বরিশাল ২৫শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১১ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১০ই মহর্রম, ১৪৪৮ হিজরি
কলাপাড়া (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি।।পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় ভিজিডি চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। দু:স্থ মহিলা পরিবার
প্রতি ৩০ কেজি করে চাল দেয়ার কথা থাকলেও সেখানে দেয় হচ্ছে ২৫ কেজি করে।
শুক্রবার সকাল দশটায় কলাপাড়া পৌর শহরে অবস্থিত চাকামইয়া ইউনিয়ন পরিষদের অফিসে চাল বিতরণের অনিয়মের বিষয়টি জানার পর ট্যাগ অফিসারের মাধ্যমে ভিজিডি চাল বিতরণ বন্ধ রাখে উপজেলা প্রশাসন। উত্তর চাকামইয়া গ্রামের আ: মান্নান, শহিদুল ও ফজলু কাজীসহ একাধিক ভুক্তভোগী বলেন, এ ইউনিয়নের ৩২৮ জন ভিজিডি কার্ডধারীদের সরকার কর্তৃক নির্ধারিত জনপ্রতি ৩০ কেজি চালের বস্তা দেয়ার কথা থাকলেও বালতি দিয়ে মাপ ছাড়া চাল দেয়া হয়েছে। এক্ষেত্রে জনপ্রতি ২০-২৫ কেজি করে চাল পেয়েছে। অনেকে আবার এর চেয়ে কম চালও পেয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। বেতমোড় গ্রামের মোসাম্মৎ রানী বেগম জানান, ইউনিয়ন পরিষদে বসে চাল না দিয়ে কলাপাড়া শহরের রূপালী ব্যাংকের নীচতলায় একটি কক্ষে চাল বিতরণ শুরু করে জনৈক আব্দুল বারেক। তিনি ৫০ কেজির এক বস্তা চাল দুইজনকে নিতে বাধ্য করেন। চাকামইয়া থেকে এ দরিদ্র মহিলার কলাপাড়ায় আসতে পরিবহন বাবদ এক শ’ টাকা খরচ হয়েছে। উত্তর চাকামইয়ার সুমা আক্তার, শারমিন আক্তার, মোসাম্মৎ রুকি, মোসাম্মৎ রেখার অভিযোগের ধরন একই। এরা আবার চাল
পায়নি। অনেক দরিদ্র নারীরা জানান, ভিজিডির নাম অন্তর্ভূক্ত করতে তিন হাজার করে টাকা দিতে হয়েছে। চাল পরিমাণে কম দেয়ার জন্যই ট্যাগ অফিসারের অনুপস্থিতে বন্ধের দিনটি বেছে নেয়া হয়েছে। তবে চাল কম দেয়ার বিষয়টি সত্য নয় বলে দাবী করে চাকামইয়া ইউপি চেয়ারম্যান কেরামত হাওলাদার সাংবাদিকদের জানান, ১৯১ বস্তায় ৯৮৪০ কেজি চাল সরকারী গোডাউন হতে ছাড়িয়েছি।
চাল বিতরণের দায়িত্বরত ট্যাগ অফিসার উপজেলা শিক্ষা অফিসার রফিকুল ইসলাম জানান, চাল বিতরণের বিষয়ে আমি কিছুই জানিনা। যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ দিবো। উপজেলা ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী কর্মকর্তা সহকারী কমিশনর(ভুমি) অনুপ দাস জানান, চাল বিতরণের অনিয়মের বিষয়টি জানার পর চাল বিতরণ বন্ধ রেখেছি। তদন্ত করে এ বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়া হবে।