পাবজি মানবজীবনের জন্য কতটা ঝুঁকিপূর্ণ?

  • আপডেট টাইম : আগস্ট ০২ ২০২০, ১৮:০৮
  • 283 বার পঠিত
পাবজি মানবজীবনের জন্য কতটা ঝুঁকিপূর্ণ?

অনলাইন ডেস্ক।। পাবজি! প্লেয়ার্স আননোন ব্যাটেল গ্রাউন্ড! বর্তমান সময়ের সবচেয়ে জনপ্রিয় অনলাইলন গেম। বর্তমানে উপমহাদেশে কয়েকগুণ বেড়েছে এই গেমের জনপ্রিয়তা। মোবাইল এবং কম্পিউটার দুটোতেই খেলা যায় এই গেম। তবে উপমহাদেশে পাবজির কম্পিউটার ভার্সনের থেকে মোবাইল ভার্সনটিই বেশি জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।

মোবাইল ফোনের সহজলভ্যতা এবং হাতের নাগালের মধ্যে থাকা ইন্টারনেটের কারণেই এই গেমটির জনপ্রিয়তা আকাশচুম্বী। বর্তমানে এই গেমে অত্যধিক আসক্ত হয়ে পড়ছে শিশু থেকে শুরু করে কিশোর এবং তরুণরাও।

অন্যান্য ব্যাটেল রয়্যাল গেমের মতোই পাবজিও অনেক বেশি হিংস্র গেম। এবং এর ভয়াবহতা এতই বেশি যে শিশু এবং কিশোরদের মধ্যে এক প্রকার ক্ষিপ্রতা সৃষ্টি করে এই গেম। অত্যধিক মাত্রায় হিংস্রতা থাকায় ১৩ বছরের কম বয়সীদের জন্য এই গেমটি নিষিদ্ধ। অতিরিক্ত হিংস্রতা শিশু-কিশোরদের মধ্য বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। এবং পরবর্তী জীবনে শিশুদের হিংস্র করে তুলতে পারে এই গেম।

ইফতিহাজ হোসাইন, চট্টগ্রামের একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রণীর ছাত্র। সপ্তম শ্রেণীতে পড়ার সময় বন্ধুদের মাধ্যমে প্রথম ‘পাবজি’ গেমটির সঙ্গে পরিচয়। একটু একটু করে খেলতে খেলতে এখন সে পুরোপুরি আসক্ত। যার ফলে পরিবার ও স্বজনদের থেকে নিজেকে অনেকটা আলাদা করে রাখে এবং মোবাইল ফোন নিয়ে পড়ে থাকে। সারাদিন তার সময় কাটে গেম খেলেই।

এ নিয়ে জানতে চাইলে ইফতি বলেন, এ গেম একা ও গ্রুপে খেলা যায়। মাঠে অনেকগুলো টিম ছাড়া হয়। সবাইকে মেরে যে বেঁচে থাকবে সেই জয়ী হয়। বেশিরভাগই গ্রুপে খেলতে পছন্দ করে। শুরুর দিকে আমি একা খেললেও এখন টিম বানিয়ে খেলি। গ্রুপ করে খেলতে গেলে ওভার ফোনে ইনস্ট্রাকশন দিতে হয়। মানে একা বসে বসে কথা বলার মতো। আবার খেলার সময় যেন কেউ বিরক্ত না করে সেজন্য একা থাকতে হয়। মানে অন্য কোথাও মনোযোগ দেওয়া যাবে না।

এ ধরনের আসক্তি বিষয়ে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এসব গেমে আসক্তির কারণে কিশোররা পারিবারিক, সামাজিক অবস্থান থেকে বিচ্যুত হয়ে যাচ্ছে। খেলার এক পর্যায়ে এসে তারা ভায়োলেন্ট হয়ে যেতে পারে। এমনকি এটি আলোচিত আরেক ‘ব্লু হোয়েল’ গেমের মতো কোনো পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে।

কেবল শারীরিক ক্ষতির কারণই নয় এই পাবজি গেমটি। সেই সাথে মানসিক রোগের কারণও হতে পারে এই গেমটি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডাব্লিউএইচও) এক গবেষণার পর জানিয়েছে ভিডিও গেমে আসক্তি এক ধরণের মানসিক রোগ। ভিডিও গেমগুলো একজন খেলোয়াড়ের ডিপ্রেশনের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

শারীরিক মানসিক রোগের সাথে সাথে পাবজি গেমটি একজন শিশু কিংবা কিশোরের উপর সামাজিক মূল্যবোধের জন্য বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। গেমটি যেহেতু একটি জায়গাতেই আটকে থেকে খেলতে হয় সেহেতু এই গেম খেলা মানুষটি সামাজিকভাবে খুব বেশি সংযুক্ত থাকতে পারে না। আর এই কারণে সামাজিক মূল্যবোধের সাথে সমাজের আচার ব্যবহার থেকেও ধীরে ধীরে দূরে সরে যেতে হয় সেই মানুষটিকে। সর্বোপরি একটা সময় একাকীত্ব বরণ করতে হয় তাদেরকে।

এই গেমটি অতিরিক্ত খেলার কারণে চোখের সমস্যাও হতে পারে। আর সেই সাথে দেখা দেয় ঘুমের ঘাটতিও। কম্পিউটার কিংবা মোবাইলের স্ক্রিনে বেশি সময় ধরে তাকিয়ে থাকার কারণে চোখের ক্ষতি হতে পারে। আর চোখের সমস্যার সাথে সাথে ঘুমেরও ঘাটতিতে পড়ে এই গেম খেলা মানুষগুলি।

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর

হালিমা খাতুন স্কুলের ভর্তি বিজ্ঞপ্তি, বরিশাল







ফেসবুক কর্নার

শিরোনাম
ভোলার দৌলতখানে বিনে পয়সায় রোগী দেখছেন ডাঃ রা১২ বছর ও তদূর্ধ্ব ছাত্র-ছাত্রীদের টিকার ব্যবসোহাগ হত্যা মামলা / দুই জনের ফাঁসি ঃ ৪ জনের যাবট্রাক-কাভার্ড ভ্যান শ্রমিকদের ৪৮ঘণ্টা কর্মবআবারো ভেঙে পরলো ব্রিজ ঃ বরিশালের সাথে ৩ রুটেরলেবুখা‌লি সেতু‌ প্রধানমন্ত্রী উদ্বোধন কর‌ববরিশালে নদীগর্ভে বিলীন হতে চলেছে জৈনপুরী বড় নিজের অফিসে গাড়ি কেনার টাকা স্বাস্থ্যসেবায় দখালেদা জিয়ার মুক্তির মেয়াদ বাড়ছে ৬ মাসকুয়াকাটায় সমুদ্রে ১৫ জেলেসহ মাছধরা ট্রলার ডু৭ শতাংশে নামলো করোনায় শনাক্তের হারবরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে আগুন লাগার গুজব ছড়িবঙ্গোপসাগরে সামুদ্রিক সম্পদ জলজ স্তন্যপায়ী লঞ্চঘাট বানান ভুল নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে ক্ষোভনিখোঁজের দু’দিন পর মাঝির মরদেহ উদ্ধার
%d bloggers like this: