বরিশাল ২৭শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৩ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১১ই মহর্রম, ১৪৪৮ হিজরি
৯টি মাইক্রোবাস ও ১টি প্রাইভেট কার যোগে ৮০ জন বরযাত্রী যাবার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। কয়েক মিনিটের মধ্যে গাড়ির বহর রওনা হবে বরযাত্রী কনের বাড়ি যাওয়ার জন্য। মুহুর্তের মধ্যে বিয়ে বাড়িতে আনন্দের বদলে কান্নার রোল। পরিবারর, আত্মীয়স্বজন ও প্রতিবেশীদের কান্নায় আকাশ বাতাস ভাড়ি হয়ে উঠে। যে প্রাইভেট কার যোগে সেনা সদস্য স্বপন দে বর হয়ে নববধুকে বরন করতে যাওয়ার কথা। সেই প্রাইভেট কারে ফিরে আসে স্বপনের নিধর দেহ। এ হৃদয় বিদারক মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটেছে বরিশালের গৌরনদী উপজেলার বার্থী গ্রামে শুক্রবার সন্ধ্যায়। নিজের বিয়ের আলোক সজ্জার ২টি মরিচ বাতিতে বিদ্যুৎ সরবরাহ ঠিক করতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে হয়ে মারা যান যশোর সেনানিবাসে কর্মরত সেনা সদস্য বার্থী গ্রামের মৃত দিপক দে’র পুত্র স্বপন দে। মুহুর্তের মধ্যে বর ও কনে বাড়ি ও আশপাশে মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে শোকেয়া ছায়া নেমে আসে। সরেজমিনে জানা গেছে, শুক্রবার রাতে উপজেলার বার্থী গ্রামের মৃত দিপক দে’র ছেলে সেনা সদস্য স্বপন দে’র (৩২) সঙ্গে একই উপজেলার বিল্বগ্রাম এলাকার সঞ্জয় করের কন্যা কথা করের (২৫) সামাজিক ভাবে বিয়ের দিন ধার্য ছিল। বরকে নেওয়ার জন্য কনের বাড়ি থেকে ৩০ জন মেহমান শুক্রবার বিকালে বরের বাড়িতে আসেন। তাদের আপ্যায়ন করানো হয়। কনের বাড়িতে ৯টি মাইক্রোবাস ও ১টি প্রাইভেট কার যোগে ৮০ জন বরযাত্রী যাবার প্রস্তুতি নিচ্ছিল।নিহতের ছোট ভাই শয়ন দে জানান, ৬টার দিকে আমাদের বাড়িতে আলোক সজ্জার ২টি মরিচ বাতিতে বিদ্যুৎ সরবরাহে বিঘ্ন ঘটে। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে আলোক সজ্জার ২টি মরিচ বাতিতে বিদ্যুৎ সরবরাহ ঠিক করার সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে হয়ে তার ভাই সেনা সদস্য বর স্বপন দে গুরুতর আহত হয়। এ সময় বাড়িতে উপস্থিত মেহমানরা ভাইকে (স্বপন) উদ্ধার করে বরের সাজানো প্রাইভেট কারে করে গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। গৌরনদী মডেল থানার ওসি মোঃ আফজাল হোসেন জানান, বিদ্যুৎস্পৃষ্টে নিহত স্বপন দে’র লাশ হাসপাতাল থেকে উদ্ধার করে রাতেই থানায় আনা হয়েছে। শনিবার সকালে ঢাকা সম্মলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএস) ময়না তদন্তের জন্য প্রেরন করা হয়েছে। ময়না তদন্ত শেষে পরিবারের কাছে লাশ হস্তান্তর করা হবে।