বরিশাল ১২ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৮শে আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ২৬শে মহর্রম, ১৪৪৮ হিজরি
আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল বা আইএমএফ ঋণের প্রথম কিস্তি ছাড়ের আগেই দেশে গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম বাড়তে পারে। এ নিয়ে এরই মধ্যে কাজ শুরু করেছে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম সমন্বয় করার লক্ষ্যে কাজ করছে এ মন্ত্রণালয়। পাশাপাশি ডিজেলসহ অন্যান্য জ্বালানি তেলের দাম নির্ধারণ হবে আন্তর্জাতিক বাজার অনুযায়ী। অর্থ বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে এ তথ্য জানা গেছে।
আইএমএফের ঋণের শর্ত হিসেবে বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দাম বাড়ানোর এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। করোনা-পরবর্তী বাড়তি চাহিদা এবং রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ফলে বিশ্বব্যাপী পণ্যের ঘাটতি দেখা দিয়েছে। বেড়েছে দাম। এতে বৈদেশিক মুদ্রা বাজারে অস্থিতিশীলতা দেখা দিয়েছে।
দেশের বৈদেশিক মুদ্রার মজুতও কমে আসছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে গত জুলাইয়ে বাজেট সহায়তা হিসেবে আইএমএফের কাছে ৪৫০ কোটি ডলার ঋণ চেয়ে আবেদন করে সরকার। সেই ঋণ নিয়ে আলোচনা করতে সংস্থাটির ১০ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল গত ২৬ অক্টোবর ঢাকা সফরে আসে। প্রতিনিধি দল ১৫ দিনের সফর শেষে গত বুধবার বাংলাদেশকে ঋণ দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে। তবে সেজন্য কিছু সংস্কার প্রস্তাব করেছে সংস্থাটি। সরকারও সেসব সংস্কারে রাজি হয়েছে।
অর্থ মন্ত্রণালয় জানিয়েছেন, আগামী তিন মাসের মধ্যে ঋণ প্রস্তাবের সব আনুষ্ঠানিকতা ও চূড়ান্ত বোর্ড অনুমোদন শেষ করবে আইএমএফ। চার বছর মেয়াদে ২০২৬ সাল পর্যন্ত এই ঋণ বিতরণ করা হবে। ৭ কিস্তিতে দেওয়া হবে এই ঋণ। এই ঋণের গড় সুদহার হবে ২ দশমিক ২ শতাংশ। আগামী ফেব্রুয়ারিতে ঋণের প্রথম কিস্তি ছাড় করবে। এ জন্য ফেব্রুয়ারির আগেই সরকার শর্ত অনুযায়ী কয়েকটি পদক্ষেপ নেবে।
সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, আইএমএফের শর্তগুলোর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে ভর্তুকি কমানো। সরকার ভর্তুকি বাবদ যে ব্যয় করে তার বড় অংশই যায় বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে। এ জন্য এ খাতে ভর্তুকি কমিয়ে আনতে দাম বাড়ানো হবে। আগামী মাসের মধ্যে দাম নির্ধারণ হবে। পাশাপাশি জ্বালানি তেলের দাম আন্তর্জাতিক বাজারে যখন যেমন থাকবে সে অনুযায়ী দেশের বাজারে নির্ধারণ করা হবে। সেজন্য একটি পদ্ধতি বের করা হবে।
বর্তমানে বাসা বাড়িতে ব্যবহারের গ্যাস প্রতি ইউনিট ১১ টাকা, শিল্পের জন্য ১৬ টাকা দরে এবং সিএনজি স্টেশনে ৪৩ টাকা দরে সরবরাহ করছে সরকার। বিদ্যুতেও বাসাবাড়ি, শিল্পের জন্য ইউনিট প্রতি দাম রয়েছে। সরকার বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ কিনে ভর্তুকি মূল্যে শিল্প ও বাসাবাড়িতে সরবরাহ করে থাকে।
সম্প্রতি আন্তর্জাতিক বাজারে এলএনজির দাম কয়েকগুণ বেড়েছে। ফলে সরকার স্পট মার্কেট থেকে এলএনজি আমদানি বন্ধ রেখেছে। এতে দেশের শিল্প খাতের চাহিদা অনুযায়ী গ্যাসের সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে। আবার বিদ্যুৎকেন্দ্রে গ্যাসের সরবরাহ কম থাকায় উৎপাদন হচ্ছে কম। বিদ্যুৎ বিতরণে সরকার রেশনিং করছে। শিল্প মালিকরা বলছেন গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহে ঘাটতি থাকায় উৎপাদন ব্যহত হচ্ছে। আবার উৎপাদন খরচও বেশি হচ্ছে। এ অবস্থায় শিল্প মালিকরা অবশ্য বেশি দামে গ্যাস কিনতে চাচ্ছেন।
পাশাপাশি এ মাসেই বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার বাজারভিত্তিক করা হবে। বর্তমানে আমদানিকারকদের ১০৫ টাকা, রপ্তানিকারকদের ১০০ টাকা এবং প্রবাসীদের জন্য বিনিময় হার ১০৭ টাকা নির্ধারিত রয়েছে। বেসরকারি ব্যাংকগুলোর এমডিদের সংগঠন এবিবি এবং রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর এমডিদের নিয়ে গঠিত বাংলাদেশ ফরেন এক্সচেঞ্জ ডিলার অ্যাসোসিয়েশন (বাফেদা) সভা করে ডলারের বিভিন্ন রেট নির্ধারণ করছে। আবার সরকারি আমদানি বিল মেটানোর জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক ৯৭ টাকায় প্রতি ডলার সরবরাহ করে। আইএমএফ চায় বিনিময় হার চাহিদা ও জোগানের ভিত্তিতে হবে। বাংলাদেশ ব্যাংক সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে।
এ ছাড়া আইএমএফ এর শর্ত মেনে বৈদেশিক মুদ্রার মজুতের হিসাব প্রকাশ করবে বাংলাদেশ ব্যাংক। পাশাপাশি বছরে কমপক্ষে দুটি মুদ্রানীতি করবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। তার অংশ হিসেবে আগামী জানুয়ারিতে চলতি অর্থবছরের জন্য দ্বিতীয় মুদ্রানীতি ঘোষণা করা হবে।