বরিশাল ৩০শে আগস্ট, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ | ১৫ই ভাদ্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ৭ই রবিউল আউয়াল, ১৪৪৭ হিজরি
জিয়া শাহীন ॥ বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের ইলেক্ট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার বা ইএফটিতে দ্বিতীয় ধাপের বেতন চলতি সপ্তাহের মধ্যে দেওয়ার কথা থাকলেও সেটি নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। শিক্ষক-কর্মচারীদের তথ্য যাচাইয়ের কাজ শেষ করতে না পারায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি বলে জানা গেছে। মাসের ১৪ তারিখেও বেতন না পেয়ে হতাশ হয়ে পড়েছেন কয়েক লাখ শিক্ষক কর্মচারী।
অর্ন্তবর্তী সরকার জানুয়ারীর ১ তারিখে দেশের সকল এমপিওভূক্ত শিক্ষক- কর্মচারীদের বেতন ইফটির মাধ্যমে দেয়ার ঘোষণা দেয়। এতে সারা দেশের ৩লাখ ৮০ হাজার কর্মচারীদের মাঝে আনন্দের রেশ ছড়িয়ে পড়ে। এর কারণও আছে। প্রতিমাসে বেতন পেতে সভাপতির স্বাক্ষর প্রয়োজন ছিল। সভাপতি কোন কারনে নিজ অবস্থনে না থাকলে বিপদে পড়তেন শিক্ষকরা। তারউপর সভাপতি বা প্রধান শিক্ষকের মন জুগিয়ে না চললে বেতন বন্ধ হবার আশংকা থাকত। এ ছাড়াও মাসের ৮-১০ তারিখের আগে বেতন পাওয়া যেত না। কোন কোন মাসে ১৫ তারিখও চলে যেত বেতন হাতে পেতে। এ জটিলতা কাটাতে ইএফটির বেতনের ঘোষনায় স্বস্তি ফিরে আসে। কিন্তু এ স্বস্তি -অস্বস্থিতে রূপ নিতে সময় লাগেনি।
বহু প্রতিক্ষিত ১ জানুয়ারী ইফটিতে বেতন ছাড় হয়। কিন্তু বিধি বাম। এক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ২০ জনের মধ্যে ৫জন কিংবা ১৫ জনের মধ্যে ৬ জনের বেতন আসে। যারা বেতন পেয়েছেন তাদের মুখে হাসি আর যারা বেতন পাননি তারা পরেন চরম অনিশ্চিয়তায়।
জানা গেছে ইএফটিতে বেতনের আগে ইআইএমএস সেলে সকল শিক্ষক কর্মচারীর তথ্য চাওয়া হয়। এমপিও ( মান্থলি পে অর্ডার) এর সাথে ব্যাংক ও এন আইডির তথ্যের মিল আছে কিনা তা যাচাই বাছাই করার জন্য। যাদেরটা সঠিক তাদের চড়ান্তভাবে ওইইঝ ++ দেখানো হয়। আর যাদেরটা ভুল আসে তাদের সংশোধনের সময় দেয়া হয়। সব তথ্য ডিসেম্বরের মধ্যে যাচাই বাছাই হয়।
বরিশালের একটি স্কুলের প্রধান শিক্ষক জানান স্কুৃলের ২২ শিক্ষক কর্মচারীর ওইইঝ ++ আসলেও ইএফটিতে বেতন এসেছে মাত্র ৬ জনের। একই অবস্থা সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের। কোন স্কুলে ৪জন, কোনটিতে ৫জন কিংবা ৬নের বেতন এসেছে। বাকিরা পড়েছেন চরম অনিশ্চয়তায়। কি কারণে বেতন আসছে না, বা কি ভুল হল তার কোন নির্দেশনা এ পর্যন্ত আসেনি। সামাজিক যোগযোগ মাধ্যমে এ নিয়ে নানা ভুল তথ্যে সয়লাব। গতকাল মঙ্গলবার আরও এক লাখ শিক্ষকের বেতন ছাড়ার কথা থাকলেও তা আসেনি।
সুত্র জানায় এন আইডি কার্ডের সাথে মিল না থাকায় অনেক শিক্ষকের বেতন ছাড় নিয়ে অনিশ্চতার সৃষ্টি হয়েছে। মঙ্গলবার (১৪ জানুয়ারি) মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) এডুকেশন ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেম বা ইএমআইএস সেলের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলাপকালে এ তথ্য জানা গেছে।
ইএমআইএস সেলের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নির্বাচন অফিস থেকে শিক্ষকদের ভোটার আইডি কার্ডের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। ভোটার আইডিতে থাকা তথ্য ইএমআইএস সেলে থাকা শিক্ষকদের ডাটার সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হচ্ছে। অনেক শিক্ষকের বড় ধরনের ভুল রয়েছে। আবার অনেকের ছোট ছোট কিছু ভুল আছে। তারা জানান, ছোট ছোট ভুল থাকলেও ইএফটির মাধ্যমে শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন দেওয়ার অনানুষ্ঠানিক নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তবে বড় ভুল থাকলে তারা ইএফটিতে বেতনের মেসেজ পাবেন না। ছোট ভুল থাকা তথ্যগুলো যাচাইয়ের কাজ চলছে।
নাম অপ্রকাশিত রাখার শর্তে ইএমআইএস সেলের এক কর্মকর্তা জানান , বুধবারের মধ্যে সরকারের কাছে তথ্য পাঠানো গেলে আশা করছি আগামী বৃহস্পতিবার (১৬ জানুয়ারি) বিকালের মধ্যে শিক্ষকরা ইএফটিতে বেতন পাওয়ার মেসেজ পাবেন। তবে তালিকা এবং কত টাকা দরকার সে তথ্য বুধবারের মধ্যে পাঠানো না গেলে শিক্ষক-কর্মচারীরা আগামী সপ্তাহে বেতনের মেসেজ পাবেন।
প্রসঙ্গত, বেসরকারি স্কুল-কলেজের ৩ লাখ ৮০ হাজার শিক্ষক-কর্মচারীর মধ্যে ২ লাখ ৮৯ হাজার শিক্ষক-কর্মচারীর তথ্য যাচাই করছে মাউশি। ইতোমধ্যে ১ লাখ ৮৯ হাজার শিক্ষক-কর্মচারী ইএফটিতে বেতন পাননি। অবশিষ্ট শিক্ষকদের তথ্য যাচাইয়ের কাজ চলছে। এটি শেষ হলে দ্বিতীয় ধাপে এক লাখ শিক্ষক-কর্মচারী বেতনের মেসেজ পাবেন। অবশিষ্টরা তৃতীয় ধাপে বেতন পাবেন বলে জানা গেছে।
এ অবস্থায় শিক্ষকরা ক্ষুদ্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করছেন। কোন প্রকার পূর্ব প্রস্তুতি ছাড়া এ ধরনের বড় একটি প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে বলে জানান তারা। নগরীর একটি স্বনামধন্য কলেজের শিক্ষক হতাসার কন্ঠে বলেন, আমি বাকরুদ্ধ। মাসের ১৪ তারিখ চলে গেছে। বেতন নেই। বাজার করার মত পকেটে পয়সা নেই। একটি স্কুলের ৪/৫জন পাবে বাকিরা বেতনের আশায় বসে থাকবে এটি কোন ধরনের নিয়ম।