বরিশাল ২৫শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১১ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১০ই মহর্রম, ১৪৪৮ হিজরি
জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে শহিদদের রাষ্ট্রীয় মর্যাদার দাবি জানিয়েছে আন্দোলনে আহত ও শহিদ পরিবারের সদস্যরা। এছাড়া আহতদের দেশে ও বিদেশে পাঠিয়ে চিকিৎসার সুব্যবস্থা, শহিদদের নামে বিভিন্ন স্কুল-কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের হল এবং রাস্তাঘাটের নামকরণ, শহিদ পরিবারকে এককালীন আর্থিক সহায়তা প্রদান, মাসিক ভাতা ও শহিদ পরিবারের সদস্যদের সরকারি চাকরির ব্যবস্থা করে দেওয়ার দাবি জানানো হয়।
আজ (শনিবার) জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে বরিশাল জেলা প্রশাসন আয়োজিত ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে আহত ও শহিদদের পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতে স্মরণসভায় এসব দাবি জানানো হয়।
প্রধান অতিথির বক্তৃতায় বিভাগীয় কমিশনার মোঃ রায়হান কাওছার বলেন, জুলাই- আগস্টে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মধ্যদিয়ে বাংলাদেশের ইতিহাসে নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে। এ গণঅভ্যুত্থানের চেতনাকে ধারণ করে বর্তমান সরকার বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ে তুলবে। আন্দোলনের চেতনা যেনো ভেস্তে না যায় সেদিকে ছাত্রদের দৃষ্টি রাখার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, কোনোভাবে আইন নিজের হাতে তুলে নেয়া যাবে না।
উল্লেখ্য, গত ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে বরিশাল জেলার শহিদের সংখ্যা ৩০ এবং আহতের সংখ্যা ২৬২ জন।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেনের সভাপতিত্বে স্মরণসভায় বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন অতিরিক্ত ডিআইজি মোঃ নাজিমুল হক, সিভিল সার্জন ডা. মারিয়া হাসান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ আলাউল হাসান, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক সহিদুল ইসলাম সাহেদ। এসময় সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাগণ, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ, আহত ও শহিদ পরিবারের সদস্যসহ গণমাধ্যমের প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন।
স্মরণসভায় শহিদদের আত্মার মাগফেরাত ও আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করে দোয়া ও মোনাজাতের আয়োজন করা হয়। এসময় ৩০ জন শহিদ পরিবারের সদস্যদের মাঝে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়।