বরিশালে ট্রিপল মার্ডারের রহস্য উদঘাটন || নেপথ্যে স্ত্রীর পরকীয়া

  • আপডেট টাইম : ডিসেম্বর ০৯ ২০১৯, ০৪:৫৫
  • 1529 বার পঠিত
  • আপডেট টাইম : ডিসেম্বর ০৯ ২০১৯, ০৪:৫৫
  • 1529 বার পঠিত
বরিশালে ট্রিপল মার্ডারের রহস্য উদঘাটন || নেপথ্যে স্ত্রীর পরকীয়া

বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলার সলিয়াবাকপুর ইউনিয়নের সাখারী গ্রামে প্রবাসীর স্ত্রী মিশরাত জাহান মিশু ও ঘাতক জাকিরের প্রেমের সম্পর্ক দেখে ফেলায় এ ট্রিপল হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত জাকির ও তার সহযোগী জুয়েলের ১৬৪ ধারার জবানবন্দিতে এ বিষয়টি পরিস্কার হয়েছে।

গ্রেপ্তারকৃত জাকির হোসেন ও জুয়েল হাওলাদার হত্যার দায় স্বীকার করে রোববার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা থেকে রাত সাড়ে ৯টা পর্যন্ত বরিশাল সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মো. এনায়েত উল্লাহ’র খাস কামরায় জবানবন্দি দেয়।

এরপর হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে বাড়ির মালিক প্রবাসী আব্দুর রবের স্ত্রী মিশরাত জাহান মিশুকেও গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তবে এই হত্যাকাণ্ডে আরও কেউ জড়িত আছে কিনা তদন্তের স্বার্থে তা বলতে অপারগতা প্রকাশ করেন বানারীপাড়া থানার ওসি শিশির কুমার পাল।

র‌্যাব ও পুলিশের পৃথক জিজ্ঞাসাবাদে আটককৃতরা ওই ৩জনকে হত্যার কথা স্বীকার করে। শনিবার রাতেই প্রবাসী হাফেজ আব্দুর রবের ভাই সুলতান মাহমুদের দায়ের করা হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে রোববার বিকেলে ওই দুইজনকে আদালতে সোপর্দ করে পুলিশ। পরে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়ার পর তাদের প্রেরণ করা হয় বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগারে।

পুলিশ জানায়, প্রায় ৩ বছর আগে জাকির ওই বাড়ির নির্মাণ শ্রমিকের কাজ করার সময় কুয়েত প্রবাসী হাফেজ আব্দুর রবের স্ত্রী মিশরাত জাহান মিশুর সাথে পরিচয়ের সূত্র ধরে পরকীয়া প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলে। এরপর থেকে ওই বাড়িতে তার নিয়মিত যাতায়াত ছিলো। তাদের অনৈতিক সম্পর্কের বিষয়টি জেনে যায় প্রবাসী আব্দুর রবের মা মরিয়ম বেগম এবং খালাতো ভাই ইউসুফ। এ কারনে তাদের হত্যার পরিকল্পনা করে জাকির ও মিশু।

পরিকল্পনা অনুযায়ী গত শুক্রবার রাতে বাসার অন্যান্যরা ঘুমিয়ে পড়লে ঘরের প্রধান দরজা খুলে রাখে মিশু। ওইদিন রাত ১১টার পর জাকির ও জুয়েল ওই বাসায় ঢুকে প্রথমে ইউসুফের পা বেঁধে তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। পরে তারা পাশের কক্ষে ঘুমিয়ে থাকা মরিয়ম বেগমকেও একইভাবে শ্বাসরোধে হত্যা করে। দুই হত্যাকাণ্ডের পর ইউসুফের লাশ বাড়ির সামনে পুকুরের পানিতে ভাসিয়ে দেয় এবং মরিয়ম বেগমের লাশ কক্ষ থেকে বেলকনিতে নিয়ে রাখে।

মিশন শেষ করে তারা মিশুর কক্ষে গিয়ে মিশুর বিবস্ত্র ছবি তোলে। হত্যার ঘটনা ফাঁস করলে ওই ছবি ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেয়ার ভয় দেখানো হয় মিশুকে। এ সময় পাশের কক্ষে ঘুমিয়ে থাকা প্রবাসীর ভগ্নিপতি শফিকুল আলম ঘুমের মধ্যে কাশি দেয়। শফিকুল দুই হত্যার বিষয়টি টের পেতে পারে সন্দেহে তাকেও শ্বাসরোধে হত্যা করে ঘাতকরা।

শনিবার ভোরে ফজরের নামাজের সময় মরিয়মের কক্ষে ঘুমিয়ে থাকা প্রবাসী রবের ভাতিজি আছিয়া আক্তার ঘুম থেকে জেঁগে দাদিকে খুঁজতে গিয়ে বেলকনিতে লাশ পড়ে থাকতে দেখে চিৎকার দেয়। প্রতিবেশীরা এসে ওই বাড়ি থেকে আরও দুটি লাশ আবিস্কার করে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ৩টি লাশ উদ্ধার করে বরিশাল মর্গে প্রেরণ করে। ময়নাতদন্ত শেষে রোববার নামাজে জানাজা শেষে তাদের মরদেহ বাড়িতে দাফন করা হয়।

প্রসঙ্গত, বরিশালের বানারীপাড়ার সলিয়াবাকপুর এলাকার কুয়েত প্রবাসী আব্দুর রব হাওলাদারের বাড়িতে শুক্রবার মধ্যরাতের পর যে কোনো সময় তিনজনকে হত্যা করা হয়। এরা হলেন – প্রবাসীর মা মরিয়ম বেগম, তার বোনের ছেলে মো: ইউসুফ এবং বোন জামাই শফিকুল আলম। আব্দুর রব ১১ বছর যাবৎ কুয়েতে একটি মসজিদে ইমামতি করেন। তার স্ত্রী ও সন্তান বাড়িতে থাকেন। নিহত তিনজনের মধ্যে ইউসুফ এবং শফিকুল আলম দুই দিন আগে বেড়াতে এসেছিলেন।

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর

ফেসবুক কর্নার

শিরোনাম
মে‌হে‌ন্দিগ‌ঞ্জে বজ্রপাতে দুই শিক্ষা প্রতিজনগণের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সরকার জ্বালানি তসংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির চূড়ান্ত মনোনয়ন পেদেশব্যাপী হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচির উদ্বদাপুটে জয়ে সমতায় বাংলাদেশগ্রেপ্তার মিলটনের কার্যালয় ভাংচুর, পরিস্থিতসাংবাদিকদের শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্ধারণ ও ডাট২২০ টাকা বাড়ল এলপি গ্যাসের দামহরমুজ প্রণালিতে ভারতীয় জাহাজে হামলাপেট্রল-অকটেন-ডিজেলের দাম বাড়লহরমুজ প্রণালিতে দুই জাহাজে হামলা আইআরজিসিরনারী আসন সংরক্ষণ বিল পাস করাতে পারল না মোদি সরবাল্যবিবাহ থেকে রক্ষা পেতে থানায় শিক্ষার্থএইচএসসি পরীক্ষা শুরু ২ জুলাইবিক্ষোভের মুখে নগরীর আলোচিত মিল্টন ফের গ্রেপ

Notice: ob_end_flush(): Failed to send buffer of zlib output compression (0) in /home/thebarisal/public_html/wp-includes/functions.php on line 5493

Notice: ob_end_flush(): Failed to send buffer of zlib output compression (0) in /home/thebarisal/public_html/wp-includes/functions.php on line 5493