বরিশাল ১১ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৭শে আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ২৬শে মহর্রম, ১৪৪৮ হিজরি
দি বরিশাল ডেস্ক।। বাগেরহাটের রামপালে নির্মাণাধীন ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াট সক্ষমতার বিদ্যুৎকেন্দ্রটির প্রথম ইউনিট বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু করেছে। গত শনিবার ১৭ ডিসেম্বর সন্ধ্যা থেকে কেন্দ্রটির প্রথম ইউনিটে উৎপাদিত ৬৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুতের মধ্যে ঢাকায় সরবরাহ করা হচ্ছে ৪০০ মেগাওয়াট। খুলনা ও আশপাশের জেলায় সরবরাহ করা হচ্ছে বাকি ২৬০ মেগাওয়াট। এ তথ্য জানিয়েছে বাংলাদেশ-ইন্ডিয়া ফ্রেন্ডশিপ পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেড (বিআইএফপিসিএল)।
রামপালে নির্মাণাধীন ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্রটি বাংলাদেশ- ইন্ডিয়া ফ্রেন্ডশিপ পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেড (বিআইএফপিসিএল) নামে বাংলাদেশ ও ভারতের যৌথ অর্থায়নে নির্মাণ করা হচ্ছে। বিদ্যুৎকেন্দ্রটির দ্বিতীয় ইউনিট (৬৬০ মেগাওয়াট) ২০২৩ সালের জুনে চালু হওয়ার কথা জানিয়েছে কোম্পানিটি।
বিআইএফপিসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. সাঈদ একরাম উল্লাহ্ বণিক বার্তাকে বলেন, আমরা বাণিজ্যিকভাবে প্রথম ইউনিটের বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু করেছি। এ বিদ্যুৎকেন্দ্রের পরিবেশগত দিক বিবেচনায় কারিগরি সব ধরনের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। এ বিদ্যুৎকেন্দ্র বাণিজ্যিকভাবে চালুর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ ও ভারতের বন্ধুত্ব আরো শক্তিশালী হলো।
রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রটি এমন সময় বাণিজ্যিক উৎপাদনে এলো যখন দেশে শীত মৌসুম শুরু হওয়ায় বিদ্যুতের চাহিদা কমতে শুরু করেছে। বিশেষত শীত মৌসুমে বিদ্যুতের চাহিদা থাকে সাড়ে ৮ থেকে ৯ হাজার মেগাওয়াট। ফলে রামপালের এ বিদ্যুৎ কীভাবে এবং কোথায় কাজে লাগানো হবে সে বিষয়টি এখনো বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি) কিংবা বিদ্যুৎ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছ থেকে পরিষ্কারভাবে জানা যায়নি।
বিপিডিবির তথ্য অনুযায়ী, দেশে এ মুহূর্তে বিদ্যুতের উৎপাদন সক্ষমতা দাঁড়িয়েছে ২৫ হাজার ৮০০ মেগাওয়াট। তবে ডিরেটেড ক্যাপাসিটি ২১ হাজার ৭১০ মেগাওয়াট (অক্টোবর পর্যন্ত)।
রামপাল তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিট যুক্ত হলে এক্ষেত্রে দেশে বিদ্যুতের উৎপাদন সক্ষমতা দাঁড়াবে ২৬ হাজার ৪৬০ মেগাওয়াট।
জ্বালানি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশে এ মুহূর্তে বিদ্যুৎ চাহিদা সক্ষমতার অর্ধেকেরও কম। এ অবস্থায় কেন্দ্রটি বাণিজ্যিক উৎপাদনে এলেও তার সক্ষমতা ব্যবহার করা যাবে না। যদি ব্যবহার করতে হয় তাহলে একই পরিমাণ সক্ষমতার অন্য কেন্দ্র বসিয়ে রাখতে হবে। এক্ষেত্রে যেকোনো উপায়ে কোনো না কোনো কেন্দ্রকে বসিয়ে রেখে ক্যাপাসিটি চার্জ দিতে হবে।
দেশে এ মুহূর্তে বিদ্যুতের চাহিদা ১০ হাজার মেগাওয়াট সক্ষমতার কিছু বেশি। গত ১৭ ডিসেম্বরে বিপিডিবির সম্ভাব্য বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১০ হাজার ২০০ মেগাওয়াটের মতো। সেই হিসেবে বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতার মাত্র ৩৯ শতাংশ ব্যবহূত হচ্ছে। বাকি ৬১ শতাংশ অব্যবহূত থাকছে। এ অবস্থায় রামপালের বিদ্যুৎ কোথায় এবং কীভাবে ব্যবহার করা হবে সেই বিষয়টিরও স্পষ্ট বক্তব্য পাওয়া যায়নি।