বরিশাল ৩রা আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৯শে শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ২০শে সফর, ১৪৪৮ হিজরি
এলিমিনেটর ম্যাচে চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সের কাছে ৭ উইকেটে হেরে বঙ্গবন্ধু বিপিএল থেকে বিদায় নিয়েছে ঢাকা প্লাটুন। গতকাল ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে আসলেন ঢাকার অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা। ম্যাচ নিয়ে দুটি প্রশ্নের পরই সংবাদ সম্মেলনের রূপ বদলে যায়।
যেখানে সাংবাদিকদের একের পর এক প্রশ্ন ছুঁটে যায় মাশরাফির দিকে এবং সবগুলোই তার ক্যারিয়ার, অবসর, ওয়ানডে দলের নেতৃত্ব, বিসিবির কেন্দ্রীয় চুক্তি থেকে সরে দাঁড়ানো, ১৪ সেলাই নিয়ে ম্যাচ খেলা সম্পর্কে। ঝাঁঝালো উত্তরও এসেছে মাশরাফির দিক থেকে।
বাঁ হাতে সেলাই নিয়েও গতকাল ২ বল ব্যাটিং করেছেন, ৪ ওভার বোলিং করেছেন, এক হাতে গেইলের একটি ক্যাচও নিয়েছেন মাশরাফি। ঝুঁকি ম্যাচ খেলার পর বলেছেন, ‘জীবনের থেকে ক্রিকেট অবশ্যই বেশি না। ক্রিকেট জীবনের সবচেয়ে বড়ো একটি অংশ।’
তবে স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছেন, বিসিবি চাইলে ছেড়ে দিবেন ওয়ানডে দলের নেতৃত্ব। ২০০৯ সালের পর থেকে টেস্ট খেলেন না। ২০১৭ সালে টি-২০ থেকে অবসর নেন। ২০১৪ সালের শেষ দিকে বিপর্যস্ত ওয়ানডে দলের দায়িত্ব নিয়েছিলেন। এই ফরম্যাটে দেশকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে তার নেতৃত্ব। গতকাল সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্ন হয়েছে, সেই ওয়ানডে দলের নেতৃত্ব কবে ছাড়বেন?
মাশরাফির জবাব ছিল এমন, ‘অধিনায়কত্ব যদি বিসিবি থেকে এখনই বলে ছেড়ে দিতে, ছেড়ে দিব কোনো সমস্যা নেই।’ এখনো ওয়ানডে অধিনায়ক তিনি। সেক্ষেত্রে দল নির্বাচনের সময় অধিনায়ক হিসেবে তার জায়গা পাকাই বলা চলে। মাশরাফি বলছেন, নির্বাচকরা টানলেই দলে থাকবেন তিনি।
বাংলাদেশের ক্রিকেটে সবচেয়ে সফল অধিনায়ক মাশরাফি। দেশব্যাপী এক প্রেরণাদায়ী চরিত্রও তিনি। কিন্তু সায়াহ্নে এসে অবসর, খেলা চালিয়ে যাওয়া নিয়ে প্রশ্নবানে জর্জরিত তিনি। জীবনে এমন অধ্যায়ের কল্পনা নড়াইল এক্সপ্রেসের মনে আগেই ছিল।
গতকাল বলেছেন, ‘এটি তো সবার ক্ষেত্রেই হবে, আজকে যারা সুপারস্টার, আজ থেকে পাঁচ বছর পর তাদেরকেও এই পরিস্থিতিতে আসতে হবে। এটাই তো জীবন। এখন কথা হচ্ছে যে কেউ হয়তো খুব ভালো অবস্থায় চলে যেতে চায়, চলে যায় আবার কেউ আছে যে খেলাটিকে উপভোগ করছি, খেলতে থাকি। আর আমি যেটা আশা করেছিলাম সেটাই হচ্ছে।’
বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন রবিবার বোর্ড সভার পর বলেছিলেন, মাশরাফিকে ঘটা করে বিদায় জানাতে চায় বিসিবি। অবশ্য তিনি এসব না চাইলে করবে না বিসিবি। গতকাল ওয়ানডে অধিনায়ক আবার জানালেন, মাঠ থেকে বিদায় নিতে হবে এমন তাড়া নেই তার মনে।
মাঠে থেকে বিদায় নেওয়া প্রসঙ্গে মাশরাফি বলেছেন, ‘আমার মনে হয় অতটুকু স্বাধীনতা আমার আছে যে আমি খেলতে চাই। কারো জোর করার জন্য তো আমি অবসর নিব না বা তেমন কিছু। বাংলাদেশের অনেক ক্রিকেটার আছে যারা মাঠ থেকে অবসর নেয়নি। আমি তো মনে করি আমার চেয়ে অনেক বড়ো ক্রিকেটার ছিল, যেমন হাবিবুল বাশার সুমন, সে তো বাংলাদেশের ক্রাইসিস মোমেন্টে সবসময় রান করেছে। মাঠ থেকে তো আর সে অবসর নেয়নি। আসলে একটা সময় আমিও ভাবতাম যে মাঠ থেকে অবসর নিব কী নিব না, দেখা যাক সময়ে বলে দিবে। তবে এখন মনে হয় যে এর প্রয়োজন নেই।’