বরিশাল শিক্ষা বোর্ড

শেষ পর্যন্ত বিদায় নিতেই হচ্ছে আজাদ ফারুককে

  • আপডেট টাইম : ফেব্রুয়ারি ২০ ২০২০, ২৩:২১
  • 385 বার পঠিত
শেষ পর্যন্ত বিদায় নিতেই হচ্ছে আজাদ ফারুককে

স্টাফ রিপোর্টার \ কর্মচারী থেকে একে একে প্রমোশন বাগিয়ে নিতে নিতে হলেন সহকারী পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক। কিন্তু চোখতো আরও উপরে। চাইলেন ডেপুটি কন্ট্রোলার পদ। সরাসরি তা নাকচ হল। অভিমান করে অবসরে যাবার পত্র দিলেন। কর্মচারী নেতাদের মধ্যস্থতায় ডেপুটি কন্ট্রোলারের পরিবর্তে সহকারী সচিব হয়ে মনে করলেন “যাক বাবা- সন্মানতো রইল”। কিন্তু ভিতরে ভিতরে যে উই পোকায় কাপড় কাটছে সেটি টের পেলেন না। ঠিক এক মাসের মাথায় তার অবসরে যাবার স্বেচ্ছায় দেয়া পত্রটি গ্রহন করে ফেললেন বোর্ড চেয়ারম্যান। মাথায় বাজ পড়ার মত অবস্থা। তার অবসরের বিষয়টি গ্রহন করে তাকে যে চিঠি কর্তপক্ষ দিলেন তা গ্রহন করলেন না। ছুটে গেলেন দলীয় নেতাদের কাছে। তারপর দক্ষিণ বাংলার আওয়ামীলীগের অভিভাবকের কাছে। কিন্তু কেউ সাড়া দিলেন না তার আর্তিতে। শেষমেশ তিনি বিদায় নিচ্ছেন বলে নির্ভরযোগ্য সুত্র নিশ্চিত করেছে। বোর্ডের চিঠিও তিনি অবশেষে গ্রহন করেছেন।
১৯৯৯ সালে বরিশাল শিক্ষা বোর্ড প্রতিষ্ঠা হবার পরপরই যশোর বোর্ড থেকে তৃতীয় শ্রেণীর কর্মচারী হিসাবে যোগদান করেন আজাদ ফারুক। যশোর বোর্ড থেকে এসেছেন অভিজ্ঞতার ঝুলি নিয়ে, তাই সদ্য প্রতিষ্ঠা হওয়া বরিশাল বোর্ডের নতুন কর্মচারীদের সমীহ আদায় করতে সময় নেননি। তিনি নিজের হাতে গড়লেন শিক্ষা বোর্ড কর্মচারী সংঘ। নেপথ্যে থেকে প্রতিবারই নতুন নেতৃত্ব বাছাই করলেন। বোর্ডের কর্মচারী হয়েও তার হাতে তার এলাকায় প্রতিষ্ঠা হল স্কুল কলেজ। প্রভাবশালী থেকে হয়ে উঠলেন আরও ক্ষমতাবান। সহকারী বিদ্যালয় পরিদর্শক হিসাবে নিয়োগ পাওয়া বিসিএস ক্যাডারকে যোগ না দিতে কর্মচারী সংঘকে মাঠে নামালেন। রুমে পড়ল তালা। এ ঘটনায় ফুসে উঠে বরিশালে বিভিন্ন সরকারী কলেজে কর্মরত ক্যাডাররা। মাঠে নামে শিক্ষক সমিতিও। কিন্তু কিসের কি? তখন কর্মচারী সংঘ এতটাই বেপরোয়া যে কয়েকটি ঘটনারই তার প্রমান। এই কর্মচারী সংঘের হাতেই লাঞ্ছিত হলেন মাটির মানুষ হিসাবে খ্যাত সাবেক এক পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক। বোর্ডে প্রায় স্থায়ী হওয়া সাবেক বিদ্যালয় পরিদর্শকও বাদ গেলেন না। কর্মচারী সংঘ নামলো চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে। এই বোর্ডেই শ্লোগান উঠল – চেয়ারম্যানের চামরা , তুলে নেব আমরা। গুঞ্জন রয়েছে এ সব কিছুর পিছনে ছিল তার হাত। এরপর কর্মকর্তারা তাকে প্রমোশন দিতে বাধ্য হলেন। তিনি হলেন সহকারী পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক। অথচ তার সম সাময়িক কয়েকজন কর্মচারীকে প্রমোশন নিতে আদালত পর্যন্ত যেতে হয়েছে। আজাদ ফারুকের জন্য কোন বাধাঁই বাঁধা ছিল না। ডেপুটি কন্ট্রোলার অরুণ কুমার গাইনকে যখন পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক পদে প্রমোশন দেয়া হল- ব্যাস, শূণ্য পদটিতে চোখ গেল তার। তবে এটি ক্যাডার ভিত্তিক পদ হওয়ায় এবার বেকে বসলেন বোর্ডের কর্মকর্তারা। তার ইচ্ছেটা অপুর্ন থেকে গেল। আর তখনই প্রভাবশালী এ নেতা অভিমানে অবসরে যাবার লিখিত ঘোষণা দিয়ে দিলেন। কেন?
সুত্র মতে বর্তমান কর্মচারী সংঘের কিছু নেতা তার কথায় উঠবস করলেও তারাও চাচ্ছিল না আজাদ ফারুকের নেতৃত্ব। অপর দিকে শীর্ষ বোর্ড কর্মকর্তারা আজাদ ফারুকের খবরদারীতে বিরক্ত ছিলেন। জানা গেছে আজাদ ফারুকের অবসরে যাবার চিঠি গ্রহনের আগে রাজনৈতিক বিষয়টি গভীরভাবে বিশ্লেষণ করেন তারা। এ ব্যাপারে কয়েক দফা বৈঠক করে আজাদ ফারুকের কাছেরজনদের মনোভাব জেনে নেয়া হয়। তারপর রাজনৈতিক শীর্ষ নেতাদের পরিস্থিতি জানানো হয়। সুত্র মতে এ ক্ষেত্রে সাবেক এক বোর্ড চেয়ারম্যান অগ্রনী ভ‚মিকা পালন করেন বলে গুঞ্জন রয়েছে। সব দিক দিয়ে সবুজ সংকেত পাওয়ার পরপরই চিঠির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়ার নির্ধারিত একমাসের শেষ দিনে চিঠিটি গ্রহন করা হয়। যেটি আজাদ ফারুক ঘূর্নাক্ষরেও টের পাননি। কেননা তার আত্মবিশ্বাস ছিল তুঙ্গে। তিনি মনে করেছিলেন, শ্রমিক সংঘ যেমন তার সাথে আছে, তেমনি রাজনৈদিতক সহায়তাও পাবেন। সেটিও ছিল আরেক ভুল। আত্ম বিশ্বাস নিয়ে নিয়ে বোর্ডের চিঠিও গ্রহন করেনি নি। এমনকি বোর্ডের চিঠির পরও তিনি রোজ অফিসেও আসতেন।
জানা গেছে বরিশালের শীর্ষ আওয়ামীলীগ নেতার বাড়ি ছুটে যান। সাথে কয়েকজন শ্রমিক সংঘের নেতাও ছিলেন। কিন্তু বিচক্ষণ এই নেতার সাথে আজাদ ফারুক দেখা করতে পারেননি। তখনই তিনি বুঝতে পারেন, তার বিদায় আসন্ন। শ্রমিক সংঘের যাদের তিনি হাতে গড়ে নেতা বানিয়েছেন তারাও কোন প্রকার আন্দোলনে না যাওয়ায় চরম হতাশ হলেন তিনি। তার অভিমান আরও তীব্র হয়। জানা গেছে এরপরপরই আজাদ ফারুক বোর্ডের রেজিষ্ট্র ডাকে পাঠানো চিঠি গ্রহন করেন। এবার তিনি পেনশনের টাকার জান্য আবেদন করবেন বলে জানা গেছে। বরিশাল শিক্ষা বোর্ড শেকে শেষমেষ বিদায় তাকে নিতেই হচ্ছে।

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর

হালিমা খাতুন স্কুলের ভর্তি বিজ্ঞপ্তি, বরিশাল







ফেসবুক কর্নার

শিরোনাম
বরিশালে কর্তব্যরত অবস্থায় সড়ক দুর্ঘটনায় ভোলায় স্বামীকে কুপিয়ে হত্যা করে দা নিয়ে বসে ছবাকেরগঞ্জে চাচাতো ভাইয়ের হামলায় যুবক নিহতবরগুনায় দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ২পটুয়াখালীতে লঞ্চের স্টাফ কেবিনে মিলল নারীর মআরেকটি স্বপ্ন পূরণ হচ্ছে দক্ষিণাঞ্চলের মানুবরিশালে পাচারকালে ৫০ বস্তা সার জব্দস্ত্রীকে হত্যার পর থানায় স্বামীর আত্মসমর্পণমেয়ের চিকিৎসার টাকা জোগাড় করতে না পেরে দিনমসততার পুরুস্কার পে‌লেন ব‌রিশাল জেলা শিক্ষা অরাসেল বেঁচে থাকলে সেনাবাহিনীর বড় অফিসার হতো শেখ রাসেলের জন্মদিন আজহচ্ছে না পিইসি ও ইবতেদায়ি পরীক্ষালালমোহনে কুকুরের কামড়ে এক সপ্তাহে ১৫ জন হাসপ‘রাসেল বেঁচে থাকলে একজন মহানুভব, দূরদর্শী ও আ
%d bloggers like this: