বরগুনায় একটি উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে তিন শিক্ষকের ডাবল চাকরি!

  • আপডেট টাইম : ডিসেম্বর ১৭ ২০১৯, ১৩:২৮
  • 1168 বার পঠিত
  • আপডেট টাইম : ডিসেম্বর ১৭ ২০১৯, ১৩:২৮
  • 1168 বার পঠিত
বরগুনায় একটি উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে তিন শিক্ষকের ডাবল চাকরি!

মো. মিজানুর রহমান, বরগুনা থেকে : বরগুনার বামনা উপজেলা সদরের সারওয়ারজান মডেল উচ্চ বিদ্যালয়টি ১৯৪৪ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। সেই থেকে এ বিদ্যালয়টি দক্ষিন অঞ্চলে সুনামের সাথে তাদের পাঠদান অব্যহত রেখেছে। এরই ধারাবাহিকতায় এ বিদ্যালয়টি ১১ অক্টোবর ২০১৮ সালে সরকারিকরণ করা হয়। তবে ১১ এপ্রিল ২০১২ সালে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা কমিটি একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির পাঠদানের অনুমতি নিয়ে বিভিন্ন বিষয়ে ৮ জন প্রভাষক নিয়োগ প্রদান করেন। নিয়োগকৃত ৮ জন প্রভাষকের মধ্যে দুইজন প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এবং একজন মাদ্রাসায় শিক্ষকতা করেন। দৈনিক মানবজমিনকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সরকারি সারওয়ারজান মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এএসএম হারুন অর রশিদ।
এই বিদ্যালয়ে নিয়োগকৃত ৮ প্রভাষকের মধ্যে মো. মুছা মোল্লা ঘোপখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এবং মো. রবিউজ্জামান বলইবুনিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক পদে কর্মরত রয়েছেন। এছাড়া মো. মিজানুর রহমান আমুয়া চাঁদ মিয়া এসআর ফাজিল মাদ্রাসায় ইংরেজির প্রভাষক হিসেবে কর্মরত রয়েছেন, যার ইনডেক্স নম্বর-২১১১৭৮৭। এরা তিন জনই রাজস্ব খাতে নিয়মিত বেতন ভাতা উত্তোলন করছেন। যদিও একই সাথে দুই প্রতিষ্ঠানে চাকরি করার বিষয়ে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। সরকারি বিধিবিধান উপেক্ষা করেই আর্থিক সুবিধা লাভের আশায় তারা দুইটি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করছেন।
তাদের এই অনিয়মের তদন্তের জন্য খোদ সরকারি সারওয়ারজান মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক (চলতি দায়িত্ব) এএসএম হারুন অর রশিদ গত ২৯ সেপ্টেম্বর তাদের একই সঙ্গে দুই প্রতিষ্ঠানের চাকরি ও সুযোগ-সুবিধা গ্রহণের বিষয়টি লিখিতভাবে মহাপরিচালক, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তরকে জানিয়েছেন, যার ডকেট নম্বর ১২৫৬৩, তারিখ ০৩.১০.২০১৯। তদন্ত আবেদনের অনুলিপি প্রধানমন্ত্রী, শিক্ষামন্ত্রী, শিক্ষাসচিব, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান ও পরিদর্শক, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের উপপরিচালক এবং জেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে দেওয়া হয়েছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, এই উচ্চ বিদ্যালয়ের ইংরেজী বিষয়ের প্রভাষক মো. মিজানুর রহমান পার্শ্ববর্তী ঝালকাঠি জেলার কাঠালিয়া উপজেলার আমুয়া চাঁদ মিয়া এসআর ফাজিল মাদ্রাসার ইংরেজির শিক্ষক, যার ইনডেক্স নম্বর-২১১১৭৮৭। ব্যবস্থাপনা বিষয়ের প্রভাষক মো. মুছা মোল্লা বামনা উপজেলার ঘোপখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক এবং পৌরনীতি বিষয়ের প্রভাষক মো. রবিউজ্জামান একই উপজেলার বলইবুনিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক পদে বর্তমানে কর্মরত রয়েছেন। এরা তিন জনই রাজস্ব খাতের বেতন ভাতা নিয়মিত উত্তেলনও করছেন। একই সাথে তারা দুটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেই চাকরি ও আর্থিক সুবিধা ভোগ করে আসছেন। দুটি প্রতিষ্ঠানের হাজিরা খাতায় নিয়মিত স্বাক্ষরও করছেন তারা। মাদ্রাসা ও প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশাপাশি কলেজে পাবলিক পরীক্ষায় কক্ষ পরিদর্শকের দায়িত্ব পালন, খাতা মূল্যায়নসহ সব দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। শিক্ষা বিভাগের উপজেলা ও জেলা কর্মকর্তাকে বিষয়টি লিখিতভাবে জানানোর পরও প্রশাসনিক কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
অন্যদিকে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক (ক-৩) মো. জসিম উদ্দিন স্বাক্ষরিত ২০১০ সালের ২৮ নভেম্বরের বিজ্ঞপ্তির ৯ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, কোনো শিক্ষক বা কর্মচারী একই সঙ্গে দুটি প্রতিষ্ঠানে (এমপিওভুক্ত বা এমপিওবিহীন যেকোনো ধরনের প্রতিষ্ঠান) চাকরিরত থাকলে তাঁর বিরুদ্ধে প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষকে ব্যবস্থা নিতে হবে। কোনো শিক্ষক বা কর্মচারী একই সঙ্গে দুই প্রতিষ্ঠানে কর্মরত থাকলে উভয় প্রতিষ্ঠান প্রধান দায়ী থাকবেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত প্রভাষক মো. মিজানুর রহমান বলেন, আমি দুই প্রতিষ্ঠানেই চাকরি করি। তবে আমার কাছে পূর্বের প্রতিষ্ঠান প্রধানের লিখিত অনুমতি রয়েছে।
আমুয়া চাঁদ মিয়া এসআর ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা আবদুর রহমান বলেন, মিজানুর রহমান অন্য কোথাও চাকরি করেন কিনা তা আমি জানি না। তবে মাদ্রাসার হাজিরা খাতায় নিয়মিত তার স্বাক্ষর রয়েছে এবং সে রাজস্ব খাতের বেতন ব্যাংক থেকে উত্তোলন করছেন।
সরকারি সারওয়ারজান মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক (চলতি দায়িত্ব) এএসএম হারুন অর রশিদ বলেন, তাদের একইসাথে দুটি করে প্রতিষ্ঠানে চাকরীর ঘটনা আমি লিখিতভাবে মহাপরিচালক, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তরকে জানিয়েছি। কর্তৃপক্ষ তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহন করবেন।
বরগুনা জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শাহাদাত হোসেন বলেন, বামনা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. ওমর ফারুক কে ঘটনা তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর

ফেসবুক কর্নার

শিরোনাম
আবু সাঈদ হত্যা মামলায় সাবেক দুই পুলিশের ফাঁ*সভারতে বাংলাদেশ না খেললে বিশ্বকাপে বিকল্প দল নিরাপরাধ আওয়ামীলীগ নেতাকর্মীদের হয়রানী করা বরিশাল-৫ আসন আমার পিতার জন্মস্থান এ আসন কারো দসবুজ মুন্সির জানাযায় মজিবর রহমান সরোয়ারকৃষি ডিপ্লোমা শিক্ষার্থীদের ঢাকা-বরিশাল মহাবর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার আরও ১-২ বছর থাকবে : আমরণ অনশনে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন চার শিক্ষকপ্রজ্ঞাপন প্রত্যাখান, আন্দোলন চালিয়ে যাবেন এএমপিওভুক্ত শিক্ষকদের ৫% বাড়ি ভাড়া বৃদ্ধি করে তুরস্ক থে‌কে অত্যাধুনিক দূরপাল্লার আকাশ প্রপুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে শাহবাগ অবরোধ শিক্ষকদএমপিওভুক্ত শিক্ষকদের লং মার্চে পু‌লি‌শি বাধভাঙলো মাউশি, হচ্ছে পৃথক দুই অধিদপ্তরআন্দোলনরত শিক্ষকদের হটাতে সাউন্ড গ্রেনেড নি

Notice: ob_end_flush(): Failed to send buffer of zlib output compression (0) in /home/thebarisal/public_html/wp-includes/functions.php on line 5481

Notice: ob_end_flush(): Failed to send buffer of zlib output compression (0) in /home/thebarisal/public_html/wp-includes/functions.php on line 5481