বরিশাল ২৬শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১২ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১১ই মহর্রম, ১৪৪৮ হিজরি
নগরী দি রিভার ক্যাফে চাইনিজ ও ফাস্টফুড রেষ্টুরেন্টের পিছনের অংশ ভেঙ্গে ফেলাসহ ভূমি থেকে বে-দখল করার হুমকী দেয়ার অভিযোগে বরিশার রেঞ্জের ডিআইজি ও পুলিশ সুপারের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
আজ বরিশাল সহকারি সিনিয়র সহকারি জজ আদালতে প্রতিষ্ঠানের ভাড়াটিয়া মালিক বাপ্পী রঞ্জন রায় মামলাটি দায়ের করেন। আদালতের বিচারক মোঃ কাজী কামরুল ইসলাম মামলাটির আদেশ দানে পরবর্তী দিন ধার্যের নির্দেশ দেন।
মামলা পরিচালনাকারী আইনজীবী আজাদ রহমান জানান, ২০০৮ সালের ২৭ মার্চ ব্যবসায়ি বাপ্পী রঞ্জন রায় ভাড়াটিয়া প্রমিসেস ভাড়া নেয়ায় আগ্রহী হয়ে বরিশাল পুলিশ সুপারের সাথে ভাড়াটিয়া চুক্তি সম্পন্ন করেন।
যার মেয়াদ ২০০৮ সালের ১ এপ্রিল থেকে ২০১৩ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত বলবৎ রাখা হয়। চুক্তি সম্পন্নের আগে ওই ভাড়াটিয়া প্রমিসেস উপর গণপূর্ত বিভাগের সহায়তায় একটি সেমিপাকা ক্যাফেটরিয়া নির্মাণ করা হয়। পরে বাপ্পী তার নিজ খরচে ডেকোরেশন, ফিনিসিং সম্পন্ন করেন।
পরবর্তী সময়ে ক্যাফেটরিয়াটি আর্কষণীয় ও মানসম্পন্ন করতে আভ্যন্তরীন ফ্লোর টাইলস সংযোজনসহ পিছনের অংশে সংস্কারের প্রয়োজন দেখা দিলে বাপ্পী আগের অগ্রীম ১১ লাখ ৫৫ হাজার ৮৩৯ টাকার বাহিরে অতিরিক্ত ৪ লাখ ৮০ হাজার টাকা পুলিশ সুপারের অনুমতিতে ব্যয় করেন। ওই টাকা ব্যয় করার প্রেক্ষিতে চুক্তির মেয়াদ ২০১৩ সালের ৩১ মার্চের পরিবর্তে ২০১৮ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত বর্ধিত করা হয়।
এছাড়া পুলিশ সুপারের সাথে বাপ্পীর সুসম্পর্ক থাকায় ২০১৩ সালের ৩ অক্টোবর অতিরিক্ত ভাড়াটিয়া চুক্তিপত্রের মাধ্যমে চুক্তির মেয়াদ ২০২৮ সালের ৪ অক্টোবর পর্যন্ত বাড়িয়ে দেয়া হয়। বর্তমানে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সাথে কর্মকর্তা কর্মচারীসহ প্রায় ১০০ জনের জীবন জীবিকা জড়িত রয়েছে।
কিন্তু ২০১৫ সালের ১৭ আগষ্ট বরিশাল রেঞ্জের ডিআইজি’র এক স্মারকাদেশের অনুকুলে বাংলাদেশ পুলিশ হেড কোয়াটার্সের ২০১৬ সালের ১২ জানুয়ারির অপর এক স্মারকাদেশে বাপ্পীর সাথে বরিশাল পুলিশ সুপারের চুক্তিপত্র বাতিল করেন।
যা ওই বছর ২ ফেব্রুয়ারী পুলিশ সুপার এক স্মারকাদেশের মাধ্যমে বাপ্পীকে চুক্তিপত্র বাতিলের চিঠি প্রেরণ করেন। একই বছর বাপ্পী ওই স্মারকাদেশ চ্যালেঞ্জ করে উচ্চাদালতে রীট পিটিশন দায়ের করেন।
উচ্চাদালত চুক্তিপত্র বাতিলের আদেশ স্থগিত রাখার নির্দেশ দেন। যা বর্তমানে বলবৎ থাকাকালিন অবস্থায় গত বছর ৩ নভেম্বর পুলিশ সুপারের পক্ষে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রসাশন) বাপ্পীকে ক্যাফেটরিয়ার পিছনের অংশ জরুরী ভিত্তিতে অপসারণের জন্য পত্র প্রেরণ করেন।
একই সাথে ক্যাফেটরিয়ার পানির লাইন বন্ধ ও ভাড়াটিয়া প্রমিসেসের পিছনের অংশ ভেঙ্গে অপসারণের পায়তারায় লিপ্ত হন। সর্বশেষে চলতি বছরের ২ জানুয়ারি প্রতিষ্ঠানের পিছনের অংশ ভেঙ্গে ফেলাসহ ভূমি থেকে বে-দখল করার হুমকী দেয়ায় গতকাল মামলাটি দায়ের করলে বিচারক ওই নির্দেশ দেন।