অসময়ের বৃষ্টি \ পটুয়াখালীর তরমুজ চাষিদের স্বপ্ন ভেস্তে

  • আপডেট টাইম : জানুয়ারি ০৫ ২০২০, ১০:৫৫
  • 87 বার পঠিত
অসময়ের বৃষ্টি \ পটুয়াখালীর তরমুজ চাষিদের স্বপ্ন ভেস্তে

‘অনেক স্বপ্ন নিয়া পোলায় (ছেলে) তরমুজ দিছে। এক লাখ টাহা (টাকা) দাদন আইন্না (এনে) তরমুজ দেছে। বৃষ্টিবর্ষায় সব শ্যাষ। এইজন্য বুড়া বয়সে ক্ষ্যাতে (ক্ষেতে) নামছি। লোকজনের লগে ক্ষ্যাত থেকে পানি নামাইন্না কাজ করতাছি।’

এ কথাগুলো বলতে বলতেই কান্নায় ভেঙে পরেন ৭৫ বছর বয়সী নূর ইসলাম হাওলাদার। তিনি পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার ছোটবাইশদিয়া ইউনিয়নের গহিনখালী গ্রামের তরমুজ ক্ষেতে শ্রমিকদের সঙ্গে কাজ করছিলেন। গত দুই দিনের অসময়ের বৃষ্টিতে নূর ইসলামসহ উপজেলার অসংখ্য তরমুজ চাষি বিপাকে পড়েছেন। কোনো ক্ষেতে পানি জমে চারা পচে যাচ্ছে। আবার রোদ ওঠায় কোনো ক্ষেতের পাতা শুকিয়ে গাছ নিস্তেজ হয়ে যাচ্ছে। ফলে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন তরমুজ চাষিরা। কিভাবে ঋণ কিংবা দাদনের টাকা পরিশোধ করবেন, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন তারা।

দক্ষিণাঞ্চলে তরমুজ উৎপাদনে অন্যতম এলাকা হিসেবে পরিচিত এ উপজেলা। এখানকার মানুষের প্রধান অর্থকরী ফসল তরমুজ। লাভজনক ফসল হওয়ায় অধিক লাভের আশায় আগাম তরমুজ আবাদ করেছেন অনেক চাষি। কিন্তু শুক্রবার ও শনিবার কয়েক দফার বৃষ্টিতে চাষিদের সেই আশা এখন নিরাশায় পরিণত হয়েছে। উঠতি তরমুজ চারার ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। শতকরা ৮০ শতাংশ তরমুজ ক্ষেত নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন কৃষি বিভাগ।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে উপজেলায় ১১ হাজার হেক্টর জমিতে তরমুজ আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ৩ হাজার হেক্টর জমিতে তরমুজ আবাদ করা হয়েছে। দুই দিনের বৃষ্টিতে প্রায় ৮০ শতাংশ অর্থাৎ ২৪০০ হেক্টর জমির উঠতি চারার ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে। কৃষকরা জানায়, অসময়ের বৃষ্টির এ অশনি সংকেতের কারণে মৌসুমের শুরুতেই অনেকে তরমুজ চাষাবাদে নিরুৎসাহিত হচ্ছেন।

সরেজমিনে দেখা গেছে, বিস্তীর্ণ কৃষি ক্ষেতজুড়ে উঠতি তরমুজ চারাগুলো পানিতে ডুবে আছে। ক্ষেত থেকে পানি সরাতে কেউ নালা কাটছে, কেউ সেচ করছে। কেউ-বা পাওয়ার পাম্প লাগিয়ে পানি নিষ্কাশনের প্রাণপন চেষ্টা করছে। এর মধ্যে রবিবার সকাল থেকে রোদ ওঠায় সেই কষ্ট অনেকটাই ম্লান হয়ে যায়। কারণ, বৃষ্টির পর রোদে গাছের পাতাগুলো শুকিয়ে নিস্তেজ হয়ে যেতে শুরু করেছে। ফলে দিশেহারা হয়ে পড়েছে চাষি পরিবার।

কথা হয় তরমুজ চাষি টিপু মুন্সির (৩৮) সঙ্গে। তিনি উপজেলার ছোটবাইশদিয়া ইউনিয়নের গহিনখালী গ্রামে ৩০ একর জমিতে তরমুজ চাষাবাদ করেছেন। ক্ষেতে জমে থাকা পানি নিষ্কাশনে ব্যস্ত টিপু মুন্সি বলেন, বৃষ্টিতে কৃষক শেষ। প্রায় ১৪ লাখ টাকার মতো আমার ক্ষতি হইছে। রোদ ওঠার সাথে সাথে গাছ হেলে পড়েছে। এর চেয়ে আকাশ মেঘলা থাকলে কিছু চারা টিকত। ওই গ্রামের আরেক চাষি আরিফ খলিফা বলেন, আমরা যারা কৃষক আছি কেউ ঢাকা, কেউ এলাকা থেকে দাদন নিছি। অনেকে ঋণ করছে। কিন্তু বৃষ্টিতে আমাগো সব ভাসিয়ে নিছে। মোটামুটি চারা ভালোই হইছিল। কিন্তু বৃষ্টি চারার অবস্থা খুব খারাপ। ১০০ চারার মধ্যে ৯০টি চারা ঝাউল্লা (নিস্তেজ) হয়ে গেছে। চারা না বাঁচার সম্ভাবনা বেশি। যাদের চালান (মূলধন) নেই পরের থেকে এনে প্রজেক্ট করছে, তারাতো দ্বিতীয়বার দেওয়ার ক্ষমতা নাই।

স্থানীয় তরমুজ চাষিরা জানায়, এবার ঘূর্ণিঝড় বুলবুলে আমনের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। আর বাজারদরও মন্দা থাকায় কৃষকের মাথায় হাত পড়েছে। সেই ক্ষতি পুষিয়ে উঠতে বুকভরা স্বপ্ন নিয়ে তরমুজ চাষ করেছে অনেকে। কিন্তু অকাল বৃষ্টিতে সেই স্বপ্ন ফিকে হয়ে গেছে। লাভতো দূরের কথা, ঋণ কিংবা দাদনের টাকা পরিশোধ করা নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছে তারা। উপজেলার ছোটবাইশদিয়া ইউনিয়নের সাজির হাওলা গ্রামের চাষি রাতুল হাওলাদার বলেন, দুঃখ কষ্টে অনেক চাষি ক্ষ্যাতের (ক্ষেতের) ধারে আয় না। পৌষ মাসে বৃষ্টি ওইবে (হবে) কেউ ভাবে নাই। কৃষক এইবার মাঠে মাইর খাইছে।

এ বৃষ্টিতে শুধু তরমুজের নয়, রবিশস্যেরও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। কৃষি বিভাগের তথ্য মতে, খেশারি ৪৫০ হেক্টর, ফেলন ডাল ২২০০ হেক্টর, গোল আলু ২২ হেক্টর, মরিচ ৩০ হেক্টর, সবজি ৩৫০ হেক্টর, সরিষা ৫ হেক্টরসহ অন্যান্য সব রবিশস্যের শতকরা ৫০ শতাংশ ক্ষতির আশঙ্কা করছেন কৃষি বিভাগ।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) আব্দুল মান্নান বলেন, সামনে আর বৃষ্টি না হলে তরমুজ ক্ষেতের ক্ষতির পরিমাণ কমবে বলে আশা করছি। তরমুজসহ অন্যান্য রবিশস্যের ক্ষতির পরিমাণ যাতে কমানো যায়, সে বিষয়ে কৃষকদের মাঠপর্যায় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর







ফেসবুক কর্নার

শিরোনাম
কাসিমপুর কারাগারে কয়েদি পোশাকে রিফাত শরীফ হতবানারীপাড়ায় বিশ্ব নবীকে নিয়ে ব্যঙ্গ করার প্রকলাপাড়ায় বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে তৌহিদীপটুয়াখালীতে ১২ রবিউল আউয়াল পবিত্র ঈদ-ই-মিলাদবিশ্বনবীর ব্যঙ্গচিত্র প্রদর্শনের প্রতিবাদেশাওন- পঙ্কজসহ ৮ এমপির বিপুল সম্পদ, তদন্তে সত্যডি আই জির বানীবেতাগীর আলোচিত বজলু হত্যা মামলার ২ নম্বর আসাআজ পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.)ষষ্ঠ-নবম শ্রেণির সংক্ষিপ্ত সিলেবাস প্রকাশহিজলায় বোমা বানাতে গিয়ে উড়ে গেল যুবকের হাতের বরগুনা থেকে বরিশাল কারাগারে রিফাত হত্যার ফাঁমধ্যরাতে শেবাচিম হাসপাতালের জরুরি বিভাগের তবানারীপাড়া পৌরসভার ২নং ওয়ার্ডে দূর্বার গতিত
%d bloggers like this: