বরিশাল ৩১শে আগস্ট, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ | ১৬ই ভাদ্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ৮ই রবিউল আউয়াল, ১৪৪৭ হিজরি
বরগুনার বেতাগী উপজেলার বিবিচিনি এলাকার একটি বেসরকারি স্কুলের সীমানাপ্রাচীর ও ভেতরের আরসিসি সড়ক নির্মাণের জন্য দরপত্র সম্পন্ন হওয়ার আগেই কাজ শুরু করে দিয়েছেন এক ঠিকাদার। ১৫ দিন ধরে চলছে এই কাজ। কাজটি করছেন জাকির হোসেন নামে বেতাগীর স্থানীয় এক ঠিকাদার।
বেতাগী উপজেলা প্রকৌশল বিভাগ বলছে, ওই কাজের দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে।
দরপত্র ফরম জমাদানের শেষ তারিখ নির্ধারিত আছে ২৭ জানুয়ারি।
স্থানীয় ঠিকাদাররা বলছেন, আহ্বানকৃত দরপত্র সম্পন্ন হওয়ার আগেই কিভাবে একজন ঠিকাদার কাজ শুরু করে দিয়েছেন তা আমাদের বোধগম্য নয়।
উপজেলা প্রকৌশলী কার্যালয় সূত্র জানায়, ৯ জানুয়ারি বেতাগী উপজেলা প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) বিবিচিনি ইউনিয়নের ব্রিট দক্ষতা ইনস্টিটিউট এবং বেগম লুৎফুন্নেছা ব্রিট মেমোরিয়াল স্কুলের সীমানাপ্রাচীর ও স্কুলের ভেতরে আরসিসি রাস্তা নির্মাণের জন্য দুটি প্যাকেজে ই-দরপত্র আহ্বান করে।
আহ্বানকৃত দরপত্র বিক্রির শেষ সময় ২৬ জানুয়ারি এবং জমাদানের শেষ সময় বলা হয়েছে ২৭ জানুয়ারি। এই দুটি প্যাকেজে কাজের সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৪৮ লাখ টাকা।
কিন্তু দরপত্রপ্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার আগেই মো. জাকির হোসেন নামের একজন ঠিকাদার শ্রমিক দিয়ে ১৫ দিন ধরে ওই স্কুলের সীমানাপ্রাচীর নির্মাণের কাজ শুরু করেন। দরপত্রে অংশগ্রহণ ছাড়া এভাবে হঠাৎ করে কাজ শুরু করায় হতবাক হয়েছেন সংশ্লিষ্ট ঠিকাদাররা।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে বেশ কয়েকজন ঠিকাদার বলেন, দরপত্র নোটিশ প্রচার করার পর দরপত্রে অংশগ্রহণ ছাড়াই কাজ শুরু করা নজিরবিহীন। প্রায় অর্ধকোটি টাকার কাজ এভাবে করার কোনো নিয়ম নেই।
সরেজমিনে বেগম লুৎফুন্নেছা মেমোরিয়াল ব্রিট স্কুলে গিয়ে দেখা গেছে, স্কুলের সীমানাপ্রাচীর নির্মাণের জন্য কাজ করছেন ঠিকাদারের নিয়োজিত শ্রমিকরা। সীমানাপ্রাচীর নির্মাণের জন্য স্কুলের চারপাশে কলাম ঢালাই দিচ্ছেন শ্রমিকরা। সেখানে ৭-৮ জন শ্রমিক কাজ করছেন। শ্রমিকরা জানান, ঠিকাদার জাকির হোসেন এই কাজ করাচ্ছেন।
প্রতিষ্ঠানটির (ব্রিট সেন্টার) ইনচার্জ মো. মাইনুল ইসলাম বলেন, ‘সরকারিভাবে এই প্রতিষ্ঠানের সীমানাপ্রাচীর নির্মাণের কাজ চলছে। এরপর রাস্তার কাজ শুরু হবে। ১৫ দিন আগে এই কাজ শুরু হয়েছে। এই কাজের টেন্ডার এখনো সম্পন্ন হয়েছে কি না সে বিষয়ে আমি কিছু জানি না। ‘
যোগাযোগ করা হলে ঠিকাদার মো. জাকির হোসেন বলেন, ‘কর্তৃপক্ষ কাজ করতে বলেছে, তাই আমি কাজ শুরু করেছি। আমি নিজেও দরপত্র ক্রয় করেছি। পরবর্তী সময়ে যে কাজ পাবে তার সঙ্গে সমন্বয় করে নেব। ‘
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) বেতাগী উপজেলা প্রকৌশলী মো. রাইসুল ইসলাম বলেন, ‘ওইখানে এখন কে কাজ করে সেটা আমার দেখার বিষয় না। দরপত্র সম্পন্ন হওয়ার পর আমি ঠিকাদারকে কাজ বুঝিয়ে দেব। ‘
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর বরগুনার নির্বাহী প্রকৌশলী এস কে আরিফুল ইসলাম বলেন, ‘এই কাজটি আমার দপ্তরের না। আমি এ বিষয়ে কিছুই জানি না।