একজন কৃতি পুলিশ কর্মকর্তা এম এম মাহামুদ হাসান

  • আপডেট টাইম : সেপ্টেম্বর ২০ ২০২০, ০৫:৫২
  • 763 বার পঠিত
  • আপডেট টাইম : সেপ্টেম্বর ২০ ২০২০, ০৫:৫২
  • 763 বার পঠিত
একজন কৃতি পুলিশ কর্মকর্তা এম এম মাহামুদ হাসান

ঝালকাঠি ॥
খুপড়ি ঘরে জীবন কাটছিল হিন্দু পরিবারটির। জমি থাকতেও আদালতের নির্দেশ মান্য করে ঘর উত্তোলন করতে পারেনি। কখনো বৃষ্টিতে ভিজে একাকার, কখনো রোদের তীব্রতায় জলে ওঠে প্রাণ। মাটির ঘরে ৩৬ বছরের জীবন যুদ্ধ। প্রতিপক্ষের সঙ্গে কথাও বন্ধ সেই থেকে। বিরোধ গড়ায় আদালত পর্যন্ত। দীর্ঘ প্রতিক্ষার পরে অবশেষে ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার মগড় গ্রামের দুই পরিবারের বিরোধ মিটে গেল। চোখের কোনের অশ্রুজল মুছে যায় নিরঞ্জন চক্রবর্ত্তীর। পুরনো বিরোধ নিস্পত্তিতে খুশি প্রতিবেশী নজরুল ইসলাম ওরফে ইউনুস মাঝিও। একে অন্যের হাতে ফুল দিয়ে জড়িয়ে ধরলেন। এই সবকিছুই সম্ভব হয়েছে ঝালকাঠি জেলা পুলিশের সহযোগিতায়। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) এম এম মাহামুদ হাসানের কার্যালয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে জমি নিয়ে বিরোধ নিস্পত্তি হয়।
ঝালকাঠি সদর উপজেলার পরমহল গ্রামে সৎ ছেলের কোপে এক হাত হারানো মিনারা বেগমের (৪০) পাশে দাঁড়িয়েছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) এম এম মাহমুদ হাসান। চিকিৎসার দায়িত্বও নেন তিনি। এমনকি সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরার পর তাকে বসবাসের জন্য নিজের টাকায় একটি বসতঘর তুলে দেন এই পুলিশ কর্মকর্তা।
ঝালকাঠি শহরের কাঠপট্টি পুরাতন কলাবাগান এলাকায় জন্ম থেকেই বিরল রোগে আক্রান্ত ছিল শিশু তামিমা আক্তার। তার পিঠে একটি টিউমারের মতো দেখা যায়। অথচ চিকিৎসকরা জানান, এটি টিউমার নয়। ধীরে ধীরে সেটি বড় হতে থাকে। পরে জানতে পারেন রোগটির নাম ‘মেনিংগোসেল’। একমাত্র সন্তানের এ রোগের চিকিৎসা নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েন বাবা মা। দরিদ্র পরিবার স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা করিয়ে কোন সুফল পাচ্ছিলেন না। শিশুটির বেড়ে ওঠাও থমকে যায়। দিন দিন মৃত্যুর ঝুঁকি বাড়তে থাকে। এ অবস্থায় চিকিৎসার ব্যবস্থা করে দেওয়ার জন্য শিশুটির বাবা স্মরণাপন্ন হন ঝালকাঠির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) এম এম মাহমুদ হাসানের। তিনি শিশুটির চিকিৎসার দায়িত্ব নেন। ঢাকায় তাঁর এক চিকিৎসক বন্ধুর মাধ্যমে চিকিৎসা শুরু হয় শিশু তামিমার। দেড় বছর বয়স হলে চিকিৎসকের পরামর্শে অপারেশন করার ব্যবস্থা করেন এই পুলিশ কর্মকর্তা। অপারেশন সফল হলে তামিমা ফিরে পায় নতুন জীবন। খুশি তার বাবা মা।
শুধু নিরঞ্জন, মিনারা ও তামিা নয়, ঝালকাঠিতে যোগদানের পর অসংখ্য মানুষের বিরোধ নিস্পত্তি ও অসহায় মানুষের সহযোগিতা করে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন এই পুলিশ কর্মকর্তা। করোনাভাইরাসের সংক্রমণ মোকাবেলায় দিন রাত মাঠে রয়েছেন তিনি। মানুষকে সচেত করা, মাস্ক বিতরণ, পিপিই ও খাদ্যসামগ্রীও দিয়েছেন অসংখ্য মানুষকে। হারানো মোবাইলফোন উদ্ধার, প্রতারণার মাধ্যমে হাতিয়ে নেওয়া টাকা ফেরতের ব্যবস্থা করে ঝালকাঠিবাসীর হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছেন তিনি। এছাড়াও মাদক, সন্ত্রাস ও চুরি-ডাকাতি রোধে কার্যক্রর ব্যবস্থা গ্রহণ করে সুনাম অর্জন করেছেন মাহামুদ হাসান। তিনি জঙ্গিবাদ, বাল্যবিয়ে ও মাদক বিরোধী প্রচারণায় অসামান্য অবদান রেখে চলছেন। স্টুডেন্ট বিট পুলিশিং, কমিউনিটি পুলিশিং ও স্টুডেন্ট কমিউনিটি পুলিশিং কর্মকান্ডে দক্ষতা ও সাফল্যের স্বীকৃতি স্বরূপ একাধিকবার বরিশাল রেঞ্জের শ্রেষ্ঠ সার্কেল অফিসার নির্বাচিত হয়েছেন তিনি। সম্প্রতি তিনি পিপিএম-বার পদকপ্রাপ্ত হন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাকে এ পদক তুলে দেন। বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগে পাশে দাঁড়িয়েছেন সাধারণ মানুষের। নানা সামাজিক কর্মকা-ে তাকে দেখা যায় অগ্রভাগে। অধিনস্তদের মাঝে জনপ্রিয় এম এম মাহামুদ হাসানের সাফল্যে খুশি জেলা পুলিশ বিভাগ।
নিরঞ্জন চক্রবর্ত্তী বলেন, আমার চোখের পানি মুছে দিয়েছে পুলিশ। আমি এখন নিশ্চিন্তে ঘর তুলে বসবাস করতে পারবো।
নজরুল ইসলাম ওরফে ইউনুস মাঝি বলেন, জমি ৩৬ বছর ধরে বিব্রতকর অবস্থায় ছিলাম। মামলা-হামলা কত কিছুই না হয়েছে। সব কিছুই মিটিয়ে দিয়েছে পুলিশ। আমাদের মধ্যে আজ থেকে কোন বিরোধ নেই।
এক হাত হারানো মিনারা বেগম বলেন, আমি যে বেঁচে আছি, তা মাহমুদ স্যারের জন্যই। তিনি আমাকে বাঁচার অনুপ্রেরণা দিয়েছেন। আমাকে নিরাপদে বাড়ি ফিরতে সহযোগিতা করেছেন। একটি খুপড়ি ঘরে থাকতাম, আমার বসতঘর তুলে দিয়েছেন তিনি। মাঝে মাঝে সে আমাদের বাড়িতে এসে টাকা দিয়ে যায়। আমাকে মেরে টুকরো টুকরো করে ফেলে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলো সৎ ছেলে মাসুদ সরদার। তাকেও পুলিশ সাবধান করে দিয়েছে। স্যারের মতো লোক হয় না।
তানিমার বাবা তাবির হোসেন বলেন, আমার মেয়ের জীবন যখন সংকটাপন্ন, তখন আমি মাহমুদ স্যারের কাছে গিয়ে সাহায্য প্রার্থনা করি। তিনি আমার মেয়ের চিকিৎসার ব্যবস্থা করে দেন। এতে যত টাকা খরচ হয়েছে, তিনি দিয়েছেন। তাঁর কাছে আমরা চিরঋণি। এমন মানবিক পুলিশ কর্মকর্তা সব জেলাতেই থাকা প্রয়োজন। আমরা সব সময় তাঁর জন্য দোয়া করি।
ঝালকাঠির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) এম এম মাহামুদ হাসান বলেন, ঝালকাঠিতে চাকরিতে যোগদানের পর স্থানীয়দের মধ্যে নানা বিরোধ নিস্পত্তি করেছি। মাদক ও সন্ত্রাস রোধে দায়িত্বশীল ভূমিকা রেখেছে জেলা পুলিশ। পুলিশের ভাল কাজের পাশে থাকার জন্য সাংবাদিকদের কাছে আহ্বান জানান তিনি।
তিনি বলেন, আমি এখানে অনেক দিন চাকরি করে মানুষের ভালবাসা অর্জন করেছি। এখন বদলীজনিত কারণে ঝালকাঠি থেকে ঢাকা এন্টি টেরোরিজম ইউনিটে চলে যেতে হচ্ছে। তবে এ জেলার মানুষের কথা কখনোই ভুলবো না। যেখানেই থাকি ফোন দিলে ঝালকাঠিবাসীর সাধ্যমত উপকার করে যাবো।

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর

ফেসবুক কর্নার

শিরোনাম
মে‌হে‌ন্দিগ‌ঞ্জে বজ্রপাতে দুই শিক্ষা প্রতিজনগণের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সরকার জ্বালানি তসংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির চূড়ান্ত মনোনয়ন পেদেশব্যাপী হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচির উদ্বদাপুটে জয়ে সমতায় বাংলাদেশগ্রেপ্তার মিলটনের কার্যালয় ভাংচুর, পরিস্থিতসাংবাদিকদের শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্ধারণ ও ডাট২২০ টাকা বাড়ল এলপি গ্যাসের দামহরমুজ প্রণালিতে ভারতীয় জাহাজে হামলাপেট্রল-অকটেন-ডিজেলের দাম বাড়লহরমুজ প্রণালিতে দুই জাহাজে হামলা আইআরজিসিরনারী আসন সংরক্ষণ বিল পাস করাতে পারল না মোদি সরবাল্যবিবাহ থেকে রক্ষা পেতে থানায় শিক্ষার্থএইচএসসি পরীক্ষা শুরু ২ জুলাইবিক্ষোভের মুখে নগরীর আলোচিত মিল্টন ফের গ্রেপ

Notice: ob_end_flush(): Failed to send buffer of zlib output compression (0) in /home/thebarisal/public_html/wp-includes/functions.php on line 5493

Notice: ob_end_flush(): Failed to send buffer of zlib output compression (0) in /home/thebarisal/public_html/wp-includes/functions.php on line 5493