বাকেরগঞ্জে ভিজিডি’র উপকার ভোগী নারীরা ১৮ মাস যাবৎ চাল বঞ্চিত

  • আপডেট টাইম : জুন ২৭ ২০২০, ১৬:১৪
  • 729 বার পঠিত
  • আপডেট টাইম : জুন ২৭ ২০২০, ১৬:১৪
  • 729 বার পঠিত
বাকেরগঞ্জে  ভিজিডি’র উপকার ভোগী নারীরা ১৮ মাস যাবৎ চাল  বঞ্চিত

শামীম আহমেদ. \

বরিশাল জেলার বাখেরগঞ্জ উপজেলার ৭নং কবাই ইউনিয়নে ভিজিডি’র উপকার ভোগী মহিলাদের চাল আত্মসাৎ ও অসহায় কর্মহীনদের আর্থিক সাহায্যের বরাদ্দকৃত অর্থ লুটপাটের অভিযোগে সংবাদ স‌ম্মেলন ক‌রে‌ছে ব‌ঞ্চিত না‌রিরা।

ভিজিডি’র তালিকায় নিজের নাম ও স্বামীর নাম থাকলেও ঠিকানা পরিবর্তন করে অন্য কোন ব্যাক্তির মাধ্যমে এই সুবিধা আত্মসাৎ করা হচ্ছে। এছাড়াও অসহায় কর্মহীনদের আর্থিক সাহায্যের বরাদ্দকৃত অর্থ লুটপাটের জন্য মোবাইল নম্বর পরিবর্তন করে দেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

দির্ঘ ১৮ মাস ধরে ভিজিডি’র উপকার ভোগী মহিলারা এই চাল পাওয়া থেকে বঞ্চিত রয়েছে।

এমন অভিযোগ এনে আজ শনিবার (২৭ই) জুন সকাল সাড়ে ১১টায় বরিশাল রিপোর্টার্স ইউনিটি কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সংবাদ সম্মেলন করেন বাকেরগঞ্জ উপজেলার ৭নং কবাই ইউনিয়নে ভিজিডি’র উপকার ভোগীরা। উপকার ভোগীদের পক্ষে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন, ভুক্তভোগী ওই এলাকার মোঃ কামাল উদ্দিন সিকদারের স্ত্রী আমিনা বেগম।

তিনি বলেন, বর্তমান সরকার দুই বছর মেয়াদী অসহায় দুস্থ নারীদের জন্য প্রতি মাসে ৩০ কেজী করে ভিজিডি চাল বিতরন কার্যক্রম শুর“ করে। সেই হিসেবে আমরা ৭নং কবাই ইউনিয়নের দুস্থ অসহায় নারীরা এই চাল পাওয়া থেকে বঞ্চিত।

দির্ঘদিন প্রায় ১৮ মাস ধরে সরকারের এই কার্যক্রমে আমাদের নাম রয়েছে যা আমরা জানতাম না। একাধিকবার স্থানীয় চেয়ারম্যান জহির“ল হক তালুকদার ও প্যানেল চেয়ারম্যান আরাফাত ইসলাম এর কাছে গিয়েও আমরা ফিরে এসেছি। তারা আমাদের আশ্বাস নয় বরং তালিকায় নাম নেই বলে ফিরিয়ে দিয়েছে। পরে একটি মাধ্যমে আমরা জানতে পারি আমাদের নামে বরাদ্দকৃত চাল ঠিকানা পরিবর্তন করে নেয়া হচ্ছে। ওই তালিকার ১৯ নং সিরিয়ালে আমার (আমিনা) নাম আছে।

তিনি বলেন, আমরা উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে তালিকা সংগ্রহ করে এবিষয়ে নিশ্চিত হই। সেখানে আমি একা নই। আমার মত ১১১ নং সিরিয়ালে লক্ষিপাশা গ্রামের ফার“ক সিকদারে স্ত্রী মোসাঃ হাওয়া বেগম, ১৮৮ নম্বরের আমেনা বেগম, ১৮৯ নম্বরের আকলিমা সহ আমেনা বেগম, আসমা রয়েছে। এছাড়াও আরো অনেকে রয়েছে যাদের প্রত্যেকের নিজের, স্বামী , পিতার নাম ঠিক থাকলেও ঠিকানা পরিবর্তন করে কার্ড বিতরন করা হয়েছে।

অপরদিকে অসহায় কর্মহীনদের আর্থিক সাহায্যের বরাদ্দকৃত ২৫০০ টাকা দেয়ার জন্য প্রত্যেকের কাছ থেকে ভোটার ইউডি কার্ড সংগ্রহ করা হয়।

সেখানেও মোবাইল নম্বর পাল্টে দিয়ে টাকা তুলে নিচ্ছে।

চুরান্ত তালিকায় অনুসারে খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, তালিকায় ৬৮৯ নম্বর সিরিয়ালের বাকেরগঞ্জের শিয়ালঘূনী গ্রামের হার“ন অর রশিদের স্ত্রী হালিমা বেগম এর নাম থাকলেও সেখানে মোবাই নম্বর দেওয়া হয়েছে ঝালকাঠি জেলার নলসিটি উপজেলার ভবানীপুরের মিলন চন্দ্র দাসের। তালিকার মোবাইল নম্বরে ফোন করলে মিলন চন্দ্র দাসের স্ত্রী পাপড়ি রানী দাস ফোন রিসিভ করে।

তালিকার ৭১৫ নম্বর সিরিয়ালের আর এক জন মোঃ জাহিদ হাসান। যিনি ঢাকায় চাকুরি করেন। সেখানে তার ভাই মিরাজ ফোন রিসিভ করে এবং সে জানায় জাহিদ তার ভাই। আর এই ফোনটি মিরাজের।
তালিকার ৭২৮ নম্বর সিরিয়ালের বাকেরগঞ্জের শিয়ালঘুনী গ্রামের কবীর হাওলাদার লেখা থাকলেও সেখানে ফোন করে জানাযায় ফোন নম্বরটি মোঃ জামালের। যিনি কুমিল­া চকবাজার এলাকার বাসিন্দা।

এছাড়াও তালিকার ৭৩৪ নম্বর সিরিয়ালে বাকেরগঞ্জের শিয়ালঘুনী গ্রামের দিলিপ দাস এর পরিবর্তে মংলার সুতা খালী এলাকার আসরাফ গাজীর স্ত্রী আনোয়ারা ফোন রিসিভ করে।

এমননি আর একজন তালিকার ৭৫০ নম্বর সিরিয়ালের মোঃ আলো বেপারীর স্ত্রী মঞ্জু বেগমের ফোন নম্বর এর পরিবর্তে নুর“ল ইসলামের ছেলে আসরাফুল যার বাড়ী রাজশাহীর পৌটা খাসের হাট এলাকায় তার ফোন নম্বর দেয়া আছে। তালিকা অনুসারে এমন ১১ জন ব্যক্তির নাম ঠিকানায় অন্য কোন ব্যক্তির মোবাইল নম্বর দেয়া হয়েছে। আবার অন্যজেলার বাসিন্দা ও রয়েছে। এই ১১জন ছাড়াও আরো অনেকে রয়েছে বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের।

অভিযোগের বিষয়ে বাকেরগঞ্জের ৭নং কবাই ইউনিয়নের ইউপি সদস্য মোঃ জহির“ল হক তালুদকার বলেন, ভিজিডি’র উপকার ভোগী মহিলাদের সংখ্যা ২৪৯ জন। তাদের প্রত্যেকে কার্ড বিতরন করা হয়েছে। এছাড়াও কর্মহীনদের আর্থিক সাহায্যের বরাদ্দকৃত অর্থের ৪ এর ১ অংশ এখোনো পায়নি। পর্যায়ক্রমে তাদের কে দেওয়া হবে।

তিনি বলেন, অভিযোগের বিষয়টি আমি জানি। অনেকে কার্ড পাওয়ার পর সেই কার্ড বিক্রি করে দেয়। আবার একজনের কার্ড অন্য গ্রামেও দিয়েছে। এখানে অনিয়ম হলেও দূর্নীতি করা হয়নি। তাছাড়া মেম্বররা আমার কাছে তালিকা নিয়ে আসে। কর্মহীনদের আর্থিক সাহায্যের বরাদ্দকৃত অর্থের জন্য ৯৫২ জনের তালিকা দেওয়া হয়েছে। সেখানে হয়তো মোবাইল নম্বর ভুল করা হয়েছে। এক্ষেত্রে যদি আমার কোন ঘনিষ্ট লোকের নাম ও মোবাইল নম্বর থাকে তাহলে এর দায় দায়িত্ব আমি নিতে রাজি আছি।
এবিষয়ে বাকেরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাধবী রায় বলেন, তিন দিন পূর্বে আমি বরিশাল জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের মাধ্যমে অভিযোগটি পেয়েছি। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে। বাকেরগঞ্জ উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা বিষয়টি তদন্ত করছে।

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর

ফেসবুক কর্নার

শিরোনাম
মে‌হে‌ন্দিগ‌ঞ্জে বজ্রপাতে দুই শিক্ষা প্রতিজনগণের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সরকার জ্বালানি তসংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির চূড়ান্ত মনোনয়ন পেদেশব্যাপী হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচির উদ্বদাপুটে জয়ে সমতায় বাংলাদেশগ্রেপ্তার মিলটনের কার্যালয় ভাংচুর, পরিস্থিতসাংবাদিকদের শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্ধারণ ও ডাট২২০ টাকা বাড়ল এলপি গ্যাসের দামহরমুজ প্রণালিতে ভারতীয় জাহাজে হামলাপেট্রল-অকটেন-ডিজেলের দাম বাড়লহরমুজ প্রণালিতে দুই জাহাজে হামলা আইআরজিসিরনারী আসন সংরক্ষণ বিল পাস করাতে পারল না মোদি সরবাল্যবিবাহ থেকে রক্ষা পেতে থানায় শিক্ষার্থএইচএসসি পরীক্ষা শুরু ২ জুলাইবিক্ষোভের মুখে নগরীর আলোচিত মিল্টন ফের গ্রেপ

Notice: ob_end_flush(): Failed to send buffer of zlib output compression (0) in /home/thebarisal/public_html/wp-includes/functions.php on line 5493

Notice: ob_end_flush(): Failed to send buffer of zlib output compression (0) in /home/thebarisal/public_html/wp-includes/functions.php on line 5493