খুলে দেয়া হচ্ছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান!

  • আপডেট টাইম : মে ২৫ ২০২১, ০৯:২৬
  • 764 বার পঠিত
  • আপডেট টাইম : মে ২৫ ২০২১, ০৯:২৬
  • 764 বার পঠিত
খুলে দেয়া হচ্ছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান!

মহামারি করোনাভাইরাস পরিস্থিতির ১৪ মাস পার করছে বাংলাদেশ। এ সময়ে সরকার যেমন অফিস-আদালত বন্ধ করে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে তেমনি আবার সেই ছুটি বাতিলও হয়েছে। সর্বাত্মক লকডাউনের ঘোষণা দিয়ে মানুষের চলাচলে মুভমেন্ট পাস নিতে হয়েছে। আবার পাস ছাড়াই মানুষদের অবাধে চলাচল করতেও দেখা গেছে। দীর্ঘ এ সময়ে রেস্তোরা বন্ধ হয়েছে, আবার খোলাও হয়েছে। গণপরিবহন বন্ধ করে সেটিও ছাড়া হয়েছে।
সর্বশেষ কঠোর বিধিনিষেধের মধ্যেই সোমবার চালু হয়েছে দূরপাল্লার বাস। তবে দীর্ঘ সময় ধরে বন্ধ রয়েছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। এবার সে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার বিষয়ে সরকারি ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।

শিক্ষামন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বিধিনিষেধের মধ্যে খুলে দেয়া হবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। এ বিষয়ে বুধবার শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি সংবাদ সম্মেলন করবেন বলেও মন্ত্রীর দপ্তর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।

বিশ্বস্ত একটি সূত্র জানায়, শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেয়ার ব্যাপারে কাজ শুরু করেছে। গত বৃহস্পতিবার এ ব্যাপারে দুই মন্ত্রণালয়ের উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় দেশের সব ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এ সংক্রান্ত গাইডলাইন পাঠিয়েছে।

এ বিষয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. সৈয়দ মো. গোলাম ফারুক বলেন, ‘শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো খোলার উপযোগী করে আমরা তৈরি করছি। যাতে সরকার এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিলেই আমরা খুলে দিতে পারি।’

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আলমগীর মুহাম্মদ মনসুরুল আলম এ বিষয়ে বলেন, ‘স্কুল খোলার জন্য সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অনেক আগে থেকেই প্রস্তুত রাখা হয়েছে। তবে কবে স্কুল খুলবে সেই সিদ্ধান্ত জানাবে সরকার।’

শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, করোনা পরিস্থিতির দোহায় দিয়ে দীর্ঘসময় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখায় একটি প্রজন্মকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেয়া হচ্ছে। এমন অবস্থায় এ অপূরণীয় ক্ষতি কীভাবে পোষানো হবে তা নিয়েও রয়েছে অনেক প্রশ্ন।

এর মধ্যেই সোমবার দেশজুড়ে সাধারণ শিক্ষার্থীরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দিতে মানববন্ধন করেছে। অবিলম্বে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেয়ার দাবি জানিয়েছে ১২টি ছাত্র সংগঠন। দাবি না মানলে সারাদেশে শিক্ষার্থীদের ক্ষোভের বিস্ফোরণ ঘটবে। আর তখন কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে তার দায়ভার সরকারকেই বহন করতে হবে বলে হুঁশিয়ারিও দেয় সংগঠনগুলো।

এ বিষয়ে ছাত্র নেতারা বলেন, করোনায় দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার প্রতি সরকারের অবহেলা ও উদাসীনতায় জাতি গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। এ অবস্থা অব্যাহত থাকায় শিক্ষার্থীরা তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কিত এবং মানসিকভাবে বিপর্যস্ত। সরকার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রশাসনের কাণ্ডজ্ঞানহীন সিদ্ধান্ত শুধু শিক্ষার্থীদের নয় বরং পুরো দেশবাসীকে বিক্ষুব্ধ করে তুলেছে।

বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে ফ্রোজেন উল্লেখ করে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মরত জ্যেষ্ঠ বিজ্ঞানী রাউফুল আলম বলেন, ‘দেশের বিশ্ববিদ্যালয় এবং অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো এক বছরের বেশি সময় ধরে বন্ধ। শিক্ষা কার্যক্রম ফ্রোজেন হয়ে আছে। দেশে শুধু পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক আছে সাত-আট হাজার। তাদের দশ ভাগ শিক্ষকও কি এই অবস্থা নিয়ে জাতীয় দৈনিকগুলোতে লিখেছে? কিভাবে এই অবস্থা থেকে বের হওয়া যায় সেটা নিয়ে পরিকল্পনা করে সরকারকে জমা দিয়েছে বলে প্রশ্ন তুলেন তিনি।’
গত মঙ্গলবার প্রকাশিত এডুকেশন ওয়াচের অন্তর্র্বতীকালীন প্রতিবেদনে বলা হয়, দ্রুত ক্লাসে ফিরে যেতে চায় ৭৫ শতাংশ শিক্ষার্থী। ৭৬ শতাংশ অভিভাবক ও ৭৩ শতাংশ জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা দ্রুত স্কুল খোলার পক্ষে মত দিয়েছেন।
শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা বলেন, দেশে করোনার প্রাদুর্ভাব কিছুটা কমে আসায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার চাপ বাড়ছে। প্রায় এক বছর ধরে বন্ধ থাকা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে জাতীয় সংসদেও। এছাড়া শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবকদের কাছ থেকেও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেয়ার দাবি উঠেছে।
সাবেক প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মোতাহার হোসেন সংসদে এ বিষয়ে বলেন, করোনাকালে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় শিক্ষাব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ভার্চুয়াল ক্লাস হলেও গ্রামের শিক্ষার্থীরা এতে খুব বেশি উপকৃত হতে পারছে না। তাই যত দ্রুত সম্ভব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেয়া হোক।
সরকারি দলের সংসদ সদস্য সোলায়মান হক জোয়ার্দ্দার বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া উচিত। স্বাস্থ্যবিধি মেনে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেয়ার কথা বলেন তিনি।
গণস্বাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে চৌধুরীর মতে মহামারির কারণে স্থবির শিক্ষা ব্যবস্থায় প্রজন্ম বিপর্যয়ের পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে।
তবে সমাজবিজ্ঞানী নেহাল করিম বলেন, করোনার প্রভাবে দুটি সেক্টর সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। একটি প্রান্তিক জনগোষ্ঠী অন্যটি হচ্ছে শিক্ষা। শিক্ষাব্যবস্থা একদম শেষ হয়েই গেছে। তবে যেহেতু এটি একটি বৈশ্বিক সমস্যা তাই আমাদের আরো একটু ধৈর্য ধারণ করা উচিত। বাংলাদেশ জার্নাল

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর

ফেসবুক কর্নার

শিরোনাম
মে‌হে‌ন্দিগ‌ঞ্জে বজ্রপাতে দুই শিক্ষা প্রতিজনগণের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সরকার জ্বালানি তসংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির চূড়ান্ত মনোনয়ন পেদেশব্যাপী হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচির উদ্বদাপুটে জয়ে সমতায় বাংলাদেশগ্রেপ্তার মিলটনের কার্যালয় ভাংচুর, পরিস্থিতসাংবাদিকদের শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্ধারণ ও ডাট২২০ টাকা বাড়ল এলপি গ্যাসের দামহরমুজ প্রণালিতে ভারতীয় জাহাজে হামলাপেট্রল-অকটেন-ডিজেলের দাম বাড়লহরমুজ প্রণালিতে দুই জাহাজে হামলা আইআরজিসিরনারী আসন সংরক্ষণ বিল পাস করাতে পারল না মোদি সরবাল্যবিবাহ থেকে রক্ষা পেতে থানায় শিক্ষার্থএইচএসসি পরীক্ষা শুরু ২ জুলাইবিক্ষোভের মুখে নগরীর আলোচিত মিল্টন ফের গ্রেপ

Notice: ob_end_flush(): Failed to send buffer of zlib output compression (0) in /home/thebarisal/public_html/wp-includes/functions.php on line 5493

Notice: ob_end_flush(): Failed to send buffer of zlib output compression (0) in /home/thebarisal/public_html/wp-includes/functions.php on line 5493