বরিশাল ১৮ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৪ঠা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ৩০শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
স্টাফ রিপোর্টার ॥ জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম বলেছেন, সংসদে ওয়াকআউট করা বিরোধী দলের অধিকার। আমরা যখন বিরোধী দলে ছিলাম অনেক ওয়াকআউট করেছি। এটি একটি রাজনৈতিক চর্চা। তবে দীর্ঘ সময় ধরে সংসদ বয়কট করলে গণতন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হবে। জনগণ আবার তাদের অধিকার হারিয়ে ফেলবে।গতকাল শনিবার দুপুরে বরিশাল সার্কিট হাউসে চেম্বার অব কমার্সের নেতাদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।এ সময় স্পিকার বিরোধী দল ও সরকারি দলের প্রতি আহবান জানিয়ে বলেন, বিরোধী দলের প্রতি আমার আহ্বান রইল তারা যেন কারণে অকারণে ওয়াকআউট না করে। আর সরকারি দলের প্রতি আহ্বান তারা যেন বিরোধীদলকে একমোডেট করার চেষ্টা করে।তিনি আরও বলেন, বিরোধীদলকে তাদের কাজ করার মতো সেই স্পেসটা যাতে দেয়। বিশেষ করে যেসব দল স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে একত্রে রাজপথে আন্দোলন করেছে তারা যেন নিজেদের মধ্যে ঐক্য বজায় রাখে।স্পিকার আরও বলেন, না হলে বিদেশে যারা পালিয়ে আছে তারা আবার ফিরে এসে এদেশে দুঃশাসন কায়েম করবে। সুতরাং নিজের রাজনৈতিক দলের ম্যানিফাস্টার বাস্তবায়ন করতে গিয়ে জনগণের অধিকার যাতে হরণ করা না হয় সে ব্যাপারে সরকার-বিরোধী দল উভয় যত্নবান থাকবেন বলে আশা প্রকাশ করেন স্পিকার বলেন, সম্মিলিতভাবে ঐক্যের মাধ্যমে এদেশ ধীরে ধীরে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যাবে।স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম আরও বলেন, অনেকদিন পর আমরা গণতন্ত্রে পদার্পণ করেছি। আমাদের জীবন থেকে মূল্যবান ১৭টি বছর কেড়ে নিয়েছে। গণতন্ত্র চর্চা ব্যাহত হয়েছে। গণতন্ত্র না থাকার কারণে হত্যা, লুট, রাষ্ট্রীয় সম্পদ পাচার হয়ে বিদেশে চলে গেছে।তিনি আরও বলেন, আমাদের জাতীয় জীবনের সবচেয়ে অন্ধকার সময় ছিল বিগত ১৬ বছর। যেখানে নির্বাচনের নামে প্রহসন মঞ্চস্থ হয়েছে। সাধারণ মানুষের কোনো অধিকার ছিল না। মানবাধিকার দেশ থেকে বিদায় নিয়েছে। সাধারণ মানুষের জীবনে অন্ধকার নেমে এসেছিল।অবশেষে ছাত্র, তাদের অভিভাবক, সাধারণ মানুষের আত্মদানের ফলে দেশে আবার গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। আমরা আশা করব গণতন্ত্র আর কোনোদিন হারিয়ে যাবে না। কোন দল গণতন্ত্রকে আর নির্বাসনে পাঠানোর চেষ্টা করবে না। আশা করব সাধারণ মানুষের অধিকার যেন সবসময় প্রতিষ্ঠিত থাকে।তিনি আরও বলেন, আগামী দিনে কোনো স্বৈরশাসক বাংলাদেশের প্রভাব বিস্তার করবে এমন সম্ভাবনা আমি দেখতে পাচ্ছি না। কারণ বাংলাদেশের জনগণ গণতন্ত্রের প্রতি সচেতন এবং গণতন্ত্রের অতন্দ্র প্রহরী।এর আগে তিনি ভোলা সফর শেষে বরিশাল সার্কিট হাউসে পৌঁছালে সেখানে তাকে গার্ড অব অর্নার প্রদান করা হয়। পরে বরিশাল চেম্বার অব কমার্স আয়োজিত শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে অংশ নেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম।