বরিশাল ১৭ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২রা শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ৩রা সফর, ১৪৪৮ হিজরি
বরিশালের বানারীপাড়ায় সিএনজির ধাক্কায় পুলিশ কনস্টেবলের মোটরসাইকেল পড়ে যাওয়ায় সিএনজি চালক জামাল হোসেন খান ও কনস্টেবল শফিকুল ইসলামের মধ্যে হাতাহাতি, সিএনজি চালককে আটক করে পুলিশের নির্যাতন ও এর প্রতিবাদে সড়ক অবরোধের ঘটনায় এসআই ও কনস্টেবল ক্লোজড হয়েছে।
এরা হলেন বানারীপাড়া থানান উপপরিদর্শক (এসআই) রিয়াজ হোসেন ও কনস্টেবল শফিকুল ইসলাম। রোববার সন্ধ্যায় জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশে বাকেরগঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আনোয়ার সাঈদ সরেজমিন পরিদর্শন শেষে রাত ১১টায় তাদের বরিশাল পুলিশলাইনে সংযুক্ত করার এ নির্দেশ দেন।
বানারীপাড়া থানার ওসি শিশির কুমার পাল এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান,সোমবার সকালে এসআই রিয়াজ হোসেন ও কনস্টেবল শফিকুল ইসলাম থানা থেকে সিসি নিয়ে বরিশাল পুলিশলাইনে সংযুক্ত হয়েছেন।
জানা গেছে, রোববার বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে পৌর শহরের ৬নং ওয়ার্ডের হাজারীবাড়ি সংলগ্ন সড়কের পাশে থানা পুলিশের কনস্টেবল মো. শফিকুল ইসলাম তার ব্যক্তিগত মোটরসাইকেলটি রেখে কথা বলছিলেন। এসময় সেখানে পৌর শ্রমিকলীগের সহ-সভাপতি মো. জামাল হোসেন খানের সিএনজির সঙ্গে ওই মোটরসাইকেলটির ধাক্কা লেগে পড়ে যায়।
এ নিয়ে পুলিশ কনস্টেবল শফিকুল ইসলাম ও সিএনজির চালক মো. জামাল হোসেন খানের মধ্যে কথা কাটাকাটি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরে খবর পেয়ে এসআই রিয়াজ হোসেন ঘটনাস্থলে গিয়ে জামাল হোসেনকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। এ সময় এসআই রিয়াজ হোসেনের নেতৃত্বে জামাল হোসেনকে থানার মূলগেটে ও ওয়ারলেস অপারেটরের রুমে নিয়ে বেদম মারধর করা হয়।পৌর শ্রমিকলীগের সভাপতি আবুল কালাম তাকে রক্ষা করতে গিয়ে এসময় লাঞ্চিত হন। প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে বানারীপাড়া পৌর শ্রমিক লীগের সভাপতি ও জেলা মাহিন্দ্রা-আলফা শ্রমিক ইউনিয়নের নেতা মো. কালাম মোবাইল ফোনে বরিশাল জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে এ ব্যপারে অভিযোগ করেন।
এদিকে এ ঘটনায় বিচারের দাবিতে বরিশাল জেলা মাহিন্দ্রা-আলফা মালিক সমিতির পক্ষ থেকে ওই দিন বিকাল সাড়ে ৪টায় বানারীপাড়া-বরিশাল সড়কে অনির্দিষ্টকালের জন্য মাহিন্দ্রা-আলফা চলাচল বন্ধ ঘোষণা করা হয়। বিচার না পেলে তাদের পক্ষ থেকেপরের দিন সোমবার সকালে বৃহত্তর বরিশালের সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধের আন্দোলনে নামার ঘোষণা দেওয়া হয়। এসময় অভিযুক্ত পুলিশের বিচার দাবি করে মাহেন্দ্র-আলফা ও সিএনজি চালকরা বিক্ষোভ মিছিল করেন।
সড়ক অবরোধের ফলে এসময় যাত্রীরা চরম দূর্ভোগে পড়েন। এদিকে সড়ক অবরোধের খবর পেয়ে জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশে ওই দিন সন্ধ্যায় বাকেরগঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আনোয়ার সাঈদ বানারীপাড়ায় সরেজমিন পরিদর্শনে আসেন। তিনি রাত সাড়ে ৯টার দিকে বানারীপাড়া-বরিশাল সড়কের শিমুলতলায় গিয়ে বিক্ষুদ্ধ শ্রমিকদের সুবিচারের আশ্বাস দিয়ে শান্ত করেন।