‌নিহত ২৪

জ্বল‌ছে দি‌ল্লি

  • আপডেট টাইম : ফেব্রুয়ারি ২৭ ২০২০, ০০:৩৫
  • 73 বার পঠিত
জ্বল‌ছে দি‌ল্লি

চতুর্থ দিনে গড়িয়েছে দিল্লির সহিংসতা। প্রাথমিকভাবে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (সিএএ) নিয়ে সমর্থক ও বিরোধীদের মধ্যে সংঘর্ষ হিসেবে পরিচিতি পেলেও ক্রমেই তা ভিন্ন রূপ নিয়েছে। মুসলিমদের ওপর চালানো হচ্ছে সংঘবদ্ধ হামলা। পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে মসজিদ, মাদ্রাসা ও দোকানপাট। ঘটেছে ঘরে ঢুকে হামলা চালানোর ঘটনা। সর্বশেষ প্রাপ্ত খবর অনুসারে, গত রোববার শুরু হওয়া দাঙ্গায় প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ২৪ জন। আহত হয়েছেন ১৮০ জনেরও বেশি। নিহতের মধ্যে এক গোয়েন্দা ও এক পুলিশ সদস্যও রয়েছেন।

গত কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি বিরাজ করছে শহরটিতে।পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কর্তৃপক্ষের নিষ্ক্রিয়তা ব্যাপক সমালোচনার শিকার হয়েছে। ক্ষমতাসীন দল ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) একাধিক নেতার বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করতে নির্দেশ দিয়েছেন দেশটির সুপ্রিম কোর্ট। নিষ্ক্রিয়তা ও হামলাকারীদের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে সুপ্রিম কোর্টের ভর্ৎসনার শিকার হয়েছে দিল্লি পুলিশ। ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বিজেপি সভাপতি অমিত শাহ’র পদত্যাগের দাবি ওঠেছে। তিনদিন পর দাঙ্গা নিয়ে প্রথমবার মুখ খুলেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। পরিস্থিতি শান্ত করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। তবে এখনো সেখানে বিরাজ করছে তীব্র উত্তেজনা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবি ও ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে কয়েকদিনের লোমহর্ষক দৃশ্য। সেগুলোতে দেখা যায়, মূলত হিন্দুত্ববাদীরা সাংবাদিকসহ নিরস্ত্রদের পেটাচ্ছে। রড, লাঠি ও পাথর নিয়ে রাস্তায় দলে দলে মুখোমুখি সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ছে হিন্দু ও মুসলিমরা। অনেক এলাকায় প্রবেশাধিকার নিষিদ্ধ করে দেয়া হয়েছে।

বুধবার করা টুইট বার্তায় প্রধানমন্ত্রী মোদি সবার প্রতি সমপ্রীতি বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন। এতে তিনি বলেন, শান্তি ও সমপ্রীতি ভারতীয় সংস্কৃতির মূল কথা। দিল্লির ভাইবোনদের কাছে অনুরোধ, সর্বদা শান্তি এবং সৌভ্রাতৃত্ব বজায় রাখুন। যত দ্রুত সম্ভব দিল্লিতে শান্তি এবং স্বাভাবিক অবস্থা ফিরে আসা জরুরি। অশান্ত পরিস্থিতি নিয়ে তিনি পর্যালোচনা বৈঠক করেছেন। জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভালকে পরিস্থিতি সামাল দেয়ার দায়িত্ব দিয়েছেন। মঙ্গলবার মধ্যরাতে দোভাল উপদ্রুত এলাকা পরিদর্শন করেছেন। বৈঠক করেছেন পুলিশের কর্মকর্তাদের সঙ্গেও। এদিন সকালে প্রধানমন্ত্রীকে গোটা পরিস্থিতি জানিয়েছেন। এরপরেই নিরাপত্তা সংক্রান্ত কেবিনেট কমিটির বৈঠক ডাকা হয়। সেখানে দিল্লির সহিংস পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। ১৪৪ ধারা এবং কারফিউ জারি করেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা যাচ্ছে না। এমনকি উপদ্রুত এলাকায় দেখামাত্র গুলির নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এর আগে গত সোমবার এক পুলিশের হেড কনস্টেবলের মৃত্যু হয়েছে।

এদিকে, দিল্লি পরিস্থিতিকে উদ্বেগজনক বলেছেন মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়ালও। তার দাবি, পুলিশ সহিংসতা নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম হচ্ছে না। তাই সেনা নামানো উচিত। বুধবার সকালে তিনি এ কথা বলেন। এর আগের দিন তিনি সাক্ষাৎ করেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে। তাকে দিল্লি সহিংসতার বিষয়ে অবহিত করেন এবং বলেন, সংঘাত বন্ধে পুলিশ কিছু করতে পারছে না। তাই কেজরিওয়ালের পরামর্শ সেনাবাহিনী নামানো উচিত। সকালে এক টুইটে তিনি বলেছেন, সারা রাত বিপুল সংখ্যক মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি আমি। পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। সব চেষ্টা সত্ত্বেও পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম হচ্ছে না। তাই সেনাবাহিনী নামানো উচিত। সহিংস এলাকাগুলোতে অবিলম্বে কারফিউ দেয়া উচিত। এ নিয়ে আমি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে লিখছি।

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর

হালিমা খাতুন স্কুলের ভর্তি বিজ্ঞপ্তি, বরিশাল







ফেসবুক কর্নার

শিরোনাম
%d bloggers like this: