বরিশাল ১৭ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২রা শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ৩রা সফর, ১৪৪৮ হিজরি
জিয়া শাহীন ॥ বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের উচ্চ মাধ্যমিকের খাতা কেলেংকারীর মামলাটি নাটকীয় মোড় নিয়েছে। ১৮ ছাত্রের মধ্যে ১৫ ছাত্র আদালতের নির্দেশে পরবর্তিতে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। ৩ ছাত্র ছিল পলাতক। মামলার তদন্তকারী সিআইডি সম্প্রতি পলাতক সেই তিন ছাত্রের একজনকে আটক করে। তাকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে সে কেলেংকারীর কথা স্বিকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি প্রদান করে। জানা গেছে ছাত্রদের সাথে শিক্ষা বোর্ডের কয়েকজন গুরুত্বপুর্ন কর্মকর্তা কর্মচারীর নামও সে প্রকাশ করে।
২০১৯ সালের উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় ফলাফল প্রকাশের সময় বরিশাল শিক্ষা বোর্ডে খাতা কেলেংকারীর ঘটনাটি প্রকাশ পায়। দেশজুড়ে এ ঘটনায় তোলপাড় শুরু হয়। বিভিন্ন কেন্দ্রের ১৮ পরীক্ষার্থীর একই নম্বর পাওয়া এবং একই পরীক্ষকের কাছে খাতাগুলো যাবার রহস্য খুঁজতে গিয়ে বেরিয়ে পড়ে সাপ। এই ১৮ পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৪ জন ২০১৮ সালে উচ্চতর গণিতে ফেল করে। এদের মধ্যে কেউ পেয়েছিল ১ কেউবা ২ বা ৩। কিন্তু তারা ৫০ এর মধ্যে ৫০ পাওয়ায় সন্দেহ শুরু হয়। তদন্তে এক পর্যায়ে বেরিয়ে আসে বোর্ডের পরীক্ষা দপ্তরের কর্মচারী গোবিন্দের নাম। পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক বাদী হয়ে গোবিন্দসহ ১৮ পরীক্ষার্থীর বিরুদ্ধে মামলা করেন। এ ঘটনার পরপরই গোবিন্দ দেশের বাইরে পালিয়ে যায়। এদিকে মামলাটি সিআইডিতে হস্তান্তর হয়। তদন্তের মাঝপথেই আর ৫ জনকে বহিষ্কার করে বোর্ড। এর মধ্যে একজন বোর্ড কর্মচারী, অপর ৪ জন লেবার হিসেবে কমর্রত ছিল। মাস ছয়েক পর গোবিন্দ প্রকাশ্যে এসে আত্ম সমার্পন করে। আদালত তাকে জেল হাজতে পাঠায়। অপর দিকে ১৮ ছাত্রের মধ্যে ১৫জন উচ্চ আদালতে যায়। আদালত তাদের পরীক্ষা দেবার অনুমতি প্রদান করে। কিন্তু তিন ছাত্র পলাতক থাকে।
সিআইডি গোপনে সেই তিন ছাত্রের সন্ধানে নামে। গতমাস অর্থাৎ জুন মাসের শেষ সপ্তাহে সঞ্জয় নামের এক ছাত্রকে আটক করে তারা।
শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর মোঃ ইউনুচ জানান, আটক সঞ্জয়কে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করার পর সে গোয়েন্দাদের কাছে গুরুত্বপুর্ন তথ্য প্রদান করে। যা পরবর্তিতে ১৬৪ ধারায় রেকর্ড করা হয়। তিনি আশা প্রকাশ করেন এবার এই কেলেংকারী সব রহস্য উদঘাটন হবে।