বরিশাল ১১ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৭শে আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ২৬শে মহর্রম, ১৪৪৮ হিজরি
মৃত ব্যক্তির ব্যাংকে জমাকৃত টাকা নমিনি পাবেন না, এ অর্থ উত্তরাধিকারী পাবেন বলে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। রোববার এ রায় ঘোষণা করা হয়। বিচারপতি নাঈমা হায়দারের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্টের একটি ডিভিশন বেঞ্চ এ আদেশ দেন। এসময় আদালতে এ বিষয়ে দায়ের করা রিট আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন সিনিয়র আইনজীবী এমআই ফারুকী। মামলার বিবরণীতে দেখা যায়, ২০১৪ সালের মার্চে বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি ডিরেক্টর শহিদুল হক চৌধুরী তার দ্বিতীয় স্ত্রীকে নমিনি করে ৩০ লক্ষ টাকার সঞ্চয়পত্র রাখে। পরে শহিদুল হক মারা গেলে তার দ্বিতীয় স্ত্রী পুরো টাকা একাই ভোগ করতে চাইলে মৃত শহীদুলের প্রথম পক্ষের সন্তানরা টাকা দাবি করে মামলা করে। তবে নিম্ন আদালত রায় দেন, নমিনি যে সেই টাকা পাবে। এ রায়ের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আপিল করলে, রোববার মৃত ব্যক্তির ব্যাংকে থাকা টাকা নমিনি নয়, উত্তরাধিকারীরা পাবেন বলেন রায় দিলেন আদালত।
আদালতে রিভিশন আবেদনকারীর পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এম আই ফারুকী, সঙ্গে ছিলেন সাদেকুর রহমান ও নাজনীন নাহার। অন্যপক্ষে (মৃত ব্যক্তির দ্বিতীয় স্ত্রী) ছিলেন আইনজীবী বি এম ইলিয়াস কচি ও মাকসুদুল ইসলাম। রায়ের পর আইনজীবী নাজনীন জানান, “সঞ্চয়পত্রের মালিকের নমিনি ট্রাস্টি হিসেবে থাকবে, মালিক মারা গেলে নমিনি ওই অর্থ উত্তোলনের অধিকারী হবেন ও উত্তরাধিকার আইন অনুসারে মৃত ব্যক্তির সাকসেসরদের (উত্তরাধিকারী) মধ্যে তা বণ্টন করবেন।” নমিনি যদি উত্তরাধিকারী হন, তবে তিনি ওই অর্থের মালিকানা পাবেন বলে রায় দিয়েছে আদালত; অন্যত্থায় নয়। প্রচলিত আইনে নমিনি ও উত্তরাধিকারী বিষয়ে স্পষ্ট বলা রয়েছে জানিয়ে অ্যাডভোকেট নাজনীন বলেন, “প্রচলিত ধারণা, নমিনিই সঞ্চয়পত্রের অর্থের মালিকানা পাবে। হাই কোর্টের রায়ের ফলে এখন বিষয়টি আরও স্পষ্ট হল।” নমিনির ভূমিকা কি ছিল আগে : ব্যাংক, ইন্সুরেন্স ইত্যাদির ক্ষেত্রে নমিনির ভুমিকা হল ট্রাস্টির মত। অর্থাৎ নমিনির কাজ হল যখন একাউন্ট হোল্ডার মারা যাবেন তখন নমিনি ওই একাউন্ট সম্পর্কিত যাবতীয় কাজ করবেন (যেমনঃ একাউন্ট এ রক্ষিত টাকা তুলবেন।) এবং সম্পত্তিটি একাউন্ট হোল্ডারের উত্তরাধিকারীদের মধ্যে বন্টন করে দিবেন । এই ক্ষেত্রে অনেকেই একটি ভূল করে থাকেন ।
সেটা হল অনেকেই ভাবেন যে, নমিনি হল ওই একাউন্ট এর মালিক। এই ধারনা সম্পূর্ন ভূল। নমিনি হল ওই একাউন্ট এর হেফাজতকারী মাত্র। তিনি মৃত ব্যক্তির পক্ষে একাউন্ট পরিচালনাকারী মাত্র। মৃত ব্যক্তির টাকা বন্টিত হবে সাকসেসন আইন অনুযায়ী। নমিনি যদি মৃত ব্যক্তির উত্ত্রাধিকারী না হন তবে কোন অবস্থায় তিনি সম্পত্তির দাবিদার নন। সাকসেসন আইন অনুযায়ী নমিনি যদি কোন টাকা পাওয়ার অধিকারী হন তবে তিনি তা এমনিতেই পাবেন। নমিনি হওয়ার কারনে তিনি অন্য কোন বিশেষ অধিকার ভোগ করবেন না। এই ব্যাপারে সাকসেসন আইন দ্রষ্টব্য। এই বিষয়ে ভারতীয় একটি মামলার রেফারেন্স দেয়া যেতে পারে। যেখানে বিচারপতি আর.এস জোধি বলেন, “Any amount paid to the nominee after valid deductions becomes the estate of the deceased.” তিনি আরও বলেন নমিনি হল ডিপোজিটর মাত্র। রায়টা ছিল এমন