বরিশাল ৩০শে আগস্ট, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ | ১৫ই ভাদ্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ৬ই রবিউল আউয়াল, ১৪৪৭ হিজরি
স্টাফ রিপোর্টার ॥ অবশেষে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের টনক নড়েছে কতৃপক্ষের। শুরু হয়েছে স্বাস্থ্য সেবার উন্নতির লক্ষে হ্সাপাতাল কার্যক্রম ঢেলে সাজানোর। এরই প্রেক্ষিতে রোববার রাতে এক সংগে ৪৬ জন স্বেচ্ছাসেবী ট্রলি ম্যানকে বরখাস্ত করা হয়েছে। এদের বিরুদ্ধে রোগী ও তাদের স্বজনদের কাছ থেকে অবৈধ অর্থ আদায়ের অভিযোগে ছিল। একই সাথে হাসপাতালের সরকারি স্টাফদের ট্রলি ম্যানের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। অপর দিকে সেবার মান নিশ্চিতে একাধিক মনিটরিং টিম গঠন করা হয়েছে। হাসপাতালের স্বাস্থ্য সেবার মানোন্নয়নের লক্ষ্যে পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. এ কে এম মশিউল মুনীর মেডিকেল কলেজের সকল বিভাগীয় প্রধান, অধ্যাপক, সহকারী ও সহযোগী অধ্যাপকসহ চিকিৎসক, নার্স ও স্টাফদের নিয়ে পৃথক বৈঠক করেছেন। পাশাপাশি, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক, সিভিল সার্জন, জেলা প্রশাসক ও বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে হাসপাতালের বিভিন্ন সমস্যার সমাধানের কার্যক্রম পরিচালনা করছেন তিনি। দুই সপ্তাহ ধরে বরিশালে চলমান ছাত্র-জনতার আন্দোলন ও তাদের দাবির প্রেক্ষিতে ৪৬ জন স্বেচ্ছাসেবী ট্রলি ম্যানকে বহিষ্কার করা হয়। এছাড়া রোগী বহনের পুরাতন ট্রলি মেরামত করা হয়েছে এবং নতুন ট্রলি প্রদান করা হয়েছে। স্বাস্থ্য সেবার মানোন্নয়নে হাসপাতালের সাতটি মনিটরিং টিম গঠন করা হয়েছে, যারা সকাল, বিকাল ও রাতে হাসপাতালের বহিঃ ও অন্তঃ বিভাগে নিয়মিত মনিটরিং করছেন। অনুমোদনের ভিত্তিতে হাসপাতালের বিভিন্ন টয়লেটে ১০০টি সিলিং ফ্যান স্থাপন করা হয়েছে এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার জন্য কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।হাসপাতাল পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. এ কে এম মশিউল মুনীর বলেন, ‘বরিশাল বিভাগের ছয় জেলা ছাড়াও ঢাকা বিভাগের মাদারীপুর, শরীয়তপুর, গোপালগঞ্জের কিছু অংশ এবং খুলনা বিভাগের বাগেরহাট জেলা থেকে প্রায় দেড় কোটি মানুষের চিকিৎসার ভরসাস্থল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। ১৯৬৮ সালে মাত্র ৫০০ শয্যার অবকাঠামো নিয়ে নির্মিত এ হাসপাতালটির অবকাঠামোগত উন্নতি হয়নি। বর্তমানে দিনে গড়ে ৭শ রোগী নতুনভাবে ভর্তি হন।’তিনি আরো জানান, হাসপাতালের অন্তঃ বিভাগে প্রায় ৩ হাজার রোগী ভর্তি থাকেন। বহিঃ বিভাগে দৈনিক গড়ে ৩ হাজার রোগী চিকিৎসা নেন। প্রতিটি রোগীর সঙ্গে স্বজন ও দর্শনার্থী তিনজন আসেন। ফলে দৈনিক এখানে প্রায় ২৪ হাজার মানুষের সমাগম ঘটে। এর সঙ্গে হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স, অন্যান্য স্টাফ এবং শিক্ষার্থীরা মিলিয়ে মোট প্রায় ৩০ হাজার মানুষের উপস্থিতি ঘটে।অবকাঠামোগত উন্নতি না হওয়ায় অতিরিক্ত রোগীর চাপ সামলাতে টয়লেটসহ হাসপাতালের পরিবেশ নোংরা হচ্ছে। শয্যা সংখ্যার তুলনায় ছয় গুণ বেশি রোগী ভর্তি থাকায় অনেক রোগী মেঝে বা বারান্দায় চিকিৎসা নিতে বাধ্য হচ্ছেন। এতে হাসপাতালের সেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে কর্মীদের।হাসপাতাল পরিচালক ডা. মশিউল মুনীর বলেন, ‘শেবাচিমের স্বাস্থ্য সেবার মানোন্নয়নে ইতিমধ্যেই নানান পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে এবং শিগগিরই সেবার মান আরও উন্নত হবে বলে আশা করছি।’