পটুয়াখালীতে পেট্রোল দিয়ে পুড়িয়ে স্ত্রীকে হত্যা॥ ঘাতক স্বামী আটক॥ বিচারদাবীতে মানববন্ধন

  • আপডেট টাইম : মার্চ ০৮ ২০২০, ১৯:৩৫
  • 785 বার পঠিত
পটুয়াখালীতে পেট্রোল দিয়ে পুড়িয়ে স্ত্রীকে হত্যা॥ ঘাতক স্বামী আটক॥ বিচারদাবীতে মানববন্ধন

পটুয়াখালী প্রতিনিধিঃ পটুয়াখালীতে দুই শিশু সন্তানের সামনে স্ত্রী কনা আক্তার(২৪) কে দুই
হাত বেঁধে শরীরে পেট্রোল দিয়ে আগুন দিয়ে হত্যা করা নেশাখোর স্বামী। স্ত্রী হত্যার অভিযোগে পুলিশ মাদকাসক্ত স্বামী আবুল বাশার (৩০)কে আটক করে জেলে পাঠিয়েছে। এঘটনার বিচারের দাবীতে
রোববার পটুয়াখালী প্রেসক্লাব চত্বরে মানববন্ধন কর্মসূচী পালন করে এলাকাবাসী। পটুয়াখালী সদর উপজেলার মধ্য টেংরাখালী গ্রামে এঘটনা
ঘটে। ঘটনার পর থেকে শ্বশুর ইসমাইল মৃধা পলাতক রয়েছে। সদর উপজেলার মাদারবুনিয়া ইউনিয়নের হাজিখালী গ্রামে দরিদ্র প্রতিবন্ধী সিরাজ
মৃধার মেয়ে এই কনা আক্তার।

নিহত ওই গৃহবধুর পিতা প্রতিবন্ধী সিরাজ মৃধা ও তার স্ত্রী মালেকা বেগম জানান, গত সোমবার (২ মার্চ) পরিবারের সকলে মিলে দুপুরের খাবার খেতে বসে। এসময় ডাল রান্না খারাপ হওয়ার অজুহাত তুলে শ্বশুর ইসমাইল মৃধা পুত্রবধু কনাকে বকাঝকা করে। এসময় মাদকাসক্ত স্বামী বাশার তার পিতার
সাথে মিলে স্ত্রীকে মারধর শুরু করে। একপর্যায় স্বামী ক্ষিপ্ত হয়ে কনার হাত-পা বেধে মটরসাইকেলে ব্যবহৃত ঘরে রাখা পেট্রোল কনার শরীরে ঢেলে
আগুন ধরিয়ে দেয়। এতে কনা অগ্নী দগ্ধ হয়ে বাড়ীর আঙিনার পাশের একটি ছোট জলাশয়ে নেমে ডাকচিৎকার শুরু করে। কনার ডাকচিৎকারে
প্রতিবেশিরা এগিয়ে এসে কনাকে উদ্ধার করে। ততক্ষনে কনার সমস্ত শরীর পুড়ে উলঙ্গ হয়ে যায় বলে প্রতিবেশিরা জানায়। উদ্ধারের পর প্রতিবেশিরা
কনাকে পটুয়াখালী ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যায়। চিকিৎসকরা কনার অবস্থার অবনতি দেখে বরিশাল প্রেরন করেন।

ঘটনার দুই দিনের মাথায় বরিশাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কনাকে ঢাকা মেডিকেলে প্রেরন করেন। ঢাকা মেডিকেলে ৫ দিন চিকিৎসার পর শুক্রবার (০৬ মার্চ) সন্ধ্যায় মারা যায়। খবর পেয়ে পটুয়াখালী সদর থানা পুলিশের একটি দল ঢাকা মেডিকেলের সামনে থেকে কনার স্বামী বাশারকে আটক করে এবং কনার মৃতদেহ উদ্ধার করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে।

রোববার সরেজমিনে ঘটনাস্থলে গেলে প্রতিবেশিরা জানায়-ছয় বছর পূর্বে আবুল বাশার কনাকে দ্বিতীয় বিবাহ করে। বর্তমানে চার বছরের নোমান ও ১৬ মাসের নোহান নামে দুই শিশু পুত্র রয়েছে। বিবাহের পর থেকেই কনাকে ব্যাপক নির্যাতন করতো স্বামী বাশার। আর এই নির্যাতনে সহায়তা করতেন কনার শ্বশুর ইসমাইল মৃধা। কনা বাশারের দ্বিতীয় স্ত্রী। ছয় বছর পূর্বে প্রথম স্ত্রী জেসমিন আক্তার শ্বশুর স্বামীর
নির্যাতন সইতে না পেরে পিত্রালয়ে চলে যায় বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ। এলাকাবাসী আরো জানান-স্বামী প্রতিনিয়ত মাদক সেবন করে স্ত্রী কনাকে মারধোরসহ অসহনীয় ভাবে নির্যাতন করতো। বাশার পেশায় একজন ভারাটে মটর সাইকেল চালক ছিলেন। এঘটনায় স্থানীয় ভাবে
একাধিকবার শালিস বৈঠক হয়েছে। নিহত গৃহবধুর শ্বাশুরী নুরজাহান বেগম জানায়-ঘটনার সময় তিনি পাশের বাড়ীতে ছিলেন। খবর পেয়ে এসে দেখে তার পুত্রবধুর আগুনে জ্বলছে। লোকমুখে তিনি শোনেন-তার ছেলে কনার স্বামী আগুন দিয়েছে। পটুয়াখালী সদর থানার অফিসার ইনচার্জ মোস্তাফিজুর রহমান জানায়, এ ঘটনায় রোববার সদর থানায়
একটি মামলা দায়ের হয়েছে। স্বামী বাশারকে আটক করা হয়েছে। এঘটনায় মামলা হয়েছে। অন্য আসামীকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। এদিকে রবিবার সকালে প্রেসক্লাবে নিহত কনার বাপের বাড়ি হাজিখালী এলাকার দুই শতাধিক নারী পুরুষ ঘাতকদের সর্বোচ্চ শাস্তি ফাঁসি দাবী করে মানববন্ধন করে। এ সময় কনার প্রতিবন্ধী বাবা ও মা হাউমাউ করে কেদে কেদে তাদের মেয়ে হত্যার বিচার দাবী করে। এ ছাড়াও বিচার দাবী করে বক্তব্য রাখেন হাজী আক্কেল আলী কলেজের অধ্যক্ষ কবি
সাহিত্যিক মাসুদ আলম বাবুল, এলাকার মোঃ মাসুম মৃধা, শহিদুল গাজী দুখু, কনার খালা হোসনে আরা, চাচাতো বোন শারমিন, শিক্ষিকা নাজমুন নাহার, বড় ভাই বাহাদুর মৃধা প্রমুখ।

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর







ফেসবুক কর্নার

শিরোনাম
নগরীর ভাটিখানায় গোডাউনে দুর্বৃত্তদের হামলা মাস্ক ছাড়া সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে প্রবজেলে নিহত হওয়ার ১৯ মাস পরে ২ জলদস্যু গ্রেপ্তাসরকারী ঢেউটিন আত্মসাতের অভিযোগে এমপি মনিসহ দপটুয়াখালীতে জামাই খুন ॥ মূল পরিকল্পনাকারী শ্কলাপাড়ায় সাবেক ইউপি সদস্য হত্যা মামলার তিন আগৌরনদীতে টিএম ইউনুস ও বিভাগীয় কমিশনারের সহধআগৈলঝাড়ায় ছিনতাই কালে কিশোর গ্যাংয়ের ৬ সদস্যমার খেলেন, বিচার চাইলেন, বহিস্কারও হলেনগলাচিপায় পূজা মন্ডপ পরিদর্শন করলেন এমপি – শঝালকাঠি মহানবমী পূজা অনুষ্ঠিত, ডিসি এসপির পরআলু শূন্য ঝালকাঠির বাজারকলাপাড়ায় সাংসদ মহিব’র পূজা মন্ডপ পরিদর্শনবরিশালের ২১টি পূজা মন্ডবের নিরাপত্তার দায়িতসাংবাদিক ফাহিম ফিরোজের পিতার মৃত্যু
%d bloggers like this: