণ্ডারিয়ায় খালে মাথাবিহীন যুবকের লাশআল্লামা শফিকে নিয়ে কটুক্তির প্রতিবাদে দৌলতখঝালকাঠির পুলিশ কর্মকর্তা এমএম মাহমুদ হাসানকমৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম এবরিশাল রেঞ্জের শ্রেষ্ঠ পুলিশ সুপার ফাতিহা ইয়বরিশালে ঢাবি সাবেক ভিপি নুরের বিরুদ্ধে মিথ্যনুরের বিরুদ্ধে আরেকটি মামলা২৫ শতাংশ প্রাথমিক বিদ্যালয় খুলে দেয়ার প্রস্তমৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রীর মায়ের মৃত্যুবরিশাল নগরীর মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তারদল থেকে বহিস্কার হচ্ছেন শারমিন মৌসুমি কেকা
%d bloggers like this: