বরিশাল ১৭ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২রা শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ২রা সফর, ১৪৪৮ হিজরি
প্রতিদিন ডেস্ক॥ বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের (শেবাচিম) করোনা ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বিগত ২৪ ঘন্টায় করোনায় আক্রান্ত এক নারীসহ ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে এই হাসপাতালের করোনা ওয়ার্ড প্রতিষ্ঠার পর ভর্তি হওয়া ৬শ’ ১৩ জন রোগীর মধ্যে ৯১ জনের মৃত্যু হলো। যার মধ্যে ৩২ জনের করোনা পজেটিভ। অর্থাৎ শের-ই বাংলা মেডিকেলের করোনা ওয়ার্ডে গড় মৃত্যুর হার ১৪.৮৪ ভাগ।
এই ওয়ার্ডে চিকিৎসা নিয়ে রয়েছে বিস্তর অভিযোগ। ডাক্তাররা নামমাত্র দায়িত্ব পালন করেন করোনা ওয়ার্ডে। করোনা পরীক্ষার রিপোর্ট প্রাপ্তি নিয়েও রয়েছে চরম ভোগান্তি। করোনার রিপোর্ট না পাওয়ায় মুমূর্ষ রোগীর চিকিৎসা করতেও হাসপাতালেরা চিকিৎসকরা অপারগতা প্রকাশ করেন বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের। প্রতিদিন এই ওয়ার্ডে মারা যাচ্ছে ২ থেকে ৫ জন রোগী।
সব শেষ গতকাল রবিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় করোনা ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বরিশাল বিমান বন্দর এলাকার এক নারীর (৪৪) মৃত্যু হয়। তার করোনা পজেটিভ। এর আগে ওই নারীকে (ফাতেমা বেগম) জ্বর-সর্দি-কাঁশি সহ করোনা উপসর্গ নিয়ে গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা পৌঁনে ৭টায় হাসপাতালের করোনা ওয়র্ডে ভর্তি করেন তার স্বজনরা।
এর আগে রবিবার বিকেল সাড়ে ৩টায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় উজিরপুরের সারশি এলাকার এক ব্যক্তির (৩৫) মৃত্যু হয়। গত বৃহস্পতিবার বিকেলে করোনা উপসর্গ নিয়ে তাকে (ইউসুব সরদার) হাসপাতালের করোনা ওয়ার্ডে ভর্তি করেন তার স্বজনরা। যদিও পরীক্ষায় তার করোনা নেগেটিভ হয়েছে।
সকাল ৮টা ১ মিনিটে করোনা ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বাকেরগঞ্জের রামনগর এলাকার এক নারীর (৪০) মৃত্যু হয়। করোনা উপগর্স নিয়ে গত বৃহস্পতিবার বেলা পৌঁনে ১২টায় তাকে (ফিরোজা বেগম) হাসপাতালের করোনা ওয়ার্ডে ভর্তি করেন তার স্বজনরা। পরীক্ষায় তার করোনা নেগেটিভ।
একই দিন সকাল পৌঁনে ১০টায় করোনা ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন অবস্থায় এক বৃদ্ধার (৬০) মৃত্যু হয়। এর আগে গত শুক্রবার বিকেলে করোনা উপসর্গ সহ নগরীর কাউনিয়া ব্রাঞ্চ রোডের ওই নারীকে (পুতুল রানী দাস) শেবাচিম হাসপাতালের করোনা ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। তার করোনা পরীক্ষার রিপোর্ট এখনও হাতে পায়নি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
এর আগে গত শনিবার রাত ১১টায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পটুয়াখালী সদরের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের এক বৃদ্ধের (৬০) মৃত্যু হয়। গত শনিবার ভোরে তাকে গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করেন তার স্বজনরা। যদিও পরীক্ষায় তার করোনা নেগেটিভ হয়েছে।
চিকিৎসা নিয়ে অভিযোগের বিষয়টি সঠিক নয় বলে দাবি করেছেন শেবাচিম হাসপতালের পরিচালক ডাঃ বাকির হোসেন। তিনি জানান ২২৪জন চিকিৎসকের বিপরিতে এ হাসপাতালে চিকিৎসক রয়েছে মাত্র ৯৭জন। এ দিয়ে বিশাল এই হাসপাতাল পিরচালনার পর করোনা ইউনিট করার উদ্যোগকে খাটো করে দেখলে চলবে না। চিকি]সক দিন, রেগিরাও পুর্ন চিকৎসা পাবে।
সুত্র- বাংলাদেশ প্রতিদিন