বরিশাল ৯ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৫শে আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ২৪শে মহর্রম, ১৪৪৮ হিজরি
স্টাফ রিপোর্টার \ বহু প্রত্যাশা ছিল বেসরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অফিস সহকারীদের। দীর্ঘ ৯ মাস যাবৎ শান্তিপুর্ন আন্দোলন করে আসছিলেন তারা। উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা থেকে জেলা প্রশাসক পর্যন্ত স্মারক লিপিও দেয়া হয়। মানব বন্ধন করা হয় জেলায় জেলায়। আশা করা হয়েছিল এমপিও সংশোধনিতে তাদের বেতন গ্রেড, পদবী পরিবর্তন এবং কম্পিউটার প্রশিক্ষণের বিষয়টি গুরুত্ব দেয়া হবে। কিন্তু ২৮ মার্চ বেরসরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জনবল কাঠামো ২০২১ এ এগুলোতো উপেক্ষা করা হয়েছেই, তাদের পদও অবনমন করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। এ নিয়ে ঝড় উঠেছে সামাজিক যোগযোগ মাধ্যমে। অফিস সহকারী কম্পিউটর অপারেটর পদ থেকে কম্পিউটার শব্দটি বাদ দিয়ে সেখানে হিসাব সহকারী করা হয়েছে। এ ছাড়াও শিক্ষাথর্ী বৃদ্ধি পেলে শিক্ষকও বৃদ্ধি পাবে এমন ধারা উল্লেখ করা হলেও অফিস সহকারী পদটি একজনই বহাল রাখা হয়েছে।
২৮ মার্চ জনবল কাঠামো প্রকাশ করার সাথে সাথে তীব্র প্রতিক্রিয়া শুরু হয় দেশ ব্যাপি। ঝড় উঠে ফেইস বুকে। ফেনি থেকে বেসরকারী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ৩য় শ্রেণী কর্মচারী পরিষদের সাধারণ সম্পাদক আদনান হাবিব তাৎক্ষণিক ফেইসবুক লাইভে এসে জনবল কাঠামো প্রত্যাক্ষাণের ঘোষনা দেন। বরিশাল থেকে সিনিয়র সহ সভাপতি জিয়া শাহীন জনবল কাঠামো প্রত্যাক্ষান করে এখন থেকে অফিস সহকারীদের কম্পিউটার বা অন লাইনে কাজ না করার আহবান জানান। টা্ঙগাইল থেকে রাজন চন্দ্র দাস জনবল কাঠামোর বিরুদ্ধে রিট করার প্রস্তুতি নেয়া দাবি জানান।
উল্লেখ্য ২০২০ সালের জুলাই মাসে করোনার মহামারির মধ্যেই অফিস সহকারীরা সংগঠিত হয়ে তাদের ৫ দফা দাবির জন্য আন্দোলন করে আসছিল। দাবিগুলোর মধ্যে অন্যতম ছিল ১৬তম গ্রেড থেকে ১১তম গ্রেড, অফিস সহকারী পদবি পরিবর্তন করে প্রশাসনকি কর্মকর্তা, সকল কম্পিউটার প্রশিক্ষণে সুযোগ দান, যোগ্যতার ভিত্তিতে প্রমোশন, অফিস টাইম বা কর্মঘন্টা নির্ধারণ। এ দাবিগুলো নিয়ে তারা এরই মধ্যে সারা দেশের উপজেলা শিক্ষা অফিসার, জেলা শিক্ষা অফিসার ও জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারক লিপি প্রদান করে। সিনিয়র সহ সভাপতি জিয়াশাহীন জানান, দাবি আদায়ের আন্দোলন ছিল সম্পুর্ন শান্তিপুর্ন। আমরা মনে করেছিলাম, শান্তিপুর্ন আন্দোলনের প্রতি সরকার সহানুভূতি প্রকাশ করবে। কিন্তু তা হয়নি। তিনি আরও বলেন, একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শুধু ছাত্র ও শিক্ষকই কর্মরত নন। অফিস সহকারীও আছেন, সেটা সরকার বা শিক্ষা মন্ত্রনালয় ভুলেই গেছেন। জনবল কাঠামোতে শিক্ষকদের পদ সংখ্যা বৃদ্ধি করা হয়েছে, সহকারী গ্রন্থাগারিকদের কর্মচারী থেকে সহকারী শিক্ষক হিসাবে পদন্নতি দেয়া হয়েছে, ৪র্থ শ্রেণীর কর্মচারীদের পদবি পরিবর্তন করে অফিস সহায়ক করা হয়েছে, তাদের পদ সংখ্যাও বৃদ্ধি করা হয়েছে। শুধু অবজ্ঞা করা হয়েছে অফিস সহকারীদের। প্রশাসনিক কাজের ৯০ ভাগ এবং অনলাইনের শতভাগ কাজ করে অফিস সহকারী উল্লেখ করে তিনি জানান এখন হয় রাজপথে নামতে হবে না হয় আইনী সহায়তা নিতে হবে। অতি দ্রুতই এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় কমিটি সিদ্ধান্ত নেবেন বলে তিনি জানান।