সারস্বত গালর্স স্কুলের প্রধান শিক্ষককে আবারও পেটালেন সহকারী শিক্ষকরা!

  • আপডেট টাইম : ফেব্রুয়ারি ০৯ ২০২০, ১৮:৫১
  • 1179 বার পঠিত
  • আপডেট টাইম : ফেব্রুয়ারি ০৯ ২০২০, ১৮:৫১
  • 1179 বার পঠিত
সারস্বত গালর্স স্কুলের প্রধান শিক্ষককে আবারও পেটালেন সহকারী শিক্ষকরা!

জিয়া শাহীন \ আবারও প্রধান শিক্ষককে লাঞ্ছিত করেছে নগরীর জগদ্বিস সারস্বত বালিকা বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষকসহ কয়েকজন শিক্ষক। এ নিয়ে একাধিকবার বর্তমান প্রধান শিক্ষককে লাঞ্ছিত করেছে শিক্ষকরা এমন অভিযোগ রয়েছে। এর আগে প্রধান শিক্ষক শিক্ষকদের বিরুদ্ধে থানায় একটি জিডিও করেছিলেন।
আজ রবিবার ( ৯ ফেব্রয়ারী) সকাল পোনে ১১ টার দিকে স্কুলে বসেই প্রধান শিক্ষক মোঃ শাহ আলমকে মারধর করা হয়েছে এমন অভিযোগ উঠেছে। প্রধান শিক্ষক দাবি করেছেন স্কুল সময়ে কোচিং করানোর প্রতিবাদ করায় তাকে লাঞ্ছিত করা হয়েছে। তবে শিক্ষকদের দাবি, বিপুল অর্থের হিসাব দিতে না পারা, কমিটি গঠন নিয়ে টাল বাহনা, বিপুল পরিমান অর্থ ব্যাংকে না দিয়ে নিজের পকেটে রাখা , রুটিন না করা এবং স্বৈরাচারী মনোভাবের কারনে প্রায়শঃই তিনি শিক্ষকদের সাথে ঝামেলায় জড়িয়ে পড়ছেন।
নগরীর এক সময়ের ঐতিহ্যবাহি এ স্কুলটিতে এখন শিক্ষক-শিক্ষক দলাদলি, কমিটি- শিক্ষক দলাদলিতে স্কুলের ঐতিহ্য বিলীন হবার মূখে। সাবেক ২জন সভাপতির বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, তারা বিপুল অর্থের বিনিময়ে স্কুলে শিক্ষক নিয়োগ দিয়ে স্কুলটিকে বানিজ্যলয়ে পরিনত করেছেন। এর ভার এখনও বহন করছে স্কুল। কমিটির অর্ন্তদ›দ্ব এতই প্রকট ছিল যে, এখন স্কুলে কমিটিই নেই। রাজনৈতিক প্রভাবের কারনে কমিটি গঠনই করা যাচ্ছে না। মাসের পর মাস চলছে এডহক কমিটি দিয়ে। আর শক্তিশালী পূর্নাঙ্গ কমিটি না থাকায় যা হবার তাই হচ্ছে এ স্কুলে। শিক্ষকরা নিজেরাই অন্তঃকলহে জড়িয়ে পড়েছেন। চলছে চরম স্বেচ্ছাচারিতা। জানা গেছে এ স্কুলের প্রধান শিক্ষক শাহ আলম যোগদানের পর একাধিকবার শিক্ষকদের হাতে লাঞ্ছিত হয়েছেন। তার অদক্ষতার পাশাপাশি, অর্থ লোভ, আর শিক্ষকদের কোচিং কারনোর জন্য শ্রেণী শিক্ষক হবার প্রতিযোগিতা এখন স্কুলটিকে ধ্বংশের দ্বরপ্রান্তে দাড় করিয়ে দিয়েছে।
নগরীর কালিবাড়ি রোড ঐতিহ্যবাহি স্কুলটির সুনাম বহু পুরানো। এক সময়ে সরকারী বালিকা বিদ্যালয়ের সাথে পাল্লা দিয়ে ফলাফল হত। কিন্তু অর্থলোভ আর অর্ন্তদ্ব›দ্ব স্কুলটির ঐতিহ্য কৃুড়ে কুড়ে খেয়েছে। প্রধান শিক্ষক শাহ আলম ও চারজন খন্ডকালীন শিক্ষকসহ আরো ২১জন শিক্ষক স্কুলে কর্মরত রয়েছে। প্রধান শিক্ষক শাহ আলম স্কুলের শিক্ষকদের রুটিন তালিকা দেখিয়ে অভিযোগ করে বলেন, তার স্কুলের শিক্ষকরা তাদের ইচ্ছেমত রটিন তৈরী করে ক্লাস করতে চাইলে এতে বাধা হয়ে দাড়ান তিনি। প্রধান শিক্ষকের অভিযোগ স্কুলের কয়েকজন শিক্ষক কোচিং বানিজ্য খুলে বসেছেন। তারা শ্রেণী শিক্ষক হবার জন্য রুটিন করছেন ইচ্ছেমত।
প্রধান শিক্ষক শাহ আলম তার গায়ে হাত তোলার কারন জানতে চাইলে তিনি জানান, আমি ১৭ সালের ১লা আগস্ট এই স্কুলে যোগদান করার পর থেকেই দেখতে পায় এখানে শিক্ষকদের স্কুলে আসা-যাওয়ার কোন নিয়ম নীতি নেই। নেই কোন স্কুলে শৃঙ্খলা। এসব কাজে বাধা প্রধান করার পর থেইে কয়েকজন শিক্ষক শিক্ষিকা একজোট হয়ে আমাকে প্রায় সময় অপদস্থ করে যাচ্ছে। এ ব্যাপারে কোতয়ালী মডেল থানায় সাধারন ডায়েরী করাসহ শিক্ষাবোর্ড চেয়ারম্যান ও সাবেক কমিটি বরাবর লিখিত অভিযোগ দেয়া আছে।
তবে শিক্ষকরা বলছেন ভিন্ন কথা। কমিটি গঠন করতে না পেরে এডহক কমিটি গঠন করা হয়। সে কমিটির মেয়াদ শেষ হলেও কমিটি গঠন হয়নি। এরপর মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের সাবেক উপ পরিচালক রাবেয়া খাতুনকে এডহক কমিটির দায়িত্বে দেয়া হয়। তিনি এসে একটি অডিট করান। সেই অডিটে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ১০ লাখ ৩৩ হাজার ৬৮৪ টাকা আত্বসাতের অভিযোগ উঠে। গতবছর স্কুলে কোন বার্ষিক ক্রিড়াও হয়নি। এ বছর স্কুলে সব ভর্তি ফি প্রধান শিক্ষক তার পকেটে রেখেছেন। একটি টাকাও ব্যাংকে জমা হয়নি বলে দাবি করেন সহকারী প্রধান শিক্ষক কাওছার হোসেন। বছরের ২ মাস অতিক্রন্ত হলেও এখন পর্যন্ত কোন রুটিন করা হয়নি। রুটিনের জন্য ৫ সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করা হয়। সে কমিটি রুটিন তৈরি করে প্রধান শিক্ষকের কাছে জমা দিলেও এখন পর্যন্ত সেটি তিনি কার্যকর করেননি। এ সব নিয়ে রোববার ছটির পর প্রধান শিক্ষকের কাছে কয়েকজন শিক্ষক জানতে চাইলে তিনি অশালিন ভাষা ব্যবহার করেন। এর প্রতিবাদ করা হয়েছে মাত্র। গায়ে হাত তোলার বিষয়টি সহকারী প্রধান শিক্ষক অস্বিকার করেন। ঐলতিহ্যবাহি এ স্কুলটি নিয়ে এখন ষিক্ষা কর্মকর্তারাও অসায়ত্ব প্রকাশ করেন।

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর

ফেসবুক কর্নার

শিরোনাম
মে‌হে‌ন্দিগ‌ঞ্জে বজ্রপাতে দুই শিক্ষা প্রতিজনগণের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সরকার জ্বালানি তসংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির চূড়ান্ত মনোনয়ন পেদেশব্যাপী হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচির উদ্বদাপুটে জয়ে সমতায় বাংলাদেশগ্রেপ্তার মিলটনের কার্যালয় ভাংচুর, পরিস্থিতসাংবাদিকদের শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্ধারণ ও ডাট২২০ টাকা বাড়ল এলপি গ্যাসের দামহরমুজ প্রণালিতে ভারতীয় জাহাজে হামলাপেট্রল-অকটেন-ডিজেলের দাম বাড়লহরমুজ প্রণালিতে দুই জাহাজে হামলা আইআরজিসিরনারী আসন সংরক্ষণ বিল পাস করাতে পারল না মোদি সরবাল্যবিবাহ থেকে রক্ষা পেতে থানায় শিক্ষার্থএইচএসসি পরীক্ষা শুরু ২ জুলাইবিক্ষোভের মুখে নগরীর আলোচিত মিল্টন ফের গ্রেপ

Notice: ob_end_flush(): Failed to send buffer of zlib output compression (0) in /home/thebarisal/public_html/wp-includes/functions.php on line 5493

Notice: ob_end_flush(): Failed to send buffer of zlib output compression (0) in /home/thebarisal/public_html/wp-includes/functions.php on line 5493