বরিশাল ৫ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২১শে আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ২০শে মহর্রম, ১৪৪৮ হিজরি
আগামীকাল রবিবার (২১ জুন) চলতি বছরের প্রথম বলয় গ্রাস সূর্যগ্রহণ। বাংলাদেশ থেকে পূর্ণগ্রহণ দেখা না গেলেও বিশ্বের বহুদেশ থেকে ‘রিং অব ফায়ার’ দেখা যাবে। বাংলাদেশে এই গ্রহণ শুরু হবে বেলা ১১টা ২৩ মিনিটে। সর্বোচ্চ গ্রহণ দেখা যাবে দুপুর ১টা ১২ মিনিটে। আর গ্রহণ শেষ হবে ২টা ১৪ মিনিটে।
আবহাওয়াবিদ উমর ফারুক জানান, আকাশ পরিষ্কার থাকলে ঢাকাসহ সবগুলো বিভাগীয় শহর থেকেই এই গ্রহণ দেখা যাবে। তবে মৌসুমি বায়ুর কারণে আকাশে এখন অনেক সঞ্চরণশীল মেঘমালা তৈরি হচ্ছে। এই কারণে অনেক অঞ্চলের আকাশ মেঘে ঢাকা থাকার আশঙ্কাও আছে।
এদিকে সূর্যগ্রহণের বিষয়ে জানতে চাইলে জ্যোতির্বিদ এফ আর সরকার জানান, সূর্যগ্রহণ শুরু হবে আফ্রিকার কঙ্গো থেকে। এরপর সুদান, ইথিওপিয়া, ইয়েমেন, ওমান, সৌদি আরব, পাকিস্তান, ভারত, তিব্বত ও চীন—এই কয়েকটি দেশের ওপর দিয়ে যাবে। এসব দেশগুলোর মধ্যে সূর্যের আলো পড়া ৮০ মাইল জায়গা জুড়ে বলয় দেখা যাবে। সূর্য পুরোপুরি ঢেকে যাবে না। চারদিক দিয়ে আলো দেখা যাবে। রিংয়ের মতো দেখা যাবে। এটাকে বলা হয় ‘রিং অব ফায়ার’। যদি সূর্য পুরো ঢেকে যেতো তাহলে সেটি হতো পূর্ণ গ্রহণ। এবার পূর্ণ হবে না।
তিনি জানান, বাংলাদেশ থেকে এই ‘রিং অব ফায়ার’ দেখা যাবে না। তবে আংশিক দেখা যাবে। ভারতের উত্তরদিকে রাজস্থান, হরিয়ানা, উত্তরাখণ্ড হয়ে তিব্বতের ওপর দিয়ে চলে যাবে। ওই ৮০ মাইলের পরে যারা আছে প্রায় ২০০/৩০০ মাইল এলাকায় রিং পুরো দেখা যাবে না। রিংয়ের অর্ধেক দেখা যাবে। আমরা ঢাকা থেকে পুরো দেখতে পাবো না। আংশিক দেখতে পাবো। সূর্য ৭৩ ভাগ ঢেকে যাবে। আবার ঢাকা থেকে উত্তর দিকে গেলে অর্থাৎ তেতুলিয়া থেকে ৮৫ ভাগ আবার চট্টগ্রামের দিকে গেলে ৬৫ ভাগের মতো গ্রহণ দেখা যাবে।
এই জ্যোতির্বিদ বলেন, এই গ্রহণ খালি চোখে না দেখাই ভাল। ওয়েল্ডিং গ্লাস অথবা পুরানো এক্সরে দিয়ে দেখা যাবে। গামলায় পানি দিয়ে সেই পানিতেও বাসাবাড়ি থেকে গ্রহণ দেখার সুযোগ আছে। তবে সবচেয়ে ভালো হয় সোলার ফিল্টার লাগানো চশমা। তিনি জানান, চলতি বছরের ডিসেম্বর মাসে আরও একটি সূর্যগ্রহণ আছে। তবে সেটি দেখা যাবে শুধু দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে।
প্রসঙ্গত, চলতি বছরের প্রথম সূর্যগ্রহণ এটি। এর আগে গতবছরের ডিসেম্বরে সূর্যগ্রহণ হয়েছিল।