মোঃ মনিরউদ্দিন খান,ভোলা প্রতিনিধি।
ভোলার বিভিন্ন এলাকায় মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীর ভাঙনে বেশ কিছু এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিশেষ করে তজুমদ্দিন উপজেলায় মেঘনা নদীর বাঁধ ভেঙে লোকালয়ে পানি প্রবেশ করেছে এবং সদর উপজেলার রাজাপুর ও পূর্ব ইলিশা ইউনিয়নে ব্যাপক ভাঙন দেখা দিয়েছে। এতে বহু ঘরবাড়ি,ফসলি জমি ও রাস্তাঘাট নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। মেঘনা নদীর তীরবর্তী স্লুইসগেট সংলগ্ন বাঁধ ভেঙে যাওয়ায় বহু মানুষ দুর্ভোগে পড়েছে। ভোলা সদর উপজেলার রাজাপুর ও পূর্ব ইলিশা ইউনিয়নে ভাঙনে প্রায় ৬ বর্গকিলোমিটার এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে।
কাচিয়া ইউনিয়ন মেঘনা নদীর ভাঙনে মাঝের চরের বিস্তীর্ণ এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং অনেক ঘরবাড়ি ও ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।
তীব্র নদী ভাঙনে শিবপুর ইউনিয়নের বেশ কিছু এলাকা হুমকির মুখে।
অন্যান্য এলাকার মধ্যে
চর কুকরি মুকরি, ঢালচর সহ বেশ কিছু চরাঞ্চলও ভাঙনের শিকার হয়েছে।
নদী ভাঙনের কারণে মানুষ ঘরবাড়ি, ফসলি জমি হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে যাচ্ছে এবং অনেকেই আশ্রয়হীন হয়ে পড়েছে।
উপকূলীয় জেলা ভোলার
প্রমত্তা তেঁতুলিয়া নদীর ভাঙনে ক্রমেই ছোট হয়ে আসছে ভেদুরিয়া ইউনিয়ন। গত এক মাসে ওই ইউনিয়নের চর ভেদুরিয়া ও মধ্য ভেদুরিয়া গ্রামের ৫ নম্বর ওয়ার্ড এবং ৬ নম্বর ওয়ার্ডের অর্ধ শতাধিক ঘরবাড়ি তেঁতুলিয়া নদীর ভাঙনে বিলীন হয়ে গেছে বলে জানান স্থানীয় ক্ষতিগ্রস্তরা। এতে তেঁতুলিয়া নদীর ভাঙনে হুমকির মুখে রয়েছে ভেদুরিয়া লঞ্চঘাট, স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা, ব্যাংকের হাটের টেক্সটাইল কলেজসহ গ্যাস কূপটিও।
গত বুধবার ভোলা সদর উপজেলার ভেদুরিয়া ইউনিয়নের তেঁতুলিয়া নদীর পাড়ে সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, নদীর তীরবর্তী ওই ইউনিয়নের ৫ নম্বর ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বেশ কয়েকটি বাড়িঘর ভাঙনের মুখে রয়েছে। ভাঙনের মুখে পড়ে অনেক পরিবার তাদের ঘর ভেঙে অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে গেছেন। নদীর পাড়ে শুধু ভিটামাটি পড়ে থাকতে দেখা গেছে।
স্থানীয়রা জানান, এই তেঁতুলিয়া নদীর তীরবর্তী ভেদুরিয়া লঞ্চঘাট ও ব্যাংকের হাট থেকে চর চটকিমারা খেয়াঘাট পর্যন্ত প্রায় কয়েক কিলোমিটার এলাকা দীর্ঘদিন ধরে একটু একটু করে তেঁতুলিয়া নদীর ভাঙনে বিলীন হচ্ছে বিস্তীর্ণ জনপদ। তারা জানান, গত এক মাসে অর্ধশতাধিক ঘর নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।অধিকাংশ ঘরবাড়ি নদীর পাড় থেকে সরিয়ে নিয়ে গেছেন। দীর্ঘ প্রায় ১৫ বছরের ও বেশি সময় ধরে তেঁতুলিয়ার ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। তেঁতুলিয়া নদীর সংস্কার না হওয়ায় আস্তে আস্তে বড় হচ্ছে তেঁতুলিয়া নদী। আর দিন দিন ছোট হয়ে আসছে ভেদুরিয়া এলাকা।ইতিমধ্যে এখানকার অসহায় মানুষগুলো হারিয়েছে তাদের বসতভিটাসহ আবাদি জমি। বর্তমানে নদীর তীরবর্তী যে সব পরিবার বসবাস করছে তাদের দিন কাটচ্ছে চরম আতংকের মধ্যে। তেতুলিয়া নদীর ভাঙনের ফলে নদী সংলগ্ন রাস্তা, মসজিদ, বসতবিটা ও ফসলী জমি নদী গর্ভে বিলীনের পথে। অনেক পরিবার নদীগর্ভে বিলীন হয়ে সহায় সম্পত্তি হারিয়ে অসহায়ত্ব জীবন যাপন করছেন।